যেসব কারণে নারীরা বিয়ের কাজী হতে পারবেন না

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

নারীদের নিকাহ (বিবাহ) রেজিস্ট্রার (কাজী) হওয়া নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের ওপর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা বিয়ের রেজিস্ট্রার বা কাজী হতে পারবেন না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর রোববার ওই রায় প্রকাশিত হয়েছে।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এই রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। রিটকারীর আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আদালতের প্রকাশিত রায়টির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে- নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ‘ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশনে’ থাকেন। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না এবং তারা নামাজও পড়তে পারেন না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সেহেতু এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব না। আদালত এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ সংক্রান্ত রিটের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে দেন।ফলে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসকে সাইফুজ্জামান আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন- একজন নারী একজন মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হতে হলে কিছু কিছু কার্যক্রম করতে হয়। নারী হিসেবে সব জায়গায় যেতে পারবেন কিনা। রাত-বিরাতে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে যেতে পারবেন কিনা।

মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে নারীদের প্রত্যেক মাসে একটি বিশেষ সময় আসে, যে সময়টাতে ধর্মীয়ভাবেই নারীরা মসজিদেও যেতে পারেন না। আবার নামাজও পড়তে পারেন না।

মন্তব্য করুন