বেশিরভাগ আলেম মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ছিলেন

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

ইমাম ফারাবী: সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান নেন। মরহুম সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই, তার মাদ্রাসা চরমোনাই কামিল মাদ্রাসায় মুক্তি যোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল করেন, সেখানে থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও কৌশল বিনিময় করেন।

মাওলানা শাকের হোসাইন শিবলী তার আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আড়াইহাজারী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কী করবেন এ ব্যাপারে দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা হাফেজ্জী হুজুরকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,

‘পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করেছে, সুতরাং তারা জালেম। জুলুম আর ইসলাম এক হতে পারে না। তুমি যদি মুসলমান হও তবে পাকিস্তানিদের পক্ষে যাও কীভাবে? এটা তো জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের প্রতিবাদ প্রতিরোধ।’

‘জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম’ পাকিস্তানের সেক্রেটারি মুফতি মাহমুদ সব সময় বাঙালি মুসলমানদের পক্ষে ছিলেন। ২৬ মার্চের আগে তিনি ঢাকায় এসে এ অংশের নেতাদের বলে দিয়েছিলেন, ‘আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলুন, দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করুন।’ মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সে সময় আমার দায়িত্ব ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও যুবকদের যুদ্ধে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

তা ছাড়া মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, মাওলানা আবদুস সোবহান, মাওলানা দানেশ, মাওলানা আতাউর রহমান খান, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আড়াইহাজারী ও মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ প্রমুখ বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্টিফিকেটের অধিকারী। পাক হানাদার বাহিনী এসে কালিমা জিজ্ঞেস করত। বলতে পারলে বুঝত তারা মুসলমান। আর না পারলে হিন্দু প্রমাণিত হতো। এ ক্ষেত্রে অনেক আলেম নিজেদের ঘরে এসব হিন্দুদের আশ্রয় দিয়ে তাদের কালেমা শিখিয়েছেন এবং পাক বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা করেছেন।

ছবিতে ১৯৬৪ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে এক সমাবেশে মওলানা আবদুল হামিদ ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।

নাজমুল/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন