দিহানের বাসায় আনুশকা, সিসিটিভির ফুটেজে যা পাওয়া গেল

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা এখনো অনেকটা রহস্যের মধ্যেইও ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইফতেখার ফারদিন দিহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে দিহানের কলাবাগান বাসার দারোয়ান দুলালকে। উদ্ধার করা হয়েছে বাসাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। কী পাওয়া গেছে সিসিটিভির ফুটেজে? সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ১২ মিনিট। কলাবাগানে দিহানের বাসার সিড়িঘরের দিকে যাচ্ছে ওই স্কুলছাত্রী। দুপুর একটার দিকে বাসার সামনে রহস্যজনক গতিবিধির দেখা মেলে তিন ব্যক্তির।

তবে তাদের পরিচয় বোঝার উপায় নেই। প্রায় দেড় ঘন্টা পর দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় দিহানের গাড়ি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিললেও, এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তাই জিজ্ঞাবাসাদের জন্য ওই দিন দায়িত্বে থাকা প্রহরী পলাতক দুলালকে আটক করেছে পুলিশ। গণমাধ্যমে খোলা চিঠি লিখলেও অনেক চেষ্টা করেও ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হননি দিহানের মা। পুলিশ কি বলছে? ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এসি আবুল হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন ওই বাসার দারোয়ান দুলাল। ঘটনার যথার্থতা যাচাইয়ে তার প্রয়োজন বোধ করায় তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার দেয়া বর্ণনার সঙ্গে দিহানের দেয়া বর্ণনা মিলিয়ে দেখা হবে।

যেহেতু দারোয়ান এজাহারভুক্ত আসামি নন, তাই তাকে আটক রাখা হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে যদি মনে হয় ছেড়ে দেয়া উচিত, তাহলে ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের পুরো এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। পাশাপাশি দিহানের ওই তিন বন্ধুর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল সেই লোকেশন বের করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তবে তারা নজরদারির বাইরে নয়। প্রয়োজনে তাদের আবার হেফাজতে নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানের বাসায় গিয়ে মারা যান মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই দিনই মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দিহানকে আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন মেয়েটির বাবা মো. আল আমিন। পরে দিহান ও তার তিন বন্ধুকে কলাবাগান থানা পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাকি তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে দিহানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় দিহান। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে। দিহানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

মন্তব্য করুন