‘ভোটাধিকার হরণের কলংক আ‘লীগের জন্য লজ্জাজনক’

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিলো ভোটাধিকারের প্রশ্নে। ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনই স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত হয়েছিলো।

আজ শুক্রবার সকালে পুরানা পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ২০২১-২২ সেশনের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন,  এক সাগর রক্তের নিবিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এসেও বাংলার মানুষ ভোটের অধিকার বঞ্চিত, এর চেয়ে কলংকজনক বিষয় আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, লজ্জাজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সেই ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এই কলংক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য লজ্জাজনক।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বৈষম্য, অবিচার, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শাসন পদ্ধতির অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ও ইসলামী অনুশাসনের অভাবের প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার দাবী উঠেছিল বাঙালির চেতনায়। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশ একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। বিগত বছরগুলোতে যারা দেশ শাসন করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি তোতাপাখির মতো আউড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার প্রতি পাকিস্তানী শাসকদের মতো অবজ্ঞা, উপেক্ষা করেছে এবং নিজেদের আখের ঘুছিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ গুণগত মানে স্বাধীনতার আগের মতোই থেকে গেছে।

তিনি বলেন, শাসন ক্ষমতায় গণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ স্বীকৃত কোনো পন্থা নেই, বিচার বিভাগ কার্যত পরাধীন, আমলাতন্ত্রে সরকারি প্রভাব, রাজনৈতিক সহ-অবস্থানের অভাব, নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম, মতামত প্রকাশে বাধা ইত্যাদি সকল নাগরিক বিষয়াবলিতেই কোনো ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে, মূল চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের মানুষের হাজার বছর লালিত ইসলামী ভাবাদর্শে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

সভায় ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকারের অদূরদর্শিতায় এবং ভারত তোষণনীতির কারণে করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অনিশ্চয়তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে বিকল্প পথ খুজতে হবে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কিনতে গিয়ে সরাসরি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে চুক্তি করায় আর্থিকভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আক্কাস আলী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাদের,অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, মাওলানা শোয়াইব হোসেন, জি এম রুহুল আমীন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশীদ, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মনির হোসেন, মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা নেছার উদ্দিন, এ্যাডভোকেট মোঃ লুৎফর রহমান শেখ, এ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, আলহাজ¦ আব্দুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম, মুফ্তী মোহাম্মাদ কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, বীর মুুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, আলহাজ্ব মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ।

আই.এ/

মন্তব্য করুন