স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হোক বিশ্ব ইজতেমা

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২১

মাসউদুল কাদির : 

বিশ্ব ইজতেমা জমায়েত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একে তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ইজতেমা মিশে গেছে। অন্য কোনো ইস্যুতে নিজ খরচে এত বিদেশি বাংলাদেশের জমিন মাড়ায় না। দেশের মানুষদের মধ্যেও এই জমায়েতের কারণে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে।

স্কুল খুলছে। এদিকে বিশ্ব ইজতেমা বন্ধের কোনো ঘোষণা কেউই শুনতে আগ্রহী নয়। বিশ্বের এত বড় আধ্যাত্মিক মজমা আর নেই। কাবা চত্বরের পর একমাত্র বড় রুহানী সভা বিশ্ব ইজতেমা। একে চালু রাখাটা খুবই জরুরি।

মহামারীর কারণ দেখিয়ে এখন আর ইজতেমা বন্ধের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সবকিছু যখন স্বাভাবিক ইজতেমা নিয়ে নতুন করে টেনশন দেখানোর কোনো কারণ দেখছি না।

করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত তারিখে টঙ্গীর তুরাগতীরে হচ্ছে না এবার বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫৬ তম বিশ্ব ইজতেমা। এটা মিডিয়ার খবর।

চলতি জানুয়ারি মাস পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকার এবারের বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। অন্তত এটা মেনে নেয়া যায়।

এ বছর বিশ্ব ইজতেমার নির্ধারিত তারিখ ছিলো ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি।

এদিকে বিশ্ব ইজতেমা নির্ধারিত সময়ে না হওয়ার কারণ দেখিয়ে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা করোনা পরিস্থিতি দেখব। এরপর চিন্তা করব। অবস্থার উন্নতি হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা তারিখ ঠিক করব। এত বড় একটা আয়োজন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন আসে। এসব দেখার বিষয় আছে। স্বাস্থ্যের বিষয়টা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, প্রথম ইজতেমা ১৯৪১ সালে দিল্লির নিযামউদ্দীন মসজিদের ছোট এলাকা মেওয়ার নূহ মাদরাসায় আয়োজন করা হয়। এ ইজতেমায় প্রায় ২৫০০০ তাবলিগ দ্বীনদার মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। এরপর মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভীর রহ. এর নির্দেশে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মেহনত শুরু হয় ১৯৪৪ সালে হজরত মাওলানা আব্দুল আযীয রহ. এর মাধ্যমে। কেউ কেউ বলেন, লটারির ভিত্তিতে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

প্রথম ইজতেমা ১৯৪৬ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে তখনকার হাজী ক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।

আশাতীতভাবে ইজতেমাগামী মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমা টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়। ১৯৬৬ সালেই আয়োজনটি বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ, এতে অসংখ্য বিদেশি মেহমানও অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান অবধি ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। দাওয়াত ও তাবলিগকে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সুদৃঢ় এক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে ১৯৪৪ সালের ১৩ জুলাই ৫৯ বছর বয়সে হযরত ইলিয়াস রহ. আল্লাহর সান্নিধ্যে পরলোকগমন করেন।

এভাবেই দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাবলিগের কাজ। সাধারণ মানুষ দ্বীনধর্ম শেখার এই চমৎকার ভ্রাম্যমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আপন করে নেয়। কারণ, গত শতকে বয়স্ক মাদরাসার চিন্তাই করা যেতো না। আর সেই কারণেই তাবলিগের আবেদন বাড়তে থাকে।

দ্বীনদরদি মানুষের বড় চাহিদা, বিশ্ব ইজতেমা বন্ধ না হোক। দেশে সব ইজতেমাই চলছে। দ্বীনী মাহফিলও হচ্ছে। রাজপথে বিক্ষোভও হচ্ছে। যে কোনো গণজমায়েতও হচ্ছে। প্রাশাসনিক কোনো জমায়েতকেন্দ্রীক কাজও থেমে যাচ্ছে না। আল্লাহকে ডাকার, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ অনুসরণের এ জমায়েতকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের সহযোগিতা করুক সরকার। আমাদের প্রত্যাশা এটাই। আল্লাহ তাআলা সবারই মঙ্গল করুন। আমীন

লেখক : প্রেসিডেন্ট, শীলন বাংলাদেশ [শিক্ষা, সাহিত্য ও সামাজিক আন্দোলন]

মন্তব্য করুন