জামালপুরে মুফতী ফয়জুল করীম ও হাফিজুর রহমানের মাহফিল বন্ধ

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২১
মুফতী ফয়জুল করীম ও হাফিজুর রহমান।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী জনাব ফরিদুল হক খান দুলালের জেলা জামালপুরে আজ (৪ জানুয়ারী) ও আগামিকাল (৫ জানুয়ারী) দুদিন দুটি মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি মাহফিল ছিলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের প্রধান মেহমান হিসেবে। এবং অপরটি ছিলো দেশের আলোচিত বক্তা মাওলানা হাফিজু্র রহমান সিদ্দিকীর প্রধান অতিথি হিসেবে।

আরও পড়ুন : আলোচিত হাফিজুর রহমান ও কিছু ঘটনাপ্রবাহ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে – প্রশাসনের অনুমতি (মৌখিক) থাকা সত্বেও মাহফিল দুটো হতে দেওয়া হয়নি স্থানীয় আওয়ামী সমর্থক কিছু নেতাকর্মীদের কারণে। তারা হুমকি ধামকি দিয়ে মাহফিল বন্ধ করে দিতে ভূমিকা রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে মুফতী ফয়জুল করীমের উপস্থিতির মাহফিল নিয়ে জামালপুর ২ আসনের এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরিদুল হক খান দুলালের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

মুফতী ফয়জুল করীমের মাহফিল সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে  – জামালপুর জেলা মুজাহিদ কমিটির আয়োজনে আগামিকাল (৫ জানুয়ারী) জামালপুর শহরের দক্ষিণে জঙ্গলপাড়া বোর্ডঘড় নামক স্থানে মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিলো। স্থানীয় প্রশাসন মাহফিল কর্তৃপক্ষকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলো বলেও জানিয়েছেন মাহফিল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সাথে সম্পৃক্ত একজন প্রভাবশালী সদস্য পাবলিক ভয়েসকে জানিয়েছেন –  মুফতী ফয়জুল করীমের আগমনকে ঘিরে গত শুক্রবার (১ জানুয়ারী) স্থানীয় ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক ও আওয়ামী বিএনপিসহ নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটি মিটিং করা হয়েছে এবং যথাসময়ে মাহফিল হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।

কিন্তু পরবর্তি দিন (২ জানুয়ারী) মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটিকে থানায় ডেকে বলে দেয়া হয়েছে যে – মাহফিলে অনুমতি তারা দিতে পারবে না কারণ স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু (তৃতীয় সারীর উগ্র) নেতাকর্মীরা বলেছে যে মুফতী ফয়জুল করীম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে তাই তাকে এখানে আসতে দেয়া হবে না। তিনি এলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তারা। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আওয়ামী নেতাদেরকে বুঝিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।

এরপর মাহফিল কমিটির সদস্যরা সিনিয়র কিছু আওয়ামী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের সাথে বিষয়টি আলাপ করতে বলেছেন এবং তিনি গত দুদিন জামালপুরেই অবস্থান করেছেন। কিন্তু ফরিদুলল হক খান দুলালও মাহফিলের অনুমতি দেননি। এমনকি যেহেতু সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে তাই মাহফিল না করে অন্তত মসজিদে মুফতী ফয়জুল করীম কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়ে যাবেন বলে অনুমতি চাওয়া হলেও তিনি সে অনুমতি দেননি।

আরও পড়তে পারেন : 

মুফতী ফয়জুল করীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলার আবেদন

কওমী মাদরাসায় কমিটি করতে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ঠিক করতে বললেন মুফতী ফয়জুল করীম

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করুন : মুফতী ফয়জুল করীম

মোদীর আগমন ঠেকাতে ঢাকা অবরোধ করা হবে : জুমার খুৎবায় মুফতী ফয়জুল করীম

  • বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন জনতা। তারা জানিয়েছেন – এভাবে ধর্মীয় মাহফিল বন্ধের পরিণতি অনেক ভয়াবহ হবে। তবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কিভাবে মাহফিল বন্ধ করে দিতে পারলেন সেটাতে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

এছাড়াও কিছুটা একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীর মাহফিলের ক্ষেত্রেও। সে মাহফিলে মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদও বক্তা হিসেবে ছিলেন। আজ (৪ জানুয়ারী) তাদের মাহফিলটি ছিলো বকশীগঞ্জ উপজেলার টিকারকান্দী স্কুল মাঠে। যেখানে সবাইকে দাওয়াত দেয়াসহ গাড়ি রিজার্ভ করা ও সার্বিক সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিলো। সভাপতি রাখা হয়েছিলো বকশিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরকে। কিন্তু তারপরও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাদের যোগসাজশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাহফিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে সেখানের স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদকে প্রধান অতিথি না রাখায় তিনি মাহফিলটি বন্ধ করিয়েছেন।

মাহফিল বন্ধের এ বিষয়গুলো নিয়ে জামালপুরের থানা ও জেলা প্রশাসন পর্যায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত : সারাদেশেই বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামী নেতা কর্মীরা বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ঠুনকো ইস্যুতে স্থানীয় আওয়ামী নেতারা মাহফিল বন্ধ করে দিচ্ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মাহফিল মঞ্চে আলেমদেরকে হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে এসব ক্ষেত্রে তারা অজুহাত হিসেবে নিচ্ছেন ভাস্কর্য নিয়ে আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন বক্তব্যকে। এবং ভাস্কর্য বা মূর্তি নিয়ে আলেম-ওলামাদের এসব ধর্মীয় অবস্থানকে বঙ্গবন্ধুর সাথে লাগিয়ে আলেম-ওলামা ও সরকারের সাথে একটি সংঘাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ দিচ্ছেন ওলামায়ে কেরামগণ। এবং এতে ভূমিকা রাখছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন তৃতীয় সারির কগ্র নেতাকর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ধর্মবিদ্বেষী কিছু লোকজন। অথচ দেশের ওলামায়ে কেরামগণ ভাস্কর্য বা মূর্তি বিষয়ে বারবারই ধর্মীয় অবস্থান ব্যক্ত করার বাহিরে কোন সংঘাতমূলক অবস্থানে যায়নি।

আরও পড়তে পারেন : 

একজন সিদ্দীকির উসীলায় হাজার মানুষ দীনের পথে এসেছে : হাবিবুর রহমান মিছবাহ

মাহফিলেই নিজ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন হাফিজুর রহমান সিদ্দিক

ভোলায় হাফিজুর রহমানের মাহফিল জনসমুদ্রে পরিনত

বগুড়ায় দিনের বেলা হাফিজুর রহমান সিদ্দীকের মাহফিল জনসমূদ্রে পরিণত

মন্তব্য করুন