প্রাণী আর পাখিদের প্রতি তুর্কিদের মমতা

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

ইসলামের প্রাথমিক যুগে শীতের মৌসুমে তুরস্কের পাহাড়ের চূড়াগুলো তুষারে ঢেকে যাওয়ায় পাখিদের খাদ্যের অভাব দেখা দিত। তখন খাবারের অভাবে হাজার হাজার পাখি মারা যেত। এখন অবশ্য সেই অবস্থা নেই। শুভ্র তুষারের চাদর যখন সবকিছুকে ঢেকে ফেলে, তখন তুরস্কবাসী পাহাড়ে গিয়ে পাখিদের জন্য শস্যদানা ছিটিয়ে দেয়। এটি একটি অতিপ্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্য, যা এখনও তুরস্কে প্রচলিত।

এই অসাধারণ প্রথাটি সবার প্রথম চালু করেছিলেন উমাইয়া বংশীয় মুসলিম খলিফা উমার ইবনে আবদুল আজিজ রহ.। অনেক ঐতিহাসিক বইয়ে বর্ণিত আছে, খলিফা উমার ইবনে আবদুল আজিজ বলেছিলেন, ‘পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে পাখিদের জন্য খাদ্য ছিটিয়ে দাও। মুসলিম শাসনের অধীনে একটি পাখিও যেন না খেয়ে মারা না যায়।’

আল্লাহতায়ালার অপরূপ সৃষ্টিকৌশলের এক মহা নিদর্শন অনিন্দ্যসুন্দর ও পরম আকর্ষণীয় পক্ষীকুল। আকাশে ডানা মেলে পাখিরা উড়ে বেড়ায় এবং নিজস্ব ভাষা ও পদ্ধতিতে সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। ক্ষীকুল মানবজাতির উপকারী, পরিবেশবান্ধব এবং পৃথিবীর সৌন্দর্যের প্রতীক। পাখিরা প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষা করে।

তুর্কিরা বিষয়টি মন থেকে ধারণ করে শীতকালে পাখিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হয়। আমাদের শীতকালে আশ্রয় নেওয়া অতিথি পাখিদের নির্বিচারে শিকারের উৎসব চলে। অথচ তারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমাদের জলাশয়গুলো আশ্রয় নিয়ে থাকে। এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক।

আমাদের দেশে আগত অতিথি পাখিদের প্রতি অবিবেচক ও অশোভন আচরণ করলে এবং শিকার বা বধ করলে এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। পাখিদের প্রতি সদয় হয়ে তাদের ফরিয়াদ থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় অতিথি পাখিদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানসহ আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি সদয় ব্যবহার এবং দয়া প্রদর্শন করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব ও অবশ্যকর্তব্য।

মন্তব্য করুন