জনগণের কাছে সরকারের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই: রিজভী

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আতঙ্ক ও ভীতির সুযোগে ত্রাণ বিতরণের নামে সারাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাট, ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগিতায় কোভিড-টেস্টের ভুয়া সনদপত্র কেলেঙ্কারি, করোনা চিকিৎসার নামে ভুয়া হাসপাতাল চালু, মাস্ক, পিপিই সরঞ্জাম, স্যানিটাইজার খরিদ-টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির মহোৎসব- এতসব অপকর্ম করে জনগণের কাছে এই সরকারের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, এরপর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারত থেকে টিকা আমদানি ও ক্রয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম এক উপদেষ্টার মালিকানাধীন বেক্সিমকোর অতিমাত্রায় তৎপরতা, চুক্তি, বেক্সিমকোর তৎপরতার সঙ্গে সরকারের রহস্যজনক আর্থিক লেনদেনের যোগসাজশ- সবমিলিয়ে টিকা সম্পর্কেও জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স তার প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ভারত করোনাভাইরাস ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে’ অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ভারত যদি দেখে এটা নিরাপদ তখন তারা ভারতের জনগণকে এই ভ্যাকসিন দেবে।

উল্লেখ্য যে, ভারত নিজেরা এর পরীক্ষা শুরু করবে আগামী মার্চ থেকে। ওই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ায় বহু বিশেষজ্ঞ বিস্মিত। সুতরাং আমরা কী বিপজ্জনক গিনিপিগে পরিণত হয়েছি ভারতের টিকা পরীক্ষার।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের সৌজন্যে বাংলাদেশে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। এ নিয়েও জনমনে রয়েছে গভীর সন্দেহ-সংশয়। ভারতে টিকাগ্রহণের পর চারদিনে মারা গেছে তিনজন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ছয়শ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত কোভ্যাক্সিন টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকদের বড় অংশ। তারা বলেছেন, ‘কোভ্যাক্সিন নিয়ে আমরা সন্দিহান ও সংশয়ী।’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এনিয়ে ঘোরতর রহস্য তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন