অন্যায়রোধে কুয়াকাটা সৈকত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনবো : নবনির্বাচিত মেয়র

আমার বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয়

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১
অন্যায়রোধে কুয়াকাটা সৈকত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনবো : নবনির্বাচিত মেয়র

সদ্য নির্বাচিত কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেছেন – ‘সকল প্রকার অন্যায় ও অনৈতিক কাজ রুখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সমূদ্র সৈকত ও পর্যটন এরিয়ার সবকিছু সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে’।

গত ২৮ ডিসেম্বর সমাপ্ত হওয়া কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বারেক মোল্লাকে হারিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়া মেয়র প্রার্থী (জগ প্রতীক) মো. আনোয়ার হাওলাদার পাবলিক ভয়েসের সাথে একান্ত আলাপে এ কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ও কুয়াকাটা আলীপুরের বাসিন্দা মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ। সাক্ষাতের সময় মেয়রের সাথে একান্ত আলাপ করেন তিনি।

[নবনির্বাচিত মেয়রকে সৌজন্য উপহার দিচ্ছেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।]

  • আলাপকালে এখনও মেয়র হিসেবে শপথ না নিলেও নব নির্বাচিত মেয়র কুয়াকাটা পৌরসভা নিয়ে তার নিজস্ব কর্মপরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন – কুয়াকাটা পর্যটনকে কেন্দ্র করেই এই পৌরসভা। এখানের সাধারণ জনগণ স্বতন্ত্রভাবে আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আমি চাই কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে। কারণ কুয়াকাটাকে যদি একটি সমৃদ্ধ পর্যটন করতে পারি তাহলে এখানের মানুষদের ভাগ্য অনেক পরিবর্তন হবে। সেজন্য কুয়াকাটায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগকারীরা যাতে আসতে পারে এবং বিনিয়োগ করতে পারে সেদিকে তিনি খেয়াল দেবেন বলেও জানান।

‘নির্বাচনে বিজয়ী হলেন কিভাবে?’ পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – ২০১৫ সালে যখন কুয়াকাটা পৌরসভা মেয়র নির্বাচন হয় তখনও আমি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলাম। তখন নির্বাচনের দিন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই নির্বাচন শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং পৌনে নয়টায় আমি নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। সে নির্বাচনের মাধ্যমেই জনাব বারেক মোল্লা মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এ বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন দিয়েছিলেন এবং কুয়াকাটা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এছাড়াও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল। সেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলেই আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে এবং আমি মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।

  • তিনি বলেন – আমি মনে করি আমার এ বিজয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয় এবং এই নির্বাচনের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

‘আগামী ৫ বছরের জন্য উন্নয়ন কাজের কী কী পরিকল্পনা নিয়েছেন’ পাবলিক ভয়েসের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – প্রথমত আমি চাই কুয়াকাটার পর্যটন এরিয়াটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে কারণ কুয়াকাটার পর্যটন এরিয়া যদি সৌন্দর্য না করা যায় তাহলে কুয়াকাটাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না। তাছাড়া এই পর্যটনকে কেন্দ্র করেই কুয়াকাটা পৌরসভা।

[নবনির্বাচিত মেয়রের সাথে পাবলিক ভয়েস সিনিয়র রিপোর্টার আলমগীর হোসেন।]

‘কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় কি কি সমস্যা আছে’ জানতে চাইলে তিনি পাবলিক ভয়েসকে বলেন – কুয়াকাটার মধ্যে পর্যটন এলাকায় একটি বিনোদন কেন্দ্র নেই, একটি শহীদ মিনার নেই, একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নেই, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য পরিপাটি নেই, এছাড়াও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বাহিরে একটি প্রাকৃতিক লেক রয়েছে যেটাকে সংস্কার ও সৌন্দর্যমন্ডিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের অনেক কাজই কুয়াকাটায় দরকার যা বলে শেষ করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ আমি আমার সাধ্যমত এসব কাজ করে যাব।

‘কুয়াকাটা বেড়িবাঁধ ও সৈকত এরিয়া রক্ষায় কী কী কাজ করবেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন – ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় চায়না কোম্পানি বেড়িবাঁধ রক্ষায় এখন কাজ করে যাচ্ছে তারা যেভাবে কাজটি করছে তাতে আশা করা যায় বেড়িবাঁ রক্ষা হবে তবে কুয়াকাটায় সবচেয়ে বেশি দরকার হলো সী-বিচ তথা সৈকতকে রক্ষা করা। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব কুয়াকাটা সৈকতকে রক্ষা করতে আরো বড় এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। কারণ সৈকত বাঁচলেই এখানের উন্নয়ন ও পর্যটন খাতের অধিক লাভ আসবে।

‘কুয়াকাটা সৈকতের পর্যটনকে ঘিরে অনেক অনৈতিক কাজ হয়, তা রোধে আপনি কোনো ভূমিকা নেবেন কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – আসলে পর্যটন এরিয়াতে অনেক কিছুই সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নারীঘটিত অনৈতিক কাজগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন – এখানে যারা আসেন বেশিরভাগই স্বামী-স্ত্রী পরিচয় হোটেলে উঠে থাকেন। যাদেরকে চাইলেও সেভাবে বাধা দেয়া যায় না তাছাড়া পর্যটন এরিয়ার আইন-কানুন কিছুটা ভিন্ন রয়েছে। তবে আমি মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর সর্বপ্রথম পুরো কুয়াকাটা এরিয়াকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো বলে পরিকল্পনা করেছি। আশা করি পুরো পর্যটন এরিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় এলে এখানের ৮০ পার্সেন্ট অন্যায় অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অন্যান্য আরো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ আমি গ্রহণ করবো।

‘এক সময় জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচন করা, এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া ও সর্বশেষ স্বতন্ত্রভাবে মেয়র নির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসা’ নিয়ে পাবলিক ভয়েসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – আমার জীবনে জাতীয় পার্টিতেই আমি বেশি সময় পার করেছি। তবে ৯৬ সাল থেকে জাতীয় পার্টি কিন্তু আওয়ামী লীগেরই জোট দল হিসেবে আছে। সে হিসেবে ৯৬ সাল থেকে আমিও নৌকা মার্কাতেই ভোট দিয়ে আসছি। আমার ভোটেও সরকার গঠন হয়েছে। আমি জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচনও করেছি। তবে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। সে হিসেবে এ সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণবঙ্গের জন্য যেসব কাজ করতেছেন তাতে আমি আওয়ামী লীগের এ উন্নয়নধারা দেখে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাকে পদ-পজিশন দেয়নি। আমার প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী আ. বারেক মোল্লা সাহেব আমাকে আওয়ামী লীগে সেভাবে গুরুত্ব দেননি। তিনি চিন্তা করেছেন যে, জনগনের কাছে আমার যেহেতু গ্রহণযোগ্যতা আছে তাই আমাকে কোনো পদ পদবিতে রাখা যাবে না। তাহলে তিনি মেয়র মনোনয়ন পাবেন না এবং মেয়র হতে পারবেন না। বিষয়টি অনেকটাই তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ হিসেবে ছিল। তাই আমি আওয়ামী লীগে থাকতে পারিনি। তবে স্বতন্ত্রভাবে মেয়র নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে এসেছি।

‘আবার কী আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের অংশীদার একটি দল, আওয়ামী লীগ দেশের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছে এটা অস্বীকার করার কিছু নাই। তবে আমি যেহেতু স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছি বা অনেকটাই বিরোধীদল হয়ে নির্বাচন করেছি তাই দল (আওয়ামী লীগ) আমাকে নেবে কি নেবে না সেটা দলের সিদ্ধান্ত। তবে আমি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি এবং করে যাবো।

প্রসঙ্গত : গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. আনোয়ার হাওলাদার ৩ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং বর্তমান মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৪ ভোট।

কুয়াকাটা পৌরসভার এটি ছিল দ্বিতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে মোট ৮ হাজার ১২২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ১৭৭ জন এবং নারী ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৯৪৫ জন।

সংবাদ বিন্যাস ও সম্পাদনা : হাছিব আর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক : পাবলিক ভয়েস।

মন্তব্য করুন