বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলেমদের সম্পর্ক: আবু রেজা নদভী

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

ইসমাঈল আযহার: দেশে মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। আলেম-ওলামা বলছেন, তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহ. মুসলিম হিসেবে ইন্তেকাল করেছেন। এখন ভাস্কর্যের নামে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি তৈরি করে তার কবরে আজাব পৌঁছাতে চান না তারা। সরকার দলীয় নেতারা একের পর ভাস্কর্য নির্মাণের পক্ষে আলেম সমাজকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিতর্কের জেরে অনেকেই আলেম সমাজকে স্বাধীনতা পক্ষের বিরোধী শক্তি বলে মন্তব্য করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল, স্বাধীনতা যুদ্ধে আলেম সমাজ ব্যাপকভাবে শরীক ছিল। তৎকালীন আলেমদের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর সুন্দর সম্পর্ক ছিল। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী তার এক পোস্টে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলেম সমাজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, তখন অনেক আলেম নেতৃত্বও দিয়েছেন।

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর লিখাটি হুবহু পাঠকের জন্য তুলে দেওয়া হল-

পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারি মুফতি মাহমুদ রহ. (মুফতি ফজলুর রহমান সাহেবের বাবা, সীমান্ত প্রদেশের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী) পশ্চিম পাকিস্তান জমিয়তের কয়েকজন এমপিকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেন। বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডিস্থ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

সঙ্গে ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে আল্লামা শামসুদ্দীন কাসেমী রহ., আল্লামা মুহিউদ্দিন খান রহ., আল্লামা আশরাফ আলী রহ. ও মাওলানা মশিউর রহমান সাদী রহ.।

ধানমন্ডি রোড তখন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীতে লোকারণ্য।

মুফতি সাহেবের গাড়ি ভিড় ঠেলে বঙ্গবন্ধুর বাসায় পৌঁছুলে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ মুফতি সাহেবকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বুক মিলিয়ে আলিঙ্গন করেন।

বারান্দায় উঠে মুফতি সাহেব বললেন, “শেখ সাহেব, আপনার সঙ্গে আমার একান্ত ব্যক্তিগত আলোচনা আছে।” সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু মুফতি সাহেবকে নিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্যরা বারান্দার চেয়ারে বসলেন। মরহুম তাজ‌উদ্দিন সাহেব ও নজরুল ইসলাম সাহেব আলেম নেতৃবৃন্দের সাথে বাইরে বসে রইলেন।

৪৫ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু মুফতি সাহেবকে হাসিমুখে বিদায় দিলেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন