আল্লামা শফী রহ. এর মৃত্যু স্বাভাবিক, মামলা ষড়যন্ত্র : দাবি আল্লামা বাবুনগরীর

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০
আল্লামা শফী রহ. এর মৃত্যু স্বাভাবিক, মামলা ষড়যন্ত্র : আল্লামা বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর, বাংলাদেশের সর্বপ্রভাবের আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকাল নিয়ে হওয়া মামলাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও কিছু কুচুক্রি মহলের কাজ বলে দাবি করেছেন হেফাজত প্রধান আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর রহ. এর মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে করা মামলাকে মিথ্যাচার, আলেম-উলামা ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দাবি করে এ বিষয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি করেন বাবুনগরী।

আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা শফী রহ. এর পূর্বের রুমে হেফাজত ও চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার যৌথ উদ্যোগে এ সাংবাদিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হেফাজত প্রধান জুনায়েদ বাবুনগরী।

আরও পড়ুন : আমার দেখা আল্লামা শফী রাহিমাহুল্লাহর ইন্তেকাল ও জানাযা

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় – এটি হাটহাজারী মাদ্রাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং হেফাজতের ইসলামের নেতাদের হয়রানি করার হীন চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।না হলে দেশের ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলাপ করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেফাজত প্রধান এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, রাজনৈতিক নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ও মন্ত্রীর কাছ থেকে ফায়দা লুটের জন্য মামলাটি করেছে। আহমদ শফী রহ. জীবিত থাকাবস্থায় তারা ফায়দা লুটেছে।

তারা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘তারা চিহ্নিত দালাল। তাদের কয়েকজনকে চিনি। তবে এখন তাদের নাম বলব না। দেশবাসী তাদের চেনে।’

এর আগেও আল্লামা বাবুনগরী হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলনের পরই বলেছিলেন – ‘ছাত্ররা যৌক্তিক দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।’

তবে হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের সে আন্দোলনের পুরো সময়টাতেই আল্লামা বাবুনগরী তার নিজ রুমে আবদ্ধ ছিলেন। দাবি করা হয় – আন্দোলনকারীরা আল্লামা বাবুনগরীর রুম আবদ্ধ করে রেখেছিলেন।

আরও পড়ুন :

বিক্ষুব্ধ হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা : আনাস মাদানীর রুম ভাংচুর

হাটহাজারী মাদরাসার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান : শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছাত্ররা

সে আন্দোলনের দুদিন পরই গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ছিলেন। তার মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর (১৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি আদালতে আল্লামা শফী রহ. কে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ৩৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন আল্লামা শফী রহ. এর শ্যালক মো. মইনুদ্দিন।

আরও পড়ুন :

আল্লামা শফী রহ. কে হত্যার অভিযোগে মামলা : আসামী ৩৬ জন

আল্লামা শফী রহ. এর ইন্তেকাল নিয়ে তদন্তের দাবিতে ৮ দফা প্রস্তাবনা

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য আহমদ শফী রহ.কে নেওয়ার আগে মাদ্রাসায় তাঁর অক্সিজেন খুলে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, অক্সিজেন খোলা হয়নি।

ওই সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা ওমর, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা ফোরকানসহ অনেক শিক্ষক ছিলেন। এমনকি আহমদ শফীর ব্যক্তিগত সহকারী (খাদেম) মাওলানা শফিউল আলমও ছিলেন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মাওলানা শফিউল আলম বলেন, হুজুরের (আহমদ শফী রহ.) অক্সিজেন খোলা হয়নি।

আরও পড়ুন :

আল্লামা শফীর জানাযাই প্রমান : হেফাজতি চেতনা এখনও বেঁচে আছে

আল্লাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর শূণ্যতা অতি দ্রুত  পূরণ করে দিক : আল্লামা তাকি উসমানী

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বলা হয় – আল্লামা শাহ আহমদ  শফীর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানিয়ে ছিলেন। অনেক আগ থেকে আল্লামা শফীর শারীরিক অবস্থা এতই নাজুক ছিল যে, বেশ কয়েকবারই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং, আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগ তুলে যারা মামলা করেছে, তারা একটি চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী। তারা দেশের আলেম সমাজ ও সচেতন তৌহিদি জনতার কাছে প্রত্যাখ্যাত।

তবে তার পরিবারের কাছ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আল্লামা শফী রহ. এর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ মাদানী এ বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। হাটহাজারী মাদরাসায় বসে প্রথম বক্তব্যে তিনি মৃত্যুকে স্বাভাবিক উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে সেই বক্তব্য চাপে পড়ে এবং বাধ্য হয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন এবং তার উপর বক্তব্যই ভিডিও আকারে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচারিত হয়েছে।

হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলন সম্পর্কে ‘আল্লামা শফী রহ. হত্যা মামলার বাদী মো. মঈনুদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি পাবলিক ভয়েসকে বলেন – হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলন সম্পর্কে শুনেছি। বিস্তারিত পড়ে আপনাদেরকে আমাদের বক্তব্য জানাবো।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজত ইসলামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ড. নুরুল আবছার আযহারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলামের উপদেষ্টা মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম সচিব নাছির উদ্দিন মুনির, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন :

আল্লামা শফী রহ. জানাযায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিলো ইসলামী আন্দোলন : মামুনুল হক

হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন?

সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্য :

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!

ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কষ্ট করে উপস্থিত হওয়ায় আপনাদের আন্তরিক মোবারাকবাদ জানাচ্ছি।

আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র দীর্ঘ সময়ের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ছিলেন। তিনি হাটহাজারী মাদরাসাসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের কওমী মাদরাসা সমূহের মুরুব্বি ও অভিভাবক ছিলেন। তার ইন্তিকালে মাদরাসার সকল শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মকর্তাবৃন্দ গভীর শোকাহত। আমরা হযরতের দারাজাত বুলন্দির জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।

উল্লেখ্য যে, মাদরাসার তৎকালীন শিক্ষাপরিচালক আল্লামা মুফতী নূর আহমদ দা.বা. কে পাশ কাটিয়ে সহকারী শিক্ষাপরিচালক মাওলানা আনাস মাদানী দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলো। সে একক সিদ্ধান্তে ছাত্রদের ভর্তি ফরম এবং  দাওরায়ে হাদিস ছাত্রদের বোর্ড পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখে। অনেক ছাত্রদের বোর্ডিং এর খাবার এবং আবাসিক সিট অন্যায়ভাবে বাতিল করে। তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারি কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লামা আহমদ শফি রহ. এর ইন্তিকালের দু’দিন পূর্বে ১৬/০৯/২০ তারিখে সর্বস্তরের ছাত্ররা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি দাওয়া তৎকালীন মুঈনে মুহতামিম আল্লামা শেখ আহমদ সাহেবের মাধ্যমে আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. নিকট পেশ করেন। তিনি শূরা আহ্বান করে মাওলানা আনাস মাদানীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেন এবং ছাত্রদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। বাকি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ১৯/০৯/২০ শনিবার পুনরায়  শূরার অধিবেশন আহ্বান করেন। এ ঘোষণার পর মাদরাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে।

হাটহাজারী মাদরাসার শুরা বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত

পরদিন ১৭/০৯/২০২০ তারিখে শূরার সদস্যদের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মাওলানা আনাস মাদানী অনির্দিষ্ট কালের জন্য মাদরাসা বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা করলে, পুনরায় ছাত্ররা ব্যপকভাবে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তখন আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. পুনরায় শূরা আহ্বান করেন। । সারা দিন নানা উদ্বেগ উৎকন্ঠার পর বা’দে মাগরিব উপস্থিত শূরা সদস্যগণ আল্লামা আহমদ শফি রহ. সহ মাদরাসা সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে বৈঠকে বসেন।

হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা : শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন জারী

ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছচারিতা, অনিয়ম, ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি জুলুম-নির্যাতনসহ নানা দূর্ণীতি হযরতের সামনে স্পষ্ট হলে, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। যার ফলে তিনি আনাস মাদানীর উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে মাদরাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করে শূরার নিকট ক্ষমতা হস্থান্তর করেন। কিন্তু শূরাসদস্যগণ তা গ্রহণ করতে রাজি হননি। পদত্যাগে হযরতেরে দৃঢ় সিদ্ধান্তের কারণে শূরা সদস্যগণ হযরতকে সদরে মুহতামিম হিসেবে মনোনীত করেন।

ইতোমধ্যে আল্লামা আহমদ শফি রহ. অসুস্থতাবোধ করলে শূরার সদস্য এবং সিনিয়র আসাতিযায়ে কেরামের উপস্থিতিতে হযরতকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আরও পড়ুন :

হাটহাজারী মাদরাসা থেকে হাসপাতালে আল্লামা শফি

হাটহাজারীর মুহতামিম থেকে আল্লামা শফীর অব্যহতির ঘোষণা : আন্দোলন স্থগিত

পরদিন ১৮/০৯/২০ তারিখে বেলা ১১ টায় জামিয়ার মুহাদ্দিস এবং বর্তমান মজলিসে ইদারীর সদস্য মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেবকে মাওলানা আনাস মাদানী ফোন করেন। ফোনে মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেব হযরতের খোজখবর নেন। আনাস মাদানী মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেবকে বলেন, আব্বা এখন কিছুটা ভালোর দিকে।

ঐ দিন বিকালে প্রতিবারের ন্যায় আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য হযরতকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর সন্ধা ৬.২০ মিনিটে তিনি ইন্তিকাল করেন। তার ইন্তিকালে মহামান্য রাস্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিরুধী দলীয় নেতৃবৃন্দসহ আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারগণ শোকবার্তা প্রদান করেন এবং জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!

আল্লামা আহমদ শফি রহ. এর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি যে, আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. এর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র মূলকভাবে নির্জলা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। হযরতের ইন্তিকালের তিন মাস পর ঐ কুচক্রি মহল তাঁর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করে। দায়ের কৃত মামলাটি ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত  এবং দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি বলে আমরা মনে করছি।

একটি চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে জিম্মি করে হাটহাজারী মাদরাসায় ব্যক্তিতন্ত্র কায়েম করে রেখেছিল। সেখানে নানা অনিয়ম এবং ছাত্রদের ওপর অব্যাহত হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছিল। এছাড়া বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষককে মাদরাসা থেকে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করে বের করে দেয়া হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত অবমাননাকর। তাদের অনিয়ম ও ক্রমাগত হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে হাটহাজারি মাদরাসার ছাত্ররা জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

আল্লামা শাহ আহমদ  শফীর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানিয়ে ছিলেন। অনেক আগ থেকে আল্লামা শফীর শারীরিক অবস্থা এতই নাজুক ছিল যে, বেশ কয়েকবারই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং, আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগ তুলে যারা মামলা করেছে, তারা একটি চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী। তারা দেশের আলেম সমাজ ও সচেতন তৌহিদি জনতার কাছে প্রত্যাখ্যাত। মামলায় তথাকথিত হত্যার যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো অতিরঞ্জন ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছায় ওনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছিল এমন কোনো মেডিকেল রিপোর্টও দালালগোষ্ঠীরা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। কিছুদিন আগে ঐ চিহ্নিত গোষ্ঠী আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে আল্লামা আহমদ শফির হত্যা বিষয়ক প্রশ্নগুলোরও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

দায়েরকৃত মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে এবং বিবরণে যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা কেউ এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ

আল্লামা শফীকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাটি ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত। এই মামলা মাদরাসার শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বিনষ্ঠ করা এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে হয়রানী করার হীন ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়।

এ কুচক্রী মহল নিজেদের কর্মফলের পরিণতিস্বরূপ জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে ইসলামী নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। এখন পায়ের তলায় মাটি না থাকায় তারা আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে নতুন ফায়দা লুটার উদ্দেশ্যে চক্রান্তে নেমেছে। মামলাটি সেই চক্রান্তেরই অংশ। এর আগে তারা আল্লামা আহমদ শফীর লাশ নিয়েও নোংরা রাজনীতি করে ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়েছিল। আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশাতেও তাকে জিম্মি করে কায়েমী স্বার্থ হাসিল করতে দেখা গিয়েছিল। তারাই ওনাকে জিম্মি করে একের পর এক দুর্নীতি ও অনাচার চালিয়ে ওনার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলো। মাদরাসার শিক্ষক মন্ডলী, ছাত্রজনতা,  ওলামায়ে কেরাম এবং এলাকাবাসী এই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপূর্ণ মামলা দ্বারা ফায়দা হাসিল করার সুযোগ তাদেরকে দেবে না, ইনশাআল্লাহ।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি অনতিবিলম্বে দায়েরকৃত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ

আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে উম্মুল মাদারিস দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী চার  প্রতিষ্ঠাতা আকাবীর যথা- আল্লামা হাবীবুল্লাহ কুরাইশী রহ., আল্লামা আব্দুল ওয়াহেদ রহ.,  আল্লামা সুফি আযীযুর রহমান রহ., আল্লামা আবদুল হামিদ রহ.সহ অন্যান্য আকাবীরগণ এবং বিশেষভাবে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. আদর্শের উপর সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।  আমরা দেশবাসীর নিকট দুআ ও সহযোগিতা কামনা করছি। পরিশেষে উপস্থিত সকল সাংবাদিক বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাপ্ত করছি।

আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, আল্লামা নোমান ফয়জী, আল্লামা তাজুল ইসলাম, আল্লামা মোহাম্মদ শোয়াইব, আল্লামা মুফতী কেফায়েতুল্লাহ, আল্লামা মুফতী জসিম উদ্দীন, আল্লামা লোকমান হাকিম, আল্লামা কবির আহমদ, আল্লামা হাবিবুল্লাহ আজাদি, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, আল্লামা দিদার কাসেমী, মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনীর, আল্লামা আশরাফ আলী নেজামপুরী, আল্লামা ফোরকান আহমদ, আল্লামা ওমর কাসেমী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরি, আল্লামা আতাউল্লাহ কৈয়গ্রাম. মাওলানা মীর ইদরিস নদভী,  মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, জনাব মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ, মাওলানা শফিউল আলম, মাওঃ ড. নুরুল আবসার আজহারী, মাওঃ আনোয়ার শাহ আজহারী

মাওঃ হারুন আজিজ নদভী, মাওলানা মুফতী আবু সাইদ, মাওলানা মুফতী রাশেদ, মাওঃ মুফতী আব্দুল্লাহ নাজিব, মাওলানা মোহাম্মদ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুস সবুর জনাব মাস্টার মোঃ রফিক, জনাব নূর মুহাম্মদ প্রমূখ।

  • প্রতিবেনটি সন্নিবেশিত ও সংযোজিত করেছেন পাবলিক ভয়েস নির্বাহী সম্পাদক হাছিব আর রহমান।

মন্তব্য করুন