প্রিয় ছাত্র আন্দোলন ; আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই, কাজ আরো অনেক বাকি

প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২১

-মুফতী মঈনুদ্দীন খান তানভীর

ক্ষমতাসীন কিবা ক্ষমতাহীন জাগতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি এড়িয়ে আদর্শিকভাবে কওমী আলিয়া স্কুল ত্রি – ধারায়  এগিয়ে যাচ্ছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। সেজন্য তাদের প্রতি প্রত্যাশার পারদটাও অনেক বেশি। সম্মেলন, মিছিল, জনসভা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।তবে এগুলোই কিন্তু মূল উদ্দেশ্য নয়।

কবির ভাষায় বলতে গেলে-
নহে সমাপ্ত কর্ম মোদের
অবসর কোথা বিশ্রামের।
উজ্জ্বল হয়ে ফোটেনি আজও
সুবিমল জ্যোতি তাওহীদের।

কিংবা আরো গভীর থেকে-
যতদিন না কায়েম হবে খোদার ধরায় তারই দ্বীন
কিসের আবার ঈদের খুশি
সব অনুষ্ঠান অর্থহীন।

আশার কথা হচ্ছে, পরম করুণাময়ের অশেষ মেহেরবানীতে ছাত্র আন্দোলন ইতোমধ্যেই একটি গতিধারায় উঠে গেছে। দক্ষ হাতে ধরে রাখতে পারলেই তরতর করে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে।

আরও পড়ুন : ইশার কেন্দ্রীয় সম্মেলন : আকরাম, রিয়াদ, আল-আমিন নতুন কাণ্ডারি

তবে আমার ক্ষুদ্র বিবেচনামতে, রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ আরো অনেক বাড়ানো দরকার। যে কাজটি ইতোমধ্যেই তারা শুরু করেছেন। সংগঠনে যতবেশি মেধার মূল্যায়ন হবে। প্রতিভার স্ফূরণ ঘটানো যাবে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কর্মসূচি তৈরি করা সম্ভব হবে। ছাত্রদেরকে যোগ্য দক্ষ ও সময় সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইসলামী হুকুমত ততই তরান্বিত হবে।

গতানুগতিক কাজ তো অনেকেই করে। সময়ের অনিবার্য বাস্তবতায় আবার হারিয়ে যায়। তাই নতুন করে ভাবা উচিত। মনে রাখতে হবে-একটা সংগঠনের যৌবনকাল চিরদিন থাকে না। একটা সময় ভাটা আসে। এটা কুদরতের নেযাম।ইতিহাস তাই বলে। তাই যা করতে হয়,সময় থাকতেই করতে হয়। নেয়ামতের কদর করার এ এক অপার সুযোগ। অতীতের সফলতা থেকে প্রেরণা নিয়ে, ভুল চুক থেকে সবক হাসিল করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সংগঠনের বয়স তো আর কম হলো না।  কেবল জনশক্তি কিংবা মাঠের কর্মসূচিতে বিপুল উপস্থিতি দেখেই আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই।এখনো যেসব ক্যাম্পাসে সেভাবে ঢুকা যায়নি।যে লাখো তরুণের কাছে এখনো দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সাবেক মেধাবীদেরকে টার্গেট করে যেসব সেক্টরে সেট করা যায়নি-তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত। কেন যায়নি? সীমাবদ্ধতা কোথায়? উত্তরণের পন্থা কী?

মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে এখন মেধার লড়াই চলে। গুটিকয়েক ইহুদী পুরো পৃথিবীতে ছড়ি ঘুরায় এই মেধার বদৌলতে। তাই দেশজুড়ে মেধাবী নেতৃত্ব সামনে আনা উচিত।

আরও পড়ুন : ইশা ছাত্র আন্দোলনকে অভিনন্দন জানালো শিবির

একটা ছেলে ৫ বছর, ১০বছর, ১২বছর সংগঠন করে হারিয়ে যাবে কেন? তাকে তো পুরো উম্মাহর জন্য আরো বড় জায়গায় সেট করে দেয়ার কথা। এটা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার। চূড়ান্ত বিপ্লবের টার্গেটে এখন এগুনো দরকার। একটি সফল বিপ্লব ঘটাতে হলে যে মানের জনগোষ্ঠী দরকার। সে মানোন্নয়ন হচ্ছে কিনা। বিপ্লবকে টেকসই করতে জায়গায় জায়গায় যে পরিমাণ যোগ্য লোক বসাতে হয়_সে হারে গড়ে তোলা যাচ্ছে কিনা। দল মত নির্বিশেষে স্বীকার করতে বাধ্য হবে, এমন কয়জন জাতীয় নেতৃত্ব উপহার দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সাবেকদেরকে রাষ্ট্রের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ কী পয়েন্টে ঢুকানো যাচ্ছে। তা অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে।

দেখুন। – বামপন্থীদের জনসম্পৃক্ততা কতটুকু, তা সবাই জানে। কিন্তু কী মিডিয়া, কী প্রশাসন আর কী রাষ্ট্রীয় পদায়ন-আমরা যেন অসহায় জনগোষ্ঠী!

তাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়া দরকার। নাহয় লোক বাড়বে। বছর বছর শানদার সম্মেলন হবে। কিন্তু মূল টার্গেট রয়ে যাবে বরাবরের মতোই অধরা। চলমান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। কোনরূপ পরিবর্তন পরিমার্জন লাগবে কিনা, তা নিয়ে ভাবা দরকার। ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীল শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন। তাদের মতামতগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া দরকার।

ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মনোনীত হলেন প্রিয় নুরুল করীম আকরাম ভাই। ব্যক্তিগতভাবে মেধাবী,স্পষ্টবাদী হবার পাশাপাশি তিনি যথেষ্ট বিনয়ী, ভদ্র, সজ্জন ব্যক্তি। শরীফুল ইসলাম রিয়াদ ভাই ও শেখ আল আমীন ভাইয়েরা যথেষ্ট সময় সচেতন। পরীক্ষিত সংগঠক।

তাঁদেরকে আল্লাহর জন্য মহব্বত করি। হাজারো মানুষের চোখের পানি, শ্রম, ঘাম রক্ত আর কুরবানির বদৌলতে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাওয়া সংগঠনটিকে তারা আরো অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি।

ছাত্র আন্দোলনের এ বছরের সবচেয়ে ভালো লাগার দিক ছিল-এটিএম হেমায়েত উদ্দীন রহ. স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন।

দ্বীনি সংগঠনের জন্য পুরো জীবনকে ওয়াকফ করে দেয়ার যে কয়টা উদাহরণ আমাদের সামনে-তন্মধ্যে এটিএম হেমায়েতউদ্দীন সাহেব অন্যতম।

তার চেতনা জাগানিয়া বক্তব্য, আমৃত্যু সার্বক্ষণিক রাজনীতি, দল মত নির্বিশেষে সবার সাথে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আমাদেরকে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা যুগাবে। তাকে নিয়ে স্মারক হয়েছে।
আশা করি, তা ভবিষ্যতের যে কোন গবেষকের জন্য ফলপ্রসূ উপাদান বলে বিবেচিত হবে । স্মারকটির জন্য তাদেরকে স্পেশাল ধন্যবাদ।

মাসব্যাপী বিপুল প্রচার প্রচারণা চললো।কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সফল করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দায়িত্বশীল ভাইয়েরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। মেয়রের অনুমতি, হল ভাড়া,যানবাহন প্রস্তুতি সব সম্পন্ন। হঠাৎ আগের দিন রাতে ডাইরেক্ট নিষেধাজ্ঞা জারী। অদৃশ্য ইশারায় কাজী বশির মিলনায়তনের অনুমোদন ক্যান্সেল, যুব আন্দোলনের শূরা সম্মেলন প্রতি বছর হয় বিএম মিলনায়তনে।এবার তারা ভাড়া দিবে না। পীর সাহেবের আজকের এক মাহফিল ক্যান্সেল। কী হচ্ছে এসব?

এগুলো কোন গণতন্ত্র?কেমন বাক স্বাধীনতা?

আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত রাজপথেই প্রোগ্রাম হলো। সুন্দরভাবেই হলো।

যতদূর মনে হচ্ছে,সরকার কাসেমী সাহেবের জানাজা থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি। বাঁধা দিয়ে যে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে-তা এখনো অনুধাবন করতে শিখেনি। ২২তারিখের যুব কনভেনশন নিয়েও প্লান কষছে নানান রকম।

লেখক : গবেষক, আলোচক, বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন