আল-আকসার বিড়াল ও পাখিগুলোকে কষ্ট দিয়ে নিঃশব্দ যাত্রা (মানবতার গল্প)

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

জেরুসালেমের বাসিন্দারা এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। মসজিদ আল-আকসার ‘আবু হুরাইরা’ (বিড়াল দলের বাবা) হিসেবে পরিচিত ৭১ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ গত মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা ও মমতা দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে সুনামও কুড়িয়েছিলেন তিনি।

গাসসান ইউনুস আবু আইমান প্রায় তিন দশক আল-আকসা মসজিদের আঙিনায় জমা হওয়া বিড়াল ও পাখিদের খাইয়ে আসছিলেন। এর জন্য প্রতিদিন হাইফা জেলার আরা গ্রামের নিজের বাড়ি থেকে এক শ’ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে জেরুসালেমের আল-আকসায় আসতেন তিনি। কখনো তিনি নিজে যেতে না পারলে, নিজের বন্ধু ও স্বজনদের পাঠাতেন আল-আকসার আঙিনায় বিড়াল ও পাখিদের খাওয়াতে। তার ইন্তেকালে পাখি ও বিড়ালগুলো অনাথ হয়ে পড়েছে।

আল-আকসা মসজিদের বিড়ালদের খাবার দেয়া ও যত্ন নেয়ার কারণে তিনি জেরুসালেমের বাসিন্দাদের কাছে আল-আকসার ‘আবু হুরাইরা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

গাসসান ২০১৬ সালে আল-জাজিরার কাছে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমার চলার সময় সবদিক থেকেই সব বিড়ালকে আমার কাছে আসতে দেখি। তারা আমার সাথেই চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি কুব্বাতুস সাখারার (ডোম অব রক) আঙিনায় পৌঁছাই।’

অপর এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এই দায়িত্বের সম্মান দিয়েছেন…বিড়ালগুলো আমাকে ভালোই চেনে এবং আমি তাদের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ।’

জেরুসালেমের বাসিন্দা ও অন্য ফিলিস্তিনিরা গাসসানের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শোক প্রকাশ করেন ও গাসসানের সাথে তাদের স্মৃতি তুলে ধরেন।

মারওয়া হাসিন নামে একজন তার টুইট বার্তায় লিখেন, ‘কিয়ামতের দিন আল-আকসার পাখি ও বিড়াল এমনকি মানুষও সাক্ষ্য দেবে আপনি কী করেছিলেন।’ আলিয়া তিমা নামে অপর একজন টুইটারে গাসসানের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে শিশুদের গণনা শেখানোর এক ভিডিও প্রকাশ করেন।

রিদওয়ান ওমর নামে জেরুসালেমের বাসিন্দা অপর এক ফিলিস্তিনি গাসসানের বিভিন্ন ছবি সংযুক্ত করে একটি শোকবার্তা পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, ‘আজকে সবাই আপনার জন্য কাঁদছে। শিশু, পাখি, পাথর, (আল-আকসার) আঙিনা, সবাই। যারাই আপনাকে চিনতো, আপনাকে ভালোবাসতো।’

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) অন্যতম একজন সাহাবি বা সঙ্গী ছিলেন আবু হুরায়রা। বিড়াল ভালোবাসতেন তিনি। এ জন্য মজা করে তাকে এ নামে ডেকে ছিলেন ইসলামের নবী। পরে সেই নামেই বিখ্যাত হয়ে যান তিনি। ফিলিস্তিনের ইউনেসও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন আবু হুরায়রা থেকে।

মন্তব্য করুন