বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের সেই ঘটনা : আসামী মেম্বারের জামিন

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২১

সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে (৪৫) জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ রবিবার (৩রা জানুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোম্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসমিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন।

এর আগে গত ১৫ই নভেম্বর ওই ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন দেলুকে প্রধান আসামী রেখে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে চার জন এখনও পলাতক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২রা সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখে ফেলেন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার।

এরপর রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পরপুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ এনে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।

পরে ৪ঠা অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

ওই গৃহবধূ তখন জানিয়েছিলেন, বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার পর তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেম্বার সোহাগ কোনো বিচার করেননি। উল্টো ভূক্তভোগী নারীকে বলেছিলেন, মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে। মেম্বারের এ আচরণে ওই নারী বিচার পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন।

নির্যাতিত ও অসহায় ওই নারী মেম্বারের কথায় মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেও তার ওপর চালানো নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার করা দুটি মামলায় মেম্বার সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে একলাশপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যাকে আজ জামিন দেয়া হয়েছে আদালত থেকে।

বেগমগঞ্জের ওই নারীর ঘটনা বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে – নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করার জন্য চালানো বর্বরোচিত নির্যাতন এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাণ্ডে গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন ৩৬ বছর বয়সী ওই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এর আগেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছিল।

প্রায় সময়ই শারীরিক সম্পর্কে  সম্মত না হলে ওই নারীকে সে হুমকি দিত তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে গণধর্ষণ করা হবে বলে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্যাতিত ওই নারী। সূত্র : ডিবিসি।

মন্তব্য করুন