এমসি কলেজে গণধর্ষণ: আট ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ এর মামলায় ছাত্রলীগের আট কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দুই মাসের অধিক সময় পর অভিযোগপত্র দেওয়া হলো। এ নিয়ে দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণের উপকমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমানকে (২৮) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মো. রাজন ও আইন উদ্দিন।

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, রনির বাড়ি হবিগঞ্জে, তারেক সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা, অর্জুনের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আর মাহফুজুর রহমান মাসুমের বাড়ি সিলেটের সদর উপজেলায়।

কোনো পদে না থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়া সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা যায়। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে সবাই ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ (২৫)। করোনার কারণে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাদের মারধর করে টাকাপয়সাও ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। ওই রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ধর্ষণবিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। এ ঘটনার পর জনমতের চাপে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণবিরোধী আইনও সংশোধন করে সরকার।

মন্তব্য করুন