মাওলানা মামুনুল হককে ‘একক’ আসামী করে করা মামলার আবেদন খারিজ

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২০

সম্প্রতি ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হককে ‘একমাত্র’ আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস-সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক। পরে শুনানি শেষে ওই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।

তবে হেফাজতের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও মাওলানা মামুনুল হককে আসামী করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে করা অপর দুটি মামলা আমলে নিয়ে তদন্তে রেখেছে আদালত। সম্প্রতি ভাস্কর্য ইস্যুতে এ পর্যন্ত অন্যদের আসামী করাসহ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলার আবেদন করা হলো। যার মধ্যে একক মামুনুল হক আসামী থাকা মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। এবং তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়া আসামী থাকা মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

এর আগে ভাস্কর্য বিরোধিতায় হুকুমের অভিযোগ এনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধেও মানহানি মামলার আবেদন করা হয়েছে। আর ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় একই মামলায় হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির জুনাইদ বাবুনগরী, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমকেও আসামী করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ মামলার আবেদন করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। মামলার শুনানি শেষে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়ায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে অপর যে দুটি মামলা হয়, সোমবার সেই দুটি মামলা আমলে নিয়ে আদালত আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

সেখানে বলা হয়েছে, মামুনুল হক ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ‘ভেঙে ফেলার হুমকি দেন’, যা দেশ ও সরকারের স্থিতিশীলতাকে ‘হুমকির মুখে’ ফেলে দিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলবেন। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে বলেন, কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে। এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য করুন