আসুন! কোভিড ভ্যাকসিনের গোমর ফাঁস করি

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

পিনাকী ভট্টাচার্য :

ইন্ডিয়ান কোভিড ভ্যাক্সিনের গোমর ফাঁস করে দেই আসুন। কারণ হাসিনা সরকার ভ্যক্সিন নিয়ে তথ্য লুকাচ্ছে এবং মিথ্যাচার করছে। শুধু তাই নায়, ভ্যাক্সিন নিয়ে ব্যাড়াছ্যাড়া বাধিয়ে দিয়ে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। আসুন দেখি তারা কী কী সমস্যা করেছে এর মধ্যেই?

স্বাস্থ্য সচিব গত ৪ জানুয়ারী বলেছে, ভারত যত টাকা দিয়ে টিকা কিনবে আমরাও তত টাকা দিয়ে কিনবো। ভারত যখন টিকা পাবে আমরাও তখন পাবো। আমাদের ভারতের টিকা পাওয়া ব্যহত হবেনা কারণ টিকা কেনা হচ্ছে জিটুজি চুক্তি মানে সরকারে সরকারে চুক্তির ভিত্তিতে। তিনটাই নির্জলা মিথ্যা কথা। প্রথমত সেরাম ইন্সটিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালা একই দিনে বলেছে ভারত টিকা কিনছে তাদের কাছে থেকে প্রতি ডোজ ২.৭৪ ডলারে। আর জাহিদ মালিক ১৫ ডিসেম্বরে নিশ্চিত করেছে যা প্রথম আলোতে ছাপাও হয়েছে তা হচ্ছে, সরকার টিকা কিনছে ভারত থেকে প্রতি ডোজ ৫ ডলারে।

আমরা এর মধ্যেই জেনেছি ভারত যখন টিকা পাচ্ছে তখন আমরা পাচ্ছিনা। বেক্সিমকো গতকাল নিশ্চিত করেছে এটা জিটুজি চুক্তি নয় এটা দ্বিপাক্ষীয় বেসরকারি ব্যবসায়িক চুক্তি।

এরা এতো মিছা কথা বলে কেন? এতো মিথ্যাচার এদের মজ্জার যে এদের সমালোচনা করতেও আর রুচি হয়না। এইসব অপদার্থ আমলা আমরা পয়সা দিয়ে পালি।

এইবার আসেন আসল কথায়। ভারত টিকা দেবে ৩ কোটি ডোজ। আমি খুব শিওর না এতে তিন কোটি মানুষের টিকা দেয়া যাবে নাকি দেড় কোটি মানুষকে দেয়া যাবে? কারণ একেক মানুষের জন্য দুইটা ডোজ টিকা লাগবে। আমি যদি ধরেও নেই তিন কোটি মানুষের জন্যছয় কোটি ভায়ালের কথা বলা হচ্ছে, তাহলে দেশের বাকী পনেরো কোটি মানুষ কোথায় থেকে ভ্যাক্সিন পাবে? পনোরো কোটি মানুষের ভ্যাক্সিনের খোজ নাই আমরা ভগ্নাংশের ভ্যাক্সিন নিয়ে কেন কথা বলতেছি?

আমরা চাইনিজ ভ্যক্সিন নিলাম না। তারা বিনা পয়সায় দিতে চেয়েছিলো। তারা ট্রায়াল করতে চেয়েছিলো শুধু। তখন মন্ত্রনালয় বসে কত টাকা মারা যায় এই প্রজেক্ট থেকে সেই হিসাব করতেছিলো। ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে যেমন তারা টাকা কামানোর উপলক্ষ হিসেবে নিয়েছিলো এই কোভিডকেও তারা টাকা বানানোর উপলক্ষ হিসেবে নিয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য তার নিরাপত্তা এদের কাছে তুচ্ছ। কত বড় অমানুষ এরা। এরা করোনার সময়ে গরীবের হক সামান্য চালের গমের লোভ ছাড়তে পারেনা তারা কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার নিশ্চিত বানিজ্য থেকে নয়ছয় করে টু পাইস কামানোর সুযোগ হারাবে।

চায়নার কোম্পানী সিনোভ্যাকে টিকার পরীক্ষা সফল হলে সিনোভ্যাক বাংলাদেশকে টিকা তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তর করতো। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের কোম্পানি দেশেই টিকা উৎপাদন করতে পারতো। সেটাকে হেলায় দুরে ঠেলে ফেলা হয়েছে। সিনোভ্যাক নাকি টাকা চেয়েছিলো পরীক্ষার জন্য। এটাও ডাহা মিথ্যা কথা।

আসল কথা হচ্ছে, টিকার পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দিতে এতো দেরী করেছে বাংলদেশ যে তারা এতোদিন অপেক্ষা না করে ইন্দোনেশিয়ার সাথে চুক্তি করে ফেলেছে। তাদের পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ টাকা ইন্দোনেশিয়ায় চলে গেছে। তারপরেও তারা কো-ফান্ডিং এর কথা বলেছিলো। তার মানে কিছু টাকা সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দের কথা বলেছিলো। এই কো ফান্ডিং এর জন্য কত টাকার দরকার ছিলো? সেই টাকা তখন খরচ করলে চায়নার কোম্পানীর টিকার প্রযুক্তি আর দশ হাজার ফ্রি ডোজের চাইতে কী কম আর্থিক সুবিধা পেতাম আমরা?

সরকারকে কেউই কোন প্রশ্ন করেনা। প্রশ্ন করতে ভয় পায়। আর এই ইমিউনিটি পেয়ে তারা যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। কেউই দেখার নাই। দুনিয়া এতো অদক্ষ, অপদার্থ এতো জবাবদিহিতা বিহীন কোন সরকার কখনো দেখেনি, আর হয়তো দেখবেও না।

বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে ইউনিক। এটা অন্তত স্বীকার করতে আমার বাধা নেই।

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক, মানবাধিকার কর্মী, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট।

[দ্রষ্টব্য : পাবলিক ভয়েসের মতামত ও সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার একান্তই লেখকের। পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ ও পাবলিক ভয়েস কর্তৃপক্ষ এ মতামত কলামের দায়ভার গ্রহণ করেন না। মতামত বিভাগে আপনিও আপনার মতামত পাঠাতে পারেন। লেখার মান ও বিষয়বস্তু সঠিক হলে পাবলিক ভয়েসে প্রকাশিত হবে। লেখা পাঠাতে পারেন এই মেইলে : news.publicvoice24@gmail.com]

মন্তব্য করুন