বুয়েটের সেই আবরারের নামে কুষ্টিয়ায় নির্মিত হচ্ছে মসজিদ-মাদরাসা

প্রকাশিত: ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে ছাত্রলীগ কর্তৃক নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার আবরার ফাহাদের নামে কুষ্টিয়ায় তাদের নিজ গ্রামে নির্মিত হচ্ছে একটি মসজিদ।

‘শহীদ আবরার ফাহাদ জামে মসজিদ ও মাদরাসা’ নামে নির্মিত হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি।

আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ তার ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : আবরার ফাহাদ ; বিস্তারিত ঘটনাবলী

জানা গেছে ২০১৯ সালেই মসজিদ মাদরাসা নির্মানের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয় যা বর্তমানে দৃশ্যমান হচ্ছে এবং মসজিদের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ এ বিষয়ে বলেছেন – ‘ভাইয়ার নামে আমাদের গ্রামে কুষ্টিয়ার কুমারখালির অন্তর্গত রায়ডাঙ্গাতে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়ার পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য কুরআন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা রয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসাটি পাকা করা এবং সম্প্রসারণ করার।’

তিনি মসজিদের কাজ সম্প্রসারণ করতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে জানিয়েছেন – ‘সেক্ষেত্রে হয়তো সকলের এই কাজে অংশগ্রহণ করে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন সকল ব্যবস্থা সহজ করে দেন। মসজিদটিকে কবুল করে নেন। আর আমার ভাইয়ার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন ওকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।’

অপরদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আরও দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

প্রসঙ্গত : ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে দেশের সর্বপ্রাচীণ একটি ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছনে যাওয়া ও সন্ত্রাসীপনায় লীপ্ত থাকা কর্মীরা। দেড় বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড। সহপাঠী শিক্ষার্থীদের হাতে জীবন দিতে হয়েছিল বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বিকে।

  • বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল উগ্র ও সন্ত্রাসী নেতাকর্মী আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নারকীয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সেই হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশ। জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধমে উঠে আসে এ হত্যাকান্ড নিয়ে প্রচুর বিশ্লেষণ ও সংবাদ। দেশব্যপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্র রাজনীতিও

আবরার হত্যাকাণ্ড: উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ, ব্রিটেন ও জার্মান

আবরার হত্যাকাণ্ডে আমি হতবাক ও মর্মাহত: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে আবরার ফাহাদ ১৩ ই মে, ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। তার পিতার নাম মোঃ বরকত উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি নটরডেম কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ৩১ মার্চ, ২০১৮ এ, তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।

তার বাবা বরকতউল্লাহ ব্র্যাকে অডিটর এবং মা রোকেয়া খাতুন কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক ছিলেন। আবরার দুই ভাইয়ের বড় ছিল, তার ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এইচএসসি ছাত্র। ফায়াজ শের-ই-বাংলা হলের নিকটবর্তী ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসে থাকতেন।

নির্মম সেই হত্যাকান্ডের বিবরন :

তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে নিহত হয়েছেন। তিনি একই হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। হত্যাকান্ডের ১০ দিন আগে আবরার ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন এবং ২০ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলেন। পরীক্ষা কাছাকাছি চলে আসায় তিনি পড়াশোনা করতে হলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী৪ অক্টোবর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে আবরারকে মারার নির্দেশনা দেন। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা তাকে বাড়ি থেকে ফেরার অপেক্ষা করতে বলেন। ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে তার দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। বুয়েট ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর মোবাইল ফোন দুইটি চেক করেন। একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মুনতাসির আল জেমি ল্যাপটপটি চেক করেন। এসময় মেহেদী হাসান রবিন চড় মারতে থাকেন আবরারকে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সামসুল আরেফিন রাফাত স্টাম্প এনে দিলে তা দিয়ে ইফতি মোশাররফ সকাল চার-পাঁচটি আঘাত করলে স্টাম্পটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অনিক সরকার, আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে স্টাম্প দিয়ে মারতে থাকেন। এরপর ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন আবরারকে চড় এবং স্টাম্প দিয়ে হাঁটুতে আঘাত করেন। এসময় মেহেদী হাসান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিন মেহেদি হাসান রাসেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।

  • রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারধরের ফলে অসুস্থ আবরার মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। ইফতি মোশাররফ সকাল ধমক দিয়ে তাকে দাড় করিয়ে চড় দেন। পরে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদুর রহমান স্কিপিং রোপ দিয়ে আবরারকে মারতে থাকেন। এরপর ইফতি মোশাররফ সকাল স্টাম্প দিয়ে আবরারের হাঁটু ও পায়ে মারেন। খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর চড়-থাপ্পড় মারেন আবরারকে। রাত ১১টার দিকে অনিক সরকার গায়ের সব শক্তি প্রয়োগ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টাম্প দিয়ে আবরারকে আঘাত করেন। এরপর ১২ টার দিকে সবাই কক্ষটি থেকে বের হয়ে যান।

গুগল ম্যাপে বুয়েটের হলের নাম শহীদ আবরার হল, খুনীদের নামে টয়লেট

আবরার হত্যা: হত্যাকারীরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো

আবরার হত্যায় সাম্রাজ্যবাদের অশুভ হাত থাকতে পারে: গাজী আতাউর রহমান

আবরারের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ইফতি মোশাররফ সকাল তার মাথার নিচে দুইটি বালিশ দেন। বেশ কয়েকবার বমি করে আবরার। আবরারকে এরপর ২০০৫ নাম্বার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা সবকিছু জানার চেষ্টা করেন, তাকে মেরে আরও তথ্য বের করার কথা বলেন।

তিনি আবরারের অবস্থা খারাপ জেনে তাকে হল থেকে বের করতে বলেন। মেহেদী হাসান ও অনিক সরকার ২০০৫ নম্বর কক্ষে ঢুকে দেখে তার অবস্থা ঠিক আছে বলে চলে যান। এরপর আবরার আবার বমি করেন। মেহেদী হাসান তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করার কথা বলছিলেন। ১৭ ব্যাচের ছেলেরা তখন তাকে তোশকসহ নিচতলায় নামিয়ে রাখেন। সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল তখন পুলিশের সাথে কথা বলছিলেন। মুনতাসির আল জেমি আবরারের অবস্থা খারাপ জানালে ইফতি মোশাররফ সকাল মালিশ করতে বলেন। ইসমাইল ও মনির অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দিলে তা আসতে দেরি হওয়ায় তামিম বুয়েট মেডিকেলের চিকিৎসককে নিয়ে আসেন।

বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলায় সোমবার ভোর তিনটায় পুলিশ আবরারের লাশ উদ্ধার করে। মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ মাশুক এলাহী রাত ৩ টার দিকে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। আবাসিক হলের দ্বিতীয় তলায় ইনস্টল করা একটি ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে যে কয়েকজন লোক তার হাত ও পায়ে করিডরে নিচে টেনে নিচ্ছেন।

ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরাতে দেখা যায় রাত ৩টা বেজে ২৬ মিনিটে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান লাশ এর সামনে দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের সাথে আলোচনা করে চলে যান। পরের দিন তিনি দাবী করেন যে এই বিষয়ে সকাল হবার আগে তিনি কিছুই জানতেন না।

আবরারের মোবাইল ও ল্যাপটপ ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে। তাই মৃত্যুর পরও তার পরিবারকে সহপাঠীদের কেউ ফোন দিতে পারছিলেন না। আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে পড়াতেন দিগন্ত নামে বুয়েটের এক শিক্ষার্থী। তার কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ফাইয়াজকে ফোন দেওয়া হয়। ফাইয়াজ কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোন রিসিভ করে। এভাবে তার আত্মীয়-স্বজন জানতে পারে।

আবরার হত্যাকান্ডের বিচার :

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে। দীর্ঘ প্রতিবাদসূত্রতার ধারাবাহিকতায় সেই ঘটনার বছর পার হওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আরও দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। সোমবার (০৫ অক্টোবর) আবরারের বাবা ও এই ঘটনায় হওয়া মামলার বাদী বরকতউল্লাহর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

জবানবন্দিতে আবরার ফাহাদের বাবা বলেছেন, “আসামিরা আমার ছেলে আবরার ফাহাদ রাব্বিকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার চাই।”

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার হচ্ছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে। আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই মামলার ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য আছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রসিকিউশন প্যানেল গঠন করা হয়েছে। তারা হলেন-চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী ও আবু আব্দুল্লাহ ভূঁঞা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা শেষ করার যে আইনগত সময়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার মধ্যেই বিচারটি শেষ হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

জানতে চাইলে এই মামলায় নিযুক্ত স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি এহসানুল হক সমাজী গণমাধ্যমকে বলেন, আবরারের বাবার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালত এই মামলায় আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন রেখেছেন। আদালতের নির্ধারিত সময়েই আমরা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের উপস্থাপন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আশা করছি দ্রুত বিচার আইনের বিধান অনুযায়ী যে সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার মধ্যেই এই মামলার বিচার শেষ হবে। তবে এক্ষেত্রে আসামিপক্ষেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে প্রত্যাশা করে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট আছি। সেক্ষেত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনে যাতে কোনো দুর্বলতা না থাকে আমরা সেই চেষ্টা করব। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার শেষ হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু উশৃঙ্খল নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বরকতউল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। গত বছর ১৩ নভেম্বর মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন গোয়েন্দা পু‌লিশের (ডি‌বি) লালবাগ জোনাল টিমের প‌রিদর্শক মো. ওয়া‌হিদুজ্জামান।

মামলার তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, শাখা ছাত্রলীগ সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং এস এম মাহমুদ সেতু। পরে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

গ্রেফতার আসামিদের ম‌ধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু ছাড়া বাকি সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

  • তবে অমিত সাহাকে এজহারভূক্ত আসামী না রাখায় একটি সমালোচনা রয়েছে। অনেকেই বলছেন – অমিত সাহা হিন্দুত্ববাদী শক্তি ইসকনের শক্ত এজেন্ট। যার উসকানীতেই আবরারের উপর নির্মমতা হয়েছে। বিশেষ করে আবরারের ভারতবিরোধী মনোভাব ও লেখালেখির কারণেই অমিত সাহার আবরারের প্রতি ক্ষোভ ছিলো।

আবরার হত্যা ও ভারতচুক্তি সরকারের নতজানু নীতির বহিঃপ্রকাশ

অপরদিকে মামলার আট আসামি আদালতে স্বীকা‌রো‌ক্তিমূলক জবানব‌ন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

পরে গত বছর ১৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম। পরোয়ানা অনুযায়ী পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় গত বছর ৩ ডিসেম্বর তাদের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছর ৫ জানুয়া‌রি পলাতক আসা‌মি‌দের হা‌জি‌রে বিজ্ঞ‌প্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞ‌প্তি প্রকা‌শের বিষ‌য়ে প্রতি‌বেদন দা‌খি‌লের এক‌দিন আগে মোর্শেদ অমত্য ইসলাম না‌মে পলাতক এক আসা‌মি আদাল‌তে আত্মসমর্পণ ক‌রে জা‌মিন আবেদন ক‌রেন। আদালত জা‌মিন আবেদন নামঞ্জুর ক‌রে তা‌কে কারাগা‌রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তাই এখন পলাতক থাকলেন আর তিন আসা‌মি। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এর মধ্যে মোস্তবা রা‌ফিদের নাম এজাহারে ছিল না।

চলতি বছর ১২ জানুয়া‌রি ঢাকার অতি‌রিক্ত মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সারুল ইসলাম মামলা‌র বিষয়ে পরবর্তী পদ‌ক্ষেপ নিতে মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদ‌লির আদেশ দেন। সরকা‌রি গেজেটের পর গত ১৮ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তরের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল ৬ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করলেও করোনার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, বাংলানিউজ, যুগান্তর, প্রথম আলো।
সম্পাদনা : হাছিব আর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক, পাবলিক ভয়েস।

আবরার ফাহাদকে নিয়ে পাবলিক ভয়েসের সংবাদসমূহ :

ভারতে ইলিশ পাঠানো নিয়ে আবরার ফাহাদের ফেসবুক পোস্ট : মিলে গেলো বছর পরেই

আবরারকে নিয়ে ভারতীয় তরুণীর যে স্ট্যাটাস ভাইরাল

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার শুরু

দ্রুত আবরার হত্যার বিচার শেষ করতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে আবরারের পরিবার গণভবনে

তদন্ত রিপোর্টে আবরার ফাহাদকে দ্বিতীয়বার খুন করা হয়েছে : ড. তুহিন মালিক

মা হিসেবে আবরার হত্যার বিচার করব: প্রধানমন্ত্রী

আবরার ফাহাদ খুনের অন্যতম আসামী ইসকন সদস্য অমিত সাহা আটক

আবরার হত্যা: ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশ

আবরার হত্যা মামলা: ৩ আইনজীবীকে বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ

আবরারকে প্রথম আঘাত করে ছাত্রলীগের রবিন; ষড়যন্ত্র হয় ক্যান্টিনে

ফাহাদ স্মরণে খুবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

মন্তব্য করুন