৭ বছর পর হঠাত করে হেফাজতের মামলা সক্রিয় করছে সরকার

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

নাস্তিক মুরতাদরা ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করা ও শাহবাগে অবস্থানের নামে ইসলামবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ২০১৩ সালে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করেছে দেশের ইসলামপন্থীদের সর্ববৃহত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

হেফাজতের আমীর, এদেশের সর্বপ্রভাবের আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ এর নেতৃত্বে ধারাবাহিক সে আন্দোলনের চূড়ান্ত রুপ দেখা যায় ১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধের মধ্য দিয়ে।

এদিন ঢাকা অবরোধ অবরোধ কর্মসূচীতে হেফাজতকে বাধা দেয় ক্ষমতাসীনরা ও ইনশৃঙ্খলাবাহিনীরা। এতে হেফাজতে অনুপ্রবেশকারী অনেকের সাথে সহিংসতা সৃষ্টি হয় তাদের।

পরবর্তিতে এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মোট ৮৪ টি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর এসব মামলার পূনরায় তদন্ত  শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। খবর ডেইলি স্টারের।

হঠাত করে দেশের আলেমরা সম্মিলিতভাবে ভাস্কর্য নির্মানের বিরোধিতায় নামায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এর জন্য বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে এবং এর জন্য চার্জশিট বা অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

সম্প্রতি একটি মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, “আমার বাবার ভাস্কর্য স্থাপন করলেও তা সরিয়ে ফেলা হবে।”

অপরদিকে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর মূর্তি বা ভাস্কর্যকে  হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনসহ দেশের সব আলেম ওলামা।

তবে ভাস্কর্য সম্পর্কে একাধিক হেফাজত নেতার বক্তব্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৩ সালে ৫ মে কওমি হেফাজতে ইসলামের সদস্যরা রাজধানীতে আন্দোলন করে। এসময় রাতের আঁধারে মতিঝিল ও পল্টন এলাকা থেকে তাদের উৎখাত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এসময় হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের বিরুদ্ধে দোকান, গাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আভিযোগ আনা হয়। এই ঘটনায় ঢাকাসহ সাত জেলায় মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়।  মামলাগুলোতে তিন হাজার ৪১৬ জনের নামে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এসব মামলার মধ্যে শুধুমাত্র বাগেরহাটে দায়ের হওয়া মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশ বা প্রসিকিউটররা হত্যা চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে না পারায় সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বাকী মামলার মধ্যে ১৮টির তদন্ত চলছে এবং দুটির অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও স্থবির অবস্থায় রয়েছে ৬২ টি মামলা।

সরকারের আগ্রহের অভাবে মামলাগুলোর তদন্ত থমকে আছে বলে গণমাধ্যমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে কামাল বলেন, ‘পুলিশের হাতে অনেক বিচারাধীন মামলা ছিল যেগুলোকে শেষ করতে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে। এখন তারা ধীরে ধীরে এই মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করবে।’

মোট ৮৩টি মামলার মধ্যে সাতটি হত্যা মামলাসহ ৫৩টি মামলা হয়েছে রাজধানীতে। এতে আসামি করা হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, যে কোনো মামলার তদন্তের গতি যেকোনো সময় বাড়তে পারে। ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছুই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম জানান, আসামিদের মধ্যে ‘বিভিন্ন আন্দোলনে’ জড়িত ছিলেন এমন কেউ রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখছেন তারা।

পুলিশের উপপরিদর্শক শাহজাহান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীকে ২০১৩ সালের ৬ মে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ২৯ মে জামিন পান। এরপর থেকে তিনি জামিনেই রয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের দাবি, শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাদের দুই হাজার নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। তবে তাদের কোনো নাম পরিচয় বা লিস্ট প্রকাশ করেনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এছাড়া গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকার তিন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এসব মামলা নতুন করে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্বের কেউ এখনও কথা বলেননি।

হেফাজত বিষয়ক সকল সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন :

মন্তব্য করুন