তাকমিলের ফল প্রকাশ, পিছিয়ে ঢাকার মাদরাসাগুলো

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২০

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধিনে অনুষ্ঠিত কওমি মাদারাসার দাওরায়ে হাদিস ১৪৪১ হিজরী/২০২০ ঈসাব্দের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর স্থায়ী কমিটির সভায় দীর্ঘ পর্যালোচনা পর অনুমোদনপূর্বক এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ছাত্রদের মেধা তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শরীফ মো: ইসমাইল, রোল নং ৫৩৫২। মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছে চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার সাকের উল্লাহ, রোল নং ২৩৮৯।

মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ২ জন; বগুড়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া শামসুল উলূম কারবালা মাদরাসার জোবায়ের আহমদ, রোল নং ১০৭৯ ও নারায়ণগঞ্জের জামিআ রাব্বানিয়া আরাবিয়া জালকুড়ি মাদরাসার মো: আবু নাঈম, রোল নং ১০৩৪১।

ছাত্রীদের মেধা তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকার ফাতেমাতুজ্জুহরা (রা.), সাত মসজিদ হাউজিং, মোহাম্মদপুর মাদরাসার নাঈমা হুসাইন, রোল নং ২১৫৩৭। মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছে ঢাকার জামি’আ মিল্লিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া মিরপুর আজমা মহিলা মাদরাসার মারিয়া তাবাস্সুম, রোল নং ২১৬৪৫। ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ২ জন; ময়মনসিংহের মিফতাহুল জান্নাত গলগন্ডা মহিলা মাদরাসার সানজিদা সাউদা, রোল নং ১৮৯৪০ এবং শরীয়তপুরের বেগম লুৎফুন্নেছা মহিলা মাদরাসার সাওদা আখতার, রোল নং ১৯৪৫৪।

পরীক্ষার ফলাফলে রাজধানী ঢাকার মাদরাসাগুলো তুলনামূলক পূর্বের থেকে পিছিয়ে পড়েছে। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানী ব্যতীত অন্যান্য জেলা মাদরাসার ছাত্র ছাত্রীরা ভালো ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে। এবার  সম্মিলিত পাসের হারও অনেক কমে দাঁড়িয়েছে।

২০১৭ সালে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়ার অধীনে পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৮২.৮৫%। ছাত্রদের পাশের হার ৮৩.৯২% আর ছাত্রীদের পাশের হার ৭৮.৯৩%।

২০১৮ সালে পরীক্ষার গড় পাসের হার ছিল ৭৩.৩৪ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ শতাংশ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৬৬.৮৩ শতাংশ।

২০১৯ সালে পাসের হার ছাত্র ৭৭.১৮%, ছাত্রী ৬৫.২৬%। গড় পাসের হার ৭৩.৫১%। মুমতায (স্টার) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে, ছাত্র ৯৫৯ জন এবং ছাত্রী ৯২ জন।

এবারের পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৭২.৬৫% এবং গড় পাসের হার ৭২.৬৫%। ছাত্রদের পাশের হার ৮২.১০% আর ছাত্রীদের পাশের হার ৫৭.২১%।

পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২২,৩৪২ জন শিক্ষার্থী, মোট উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬,২৩২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১১,৩৮০ জন এবং ছাত্রী ৪,৮৫২ জন। পাসের হার ছাত্র ৮২.১০, ছাত্রী ৫৭.২১। মুমতায (স্টার মার্ক) পেয়েছে ছাত্র ৯৩৩ জন এবং ছাত্রী ৫৬ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (১ম) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৩,৫০০ জন, ছাত্রী ৭৭১ জন। জায়্যিদ (২য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৪,৮৯১ জন, ছাত্রী ২,২৮১ জন এবং মাকবূল (৩য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ২,০৫৬ জন, ছাত্রী ১,৭৪৪ জন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশ এর অধীন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সহসভাপতি হযরত মাওলানা মুফতী মো: ওয়াক্কাস, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানা আব্দুল হামীদ, হযরত মাওলানা সাজিদুর রহমান, মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হযরত মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুছলিহুদ্দীন রাজু, হযরত মাওলানা মুফতী জসীমুদ্দীন, হযরত হযরত মাওলানা মুফতী নূরুল আমীন, হযরত মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, হযরত মাওলানা মোস্তাক আহমদ, হযরত মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়্যা, হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ।

আরও উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ এর মহাসচিব হযরত মাওলানা শামসুল হক, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর মহাসচিব হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী, ও মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, আযাদ দীনী এদারায়ে তা‘লীম বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহসভাপতি হযরত মাওলানা মুহিব্বুল হক, মহাসচিব হযরত মাওলানা আব্দুল বছীর, তানজীমুল মাদারিসিদ দীনিয়া বাংলাদেশ এর মহাসচিব হযরত মাওলানা ইউনুস, জাতীয় দীনী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর সহসভাপতি হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মহাসচিব হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ আলী।

অনুষ্ঠানের আল-হাইআতুল উলয়ার সাবেক চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি (র.), সাবেক কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী (র.) ও আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (র.) এবং সদস্য আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ (র.) এর মাগফিরাত কামনা করে দু‘আ করা হয়।

(উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২০১৮ সনের ৪৮ নং আইনে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করা হয়।)

আই.এ/

মন্তব্য করুন