মহান বিজয়ের মাস শুরু: স্বাধীনতা কতটা অর্থবহ হলো?

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

শুরু হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে নবজন্ম লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশ। র্দীঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

১৬ ডিসেম্বর নব জন্ম লাভ করা স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৪৯ বছর পূর্ণ হবে। ২০২১ সালে ‍পূর্ণ হবে ৫০ বছর। ৫০ বছর পূর্তির সুবর্ণজয়ন্তিতে মহাসমারোহে উদযাপনের জন্য সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাপক আয়োজনের। সেই মহেন্দ্রক্ষণের ঘন্টা কড়া নাড়ছে দরজায়। বিজয়ের মাস সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, বাঙালি-অবাঙালি, জাতি-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিকামী জনতার সম্মিলিত প্রাণপণে লড়াইয়ের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশের সোনালী সূর্য ৭১’এর এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর উদিত হয়। ৩০ লক্ষ প্রাণের রক্তগঙ্গা আর ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে সূচনা হয় এ নব দিগন্তের।

৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিত সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কালুঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন বীর উত্তম জিয়াউর রহমান।

৭ মার্চ মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম-আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ জ্বালাময়ি মহাকাব্যের প্রেরণা নিয়ে মুক্তির লড়াইয়ে নেমে যায় সর্বশ্রেণীর মানুষ। লড়াই করে ছিনিয়ে এক আনে এক খন্ড লাল সবুজের পতাকা। গৌরবদীপ্ত বিজয়ের মাস জাতি শ্রদ্ধভরে স্মরণ করবে।

একাত্তরে স্বাধীনতার যে অগ্নিশিখা জ্বলেছিলো আজও তা চিরবহমান। কিন্তু মানুষের জীবনে কতটা মুক্তি এল, স্বাধীনতাই বা কতটা অর্থবহ হলো। বিজয়ের মাস এলে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয় পুরো জাতি।

 

নাজমুল/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন