ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি খালাস

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০২০

নেত্রকোনায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আসামিরা হলেন— জেলার পূর্বধলা উপজেলার কালডোয়ার গ্রামের মোকশেদ আলীর ছেলে শামীম, মন্তোষ রংদির ছেলে ভিকন ও টিকন, মৃত নরেন্দ্র শেমার ছেলে তাপস, বুধি গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে রূপ মিয়া।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একেএম ফজলুল হক খান ফরিদ, এএম মাহবুব উদ্দিন, বজলুল কবির, আফিল উদ্দিন, সাকিব মাহবুব ও সাইফুর রহমান রাহি এবং রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী এসএম শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোজাম্মেল হক।

পরে একেএম ফজলুল হক খান ফরিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় আসামিদের হাইকোর্ট খালাস দিয়েছেন।’

আসামিদের আরেক আইনজীবী সাকিব মাহবুব বলেন, ‘যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় আদালত আসমিদের খালাস দিয়েছেন।’

তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ রায়ের বিষয়ে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে অবহিত করা হবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রায় ১৮ বছর আগে নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার বাহাদুর গ্রামের এক কিশোরী ২০০২ সালের ২০ জুলাই মা ও বোন জামাইয়ের সঙ্গে পূর্বধলা উপজেলার সাত্যাটিতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশে রওয়ানা হন।

পূর্বধলার কুমারকালী ব্রিজে পৌঁছালে আসামিরা রিকশার গতিরোধ করে ভিকটিমকে পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এসময় মা ও বোন জামাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে এবং ওই কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরে কিশোরী মামলা দায়ের করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন নেত্রকোনার বিচারিক আদালত। এরপর ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। সেসবের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ৫ আসামিকে খালাস প্রদান করলেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন