আফগানে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে অস্ট্রেলীয় সেনারা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ করেছে: চীন

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

আফগানিস্তানের নিরীহ মানুষদের হত্যা করে অস্ট্রেলীয় সেনারা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ করেছে উল্লেখ করে বিচার চেয়েছে চীন।

দেশটির অভিযোগ, নিজেদের অপরাধ থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।

সম্প্রতি আফগান ইস্যুতে ১৩ অস্ট্রেলিয়ান সেনাকে নোটিশ পাঠায় অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স। এতে আফগান নাগরিক ও হাজতিদের হত্যা, হত্যার সহযোগী বা হত্যার সময় উপস্থিত থাকা এবং তা নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

নোটিশের জবাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হলেও ওই সেনারা বরখাস্ত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তাতে আফগানিস্তানে অস্ট্রেলীয় সেনাদের হত্যাযজ্ঞের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রমাণ হিসেবে ছবিও যুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের উত্তেজনা নতুন মোড় নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই ছবি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়ে পোস্টের জন্য চীনকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। এরপরই দেশটিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিজ সেনাদের অপরাধের মুখোমুখি হওয়া, অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত অস্ট্রেলিয়ার।

কয়েক সপ্তাহ আগে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সামনে আসলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও আর্মি কমান্ডার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে এ ঘটনাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩৬টি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৩টিতে অস্ট্রিলীয় সেনারা জড়িত ছিলেন। অনেকটা মজার ছলে হাজতে থাকা আফগানদের হত্যা করেছেন সেনারা। জুনিয়র সেনাদের দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে মরদেহের পাশে অস্ত্র রেখে হাজতিদের কোন্দল বলে চালানো হতো।

অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে নিজ দেশের সেনাদের হাতে ৩৯ জন নিরীহ আফগানকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেনাদের মধ্যে ‘যোদ্ধা সংস্কৃতি’র কারণে কয়েকজন সেনা সাধারণ নাগরিক, হাজতি ও কৃষকদের হত্যায় জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি আঞ্চলিক শক্তিধর চীনকে ঠেকাতে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। জাপান সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুগার সঙ্গে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের দীর্ঘ বৈঠকের পর এটি সই হয়।

‌‌‘রেসিপ্রোকাল অ্যাকসেস এগ্রিমেন্ট’ নামের ওই চুক্তিতে বলা হয়, একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করা, সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়া এবং যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় সহায়তা বাড়বে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। সেখানে এখন দেশ দুটি চীনের মোকাবেলায় একজোট হয়েছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া হাত মিলিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও।

সম্প্রতি এ চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টোকিওতে বৈঠক করেন। তারপরই বঙ্গোপসাগরে একযোগে নৌ-মহড়া চালায় তারা। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যৌথ নৌ-মহড়া চালালেও ১৩ বছর পর তাদের সঙ্গে যোগ দেয় অস্ট্রেলিয়া, নতুন করে যুক্ত হয় জাপান। চীনা চাপেই অস্ট্রেলিয়া ও জাপান এতদিন এমন তৎপরতা থেকে বিরত ছিল।

আই.এ/

মন্তব্য করুন