আল্লামা শফী রহ. হত্যা মামলা নিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেন মামুনুল হক

প্রকাশিত: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০২০

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে করা একটি মামলায় আসামী করা নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় ‘এ মামলাকে চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।’

গতকাল এক ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে তিনি বলেন –  আমি জেনে আমি বিস্মিত হইলাম যে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। সেখানে ৩৬ জনের নামে মামলা করা হয়েছে, সেখানে আমার নামটি উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পূর্বাকার সকল পরিস্থিতিতে আমি তার কাছাকাছি ছিলাম না। কেন তারা এই ঘটনাটি ঘটাল, আমার নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাদের আসল উদ্দেশ্যটি এখানে স্পষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেন – তারা আসলে আমাদের ঘায়েল করতে চায়। তার (আল্লামা শফী) মৃত্যুর পরে তাকে কেন্দ্র করে, পুঁজি করে তাদের স্বার্থের এই খেলা এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বরদাশত করবে না।’ আল্লামা শফী রহ. আমাকে খেলাফত দিয়েছেন এবং তার ইন্তেকালে আমি শোকাহত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, তারা আমার মানহানি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল এবং ওলামায়ে কেরামদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

জানা যায় – হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর শ্যালক মাওলানা মাইনুদ্দীন বাদী হয়ে চট্টগ্রামে এ মামলাটি করেন। বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ছাড়াও যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, হাটহাজারীর নাছির উদ্দিন মুনির, হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, সহকারী মহাসচিব হাবিব উল্লাহ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী, হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী (খাদেম) এনামুল হাসান ফারুকী, এইচএম জুনায়েদ, উবায়দুল্লাহ ওবায়েদ, আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, নুরুজ্জামান নোমানীসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বেশিরভাগই হেফাজত ইসলামের নেতা-কর্মী।

তবে মামলা সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী পাবলিক ভয়েসকে বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে। এটি হাটহাজারী মাদ্রাসার বিষয়। এখানে হেফাজতের কোনো নেতার ইন্ধন কিংবা ভূমিকা নেই। মামলায় কী অভিযোগ আনা হয়েছে, এখনো দেখতে পারিনি। দেখার পর সাংগঠনিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হবে।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার জন্য ১১ অক্টোবর ফটিকছড়িতে বৈঠক করেন মামুনুল হক। এরপর ১৭ অক্টোবর হাটহাজারী মাদ্রাসায় ঢুকে আল্লামা শফীকে চরমভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি অসুস্থ আহমদ শফীকে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসা থেকে বের করে আনার সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকে দিয়ে তার মৃত্যু ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত : চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এর আগে আল্লামা শফী রহ এর ছেলে মাওলানা আনাসকে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর জোহরের নামাজের পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্ররা। তাঁরা মাদ্রাসার সব কটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষে ভাঙচুর করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে আল্লামা শফী রহ. এর কক্ষ ভাংচুরেরও। এছাড়াও সে সময় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহীকে মাদ্রাসার ভেতরে পেয়ে মারধর করেন ছাত্ররা। যা ভিডিও করে ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।

পরবর্তিতে ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ান আহমদ শফী। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় শুরা কমিটি। দাবি মেনে নেওয়ায় ওই দিন রাতে ছাত্ররা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর মৃত্যুর পর থেকেই হেফাজতের আমির নির্বাচন নিয়ে সংগঠনটির মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয় এবং ১৫ নভেম্বর কাউন্সিল করে হেফাজতের পদ বন্টনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তিতে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তোলে আনাস মাদানীর অনুসারী একটি অংশ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রয়াত আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন। আর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সহ আরও অনেকে।

তবে সেই সংবাদ সম্মেলনকে আমলে না নিয়েই হাটহাজারী মাদরাসায় গত ১৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে হেফাজতের নতুন আমির নির্বাচিত হন জুনায়েদ বাবুনগরী। এর আগে তিনি সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন। তবে ১৫১ সদস্যের কমিটিতে আহমদ শফী রহ. এর ছেলে আনাস মাদানীসহ তাঁর অনুসারীদের কাউকে রাখা হয়নি।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন