সাড়ে সাত লাখ টাকায় বিক্রি হলো আল্লামা গহরপুরী রহ. এর চার কপি স্মারকগ্রন্থ

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৯ বছরের সভাপতি, বরেণ্য আলেম, শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.)-এর ওপর একটি প্রামাণ্য স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল ২১ জানুয়ারি সিলেটের জামিয়া গহরপুর মাদরাসার বার্ষিক সভায় স্মারকটির মোড়ক ও পাঠউম্মোচন করা হয়। এর আগে ঢাকায় গত ১৩ জানুয়ারী স্মারকগ্রন্থটির প্রকাশনা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়।

আল্লামা গহরপুরী রহ. এর ইন্তেকালের প্রায় ১৫ বছর পর তার ওপর প্রকাশিত হলো একটি সমৃদ্ধ ও প্রামাণ্য স্মারক গ্রন্থ। সেখানে উঠে এসেছে তার জীবন-কর্ম ও সাধনার নানা দিক।

প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আল্লামা গহরপুরী (রহ.) ফাউন্ডেশন। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের কোন আলেমের এমন সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। গহরপুরী রহ. স্মারকগ্রন্থে ২৪১ জনের লেখা স্থান পেয়েছে। গত ১০/১২ বছরে চলে যাওয়া শীর্ষ আলেমদের প্রায় সবার লেখাই স্মারকে স্থান পেয়েছে।

গহরপুরী রহ. যোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা মুসলেহউদ্দীন রাজুর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত সমৃদ্ধ এ স্মারক গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন লব্ধপ্রতিষ্ঠ লেখক ও সম্পাদক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন জহির উদ্দিন বাবর। আরও কাজ করেছেন মাওলানা আবদুল্লাহ মোকাররম, আলী হাসান তৈয়ব ও রোকন রাইয়ান।

এর মধ্যে গতকাল (২১ জানুয়ারি) জামিয়া গহরপুর মাদরাসার বার্ষিক সভায় স্মারকটির মোড়ক উম্মোচন পরবর্তি সময়ে স্মারকটির কয়েকটি কপি নিলামে তোলা হলে চার কপি বিক্রি হয় সাড়ে সাত লাখ টাকায়।

মোড়ক উন্মোচনের পর স্মারকগ্রন্থের প্রথম কপি গহরপুরের পার্শ্ববর্তী শাহ সুলতান রহ. মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রেজওয়ানুল হক রাজু দুই লাখ টাকায় কিনেন।

এর মধ্যেই মঞ্চে আসেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নিলামের বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এক কপির দাম হাঁকেন তিন লাখ টাকা। ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধও করে দেন।

তৃতীয় কপিটি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বেলাল দেড় লাখ টাকায় কিনেন।

আর চতুর্থ কপিটি আল্লামা গহরপুরী রহ. -এর দৌহিত্র ফ্রান্স প্রবাসী মাওলানা সাহেদ আহমদ নাফে এক লাখ টাকায় কিনে নেন।

এছাড়াও ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় স্মারকগ্রন্থ কিনেছেন আরও বেশ কয়েকজন।

বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানিয়েছেন ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি ও গহরপুরী রহ. এর স্মারকগ্রন্থের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা জহির উদ্দিন বাবার।

তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন – শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ. স্মারকগ্রন্থটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ উন্মোচন হয়েছে জামিয়া গহরপুরের ৬৪তম মাহফিলে। বিশিষ্টজনদের হাতের মোবারক স্পর্শ পাওয়া চারটি স্মারকগ্রন্থ নিলামে তোলা হয়। প্রথম কপিটি একজন দুই লাখ টাকায় কিনে নেন। এর মধ্যেই মঞ্চে আসেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নিলামের বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এক কপির দাম হাঁকেন তিন লাখ টাকা। ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধও করে দেন।

গহরপুরী রহ. স্মারকগ্রন্থে ২৪১ জনের লেখা স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে হৃদয় স্পর্শ করার মতো লেখা মনে হয়েছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। তিনি যখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তখন মারাত্মক রোড এক্সিডেন্টের শিকার হন। চিকিৎসকরা তাঁর বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু গহরপুরী রহ. তখন তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি আরও বড় জায়গায় যাবা’। সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে এক সময় কোণঠাসা হয়ে পড়া আরিফুল হক চৌধুরী পরবর্তী সময়ে সত্যিই আরও বড় জায়গায় গেলেন। দলে বড় পদ পেলেন। পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হলেন। গতকালও মাহফিলে তিনি গহরপুরী রহ. সম্পর্কে হৃদয়ছোঁয়া অভিব্যক্তি ও স্মৃতির জানালা খুলে দিয়েছিলেন। স্মারকগ্রন্থে তা আরও হৃদয়গ্রাহীভাবে এসেছে।

গতকালের মাহফিলে স্মারকগ্রন্থের বরকতময় চারটি কপি বিক্রি হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকায়। মোড়ক উন্মোচনের পর স্মারকগ্রন্থের প্রথম কপি গহরপুরের পার্শ্ববর্তী শাহ সুলতান রহ. মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রেজওয়ানুল হক রাজু দুই লাখ টাকায় কিনেন। দ্বিতীয় কপিটি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বেলাল দেড় লাখ টাকায় কিনেন। আর তৃতীয় কপিটি আল্লামা গহরপুরী রহ. -এর দৌহিত্র ফ্রান্স প্রবাসী মাওলানা সাহেদ আহমদ নাফে এক লাখ টাকায় কিনে নেন। এছাড়াও ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় স্মারকগ্রন্থ কিনেছেন আরও বেশ কয়েকজন। সত্যিই ঘটনাগুলো বিরল।

একজন বুজুর্গের প্রতি মানুষের কী পরিমাণ ভালোবাসা, কতটা আবেগ ও দরদ থাকতে পারে সেটার কিছুটা টের পাওয়া গেছে গতকাল। স্মারকগ্রন্থটির প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে আছে সেই আবেগ ও ভালোবাসার গল্প।

প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটির গায়ের মূল্য ১০০০ টাকা। বইটি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সব ইসলামি বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে। এছাড়াও অনলাইনে রকমারি ডটকমেও পাওয়া যাবে এটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্মারকগ্রন্থটির কাজ সম্পন্ন হয় সাত/আট বছর আগে। নানা কারণে এটি প্রকাশিত হতে বিলম্ব হয়। বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত প্রায় আটশ পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থটিতে ২৪১ জনের লেখা স্থান পেয়েছে। এছাড়া আল্লামা গহরপুরী রহ.-এর একটি জীবনী এবং চার রঙের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্মারকে যুক্ত হয়েছে।

জানা গেছে, স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় এতে লিখেছেন এমন প্রায় ৭০ জন ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। গত ১০/১২ বছরে চলে যাওয়া শীর্ষ আলেমদের প্রায় সবার লেখাই স্মারকে স্থান পেয়েছে। মন্ত্রী-এমপি, মেয়রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের লেখায় স্মারকগ্রন্থটি সমৃদ্ধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষ বুজুর্গ আলেমদের অন্যতম ছিলেন আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.)। শায়খুল আরব ওয়াল আজম সাইয়্যেদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর ঘনিষ্ঠ এই শাগরেদ সিলেটের জামিয়া গহরপুরসহ অসংখ্য মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

সর্বজনমান্য বুজুর্গ এই আলেম ১৯৯৬ সালে সর্বসম্মতিক্রমে বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি বেফাকের সভাপতি ছিলেন। তার আমলে বেফাক অনেক বিস্তৃত হয় এবং উন্নতি লাভ করে।

মন্তব্য করুন