শীতে রাজধানীর অলিগলিতে পিঠার মহা উৎসব

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০
ইউসুফ পিয়াসঃ দেশে পর্যায়ক্রমে বাড়ছে শীত । শহরে হয়তো  কিছুটা কম তবে গ্রাম চলছে পুরোদমে  শীতের আমেজ। আর এই শীতের সাথে সাথে  প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছে নগরের বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দাদের। যেন তারা এই শীতকে গায়ে জড়িয়ে নিতে চাচ্ছে। আর সেজন্যইতো শীত বাড়ার সাথে সাথে মৌসুমি আয়োজনগুলোও সাজিয়ে নিচ্ছে নিজেদের মত করে। হেমন্তের শুরুতেই দেখা যায় শহরের রাস্তার ধারে মাটি ও গ্যাসের চুলা নিয়ে বসে যান মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। এসব দোকানে মিলে হরেক রকম পিঠা চিতই, ভাপা এর মাঝে অনন্যা। গরম-গরম ধোঁয়া ওঠা চিতই পিঠার মূল আকর্ষণ ভর্তা। আহা দেখলে যেন লোভ সামলানো যায় না। আর  খেজুরের গুড় ও নারকেল দিয়ে তৈরি ভাপাও পাওয়া যাবে এসব অস্থায়ী পিঠার দোকানগুলোতে।
হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময়টা হলো পিঠার সময়। হালকা শীতে চুলার পাশে দাঁড়িয়ে বাঙ্গালির পিঠা খাওয়ার মজাই অন্যরকম! শীতে প্রতিদিনই গ্রামের মানুষ প্রায় বিভিন্ন রকমের পিঠার স্বাদ নিয়ে থাকেন। তবে হিমেল মিষ্টি হাওয়া বাতাসে পিঠা বঞ্চিত থাকেনা নগরবাসীও! অলিগলি থেকে শুরু করে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত ও দোকানে তৈরি হয় হরেকরকম শীতের পিঠা। সন্ধা নামার সাথে সাথে দোকানগুলোতে জমে উঠে পিঠা খাওয়ার ধুম।
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের  পাশেই পিঠার দোকান দিয়েছেন আজিজ মিয়া। তিনি জানালেন, ১৫ দিন আগে থেকে তিনি এখানে পিঠা বিক্রি করছেন। তিনি তেলের পিঠা, ভাপা আর চিতই পিঠা বিক্রি করছেন। চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ও শুঁটকির ভর্তা খাচ্ছেন অনেক ক্রেতা, তাই এগুলোও রাখা হয়েছে তার পিঠা দোকানে ।
ধোলাইপাড় মোড়ের পিঠা দোকানদার কামাল বলেন, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চিতই পিঠা। আর চিতই পিঠার মূল আকর্ষণ কয়েক পদের ভর্তা। সরিষা, কালোজিরা, ধনেপাতা, শুঁটকি, ডালের ভর্তার চাহিদাও বেশি। একটি চিতই পিঠা বিক্রি হয় পাঁচ টাকায়। ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে। শুক্রবার সন্ধায় দেখা যায়, চিতই, ভাপার পাশাপাশি নারকেল, কলা, তাল দিয়েও তৈরি পিঠাও বিক্রি করতে  দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্টলে ।
শনিআখড়া বর্ণমালা স্কুলের পাশেই পিঠা দোকান আব্দুল হক মিয়ার । ওই দোকানের প্রতিদিন সন্ধায় বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাওয়ার নিয়মিত কাষ্টমার দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী শেখ সায়েম ও মিল্টন। শীতে গরম গরম পিঠা খেতে কেমন লাগে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায় ‘যখন গ্রামে ছিলাম তখন শীতের সকালে আম্মু প্রায়ই খেঁজুরের রস বা গুড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করতেন। সকালের নাস্তা হিসেবে শীতের পিঠার সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। কিন্তু ঢাকাতে এসে সেই সুযোগ তো আর পাই না। তাই রাস্তার মোড়ে এসে সন্ধ্যার সময় গুড়ের তৈরি ভাপা পিঠা থেয়ে ওই স্বাধ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে পিঠা তো আমাদের ঐতিহ্য, এটাকে রক্ষা করা উচিত আমাদের।
যাত্রাবাড়িসহ গুলিস্তান, পল্টন, বেইলি রোড, বাংলামোটর, রামপুরা, বনশ্রী, মহাখালী,  মিরপুরে, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁও শিল্প এলাকার অলিগলি, ফার্মগেট, কলাবাগান, কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে, মোড়ে, ফুটপাতে, পাড়া-মহল্লায় ধুম পড়েছে শীতের পিঠা বিক্রির।
লেখকঃ শিক্ষার্থী দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

মন্তব্য করুন