বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নেই: আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মবলাম্বীদের সম্প্রীতিসহ অবস্থানের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। এ দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নেই। যদি থাকত তাহলে প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারি সব স্তরের চাকরিতে ৩০ শতাংশ পদে নিয়োগের সুযোগ সংখ্যালঘুরা পেতেন না।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় নূর হোসাইন কাসেমী এ কথা বলেন।

তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সাথে সমান সুযোগ পেয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। যদি কোটা থাকত, তাহলে তারা এত সুযোগ পেতেন না। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শুধু সরকারি বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে সমান অধিকার ভোগ করে আসছেন তারা। আবার ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তারা স্বাধীনভাবে ব্যবসায় করছেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়, তথা মুসলমানেরা যদি বিজেপির উগ্র হিন্দুদের মতো হতেন, তাহলে এত সুযোগ-সুবিধা দেয়া তাদের ক্ষেত্রে দুষ্কর হয়ে পড়ত।

কাজেই উদার সাম্প্রদায়িকতার দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে অন্যতম। আল্লামা কাসেমী আরো বলেন বাংলাদেশের এ সম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতে একটি চিন্হিত মহল গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, তারা মুসলমানদেরকে ছুড় ছুড়ি দেওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে ইসলাম, মুসলমান ও হেফাজতে ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ করে। অপর দিকে সংখ্যালগুদের বসতবাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা করে।

এ মহলটির ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, সম্প্রীতি বিনষ্টের সকল চক্রান্ত সম্মিলিতভাবে প্রতি হত করতে হবে। জমিয়ত মহাসচিব বলেন,ভারত নিজেকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ ভাবে সেখানে কি সরকারি চাকরিতে সংখ্যালঘু মুসলমানেরা এত সুযোগ সুবিধা পায় কিংবা এর কল্পনা করতে পারেন? কিংবা প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন?

বাস্তবতা তো এই, ভারতের মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণী বা তারও নিচে গণ্য করা হয়। মুসলমানদের ওপর গরু জবাই এবং গোশত রাখা নিষিদ্ধ করার মতো বিধিনিষেধ আরোপিত হয় ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে। কিন্তু বাংলাদেশের কোথাও হিন্দুদের জোর করে মুসলমান করা কিংবা কোথাও হিন্দুদের জোর করে গরুর গোশত খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ পাস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে।

সুতরাং আমরা এ সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আল্লামা কাসেমী আজ ২৩ নভেম্বর সোমবার সকাল ১০.৩০মিনিটে,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্দোগে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে “সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচকের আলোচনায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, নাগরিকঐক্যের আহবাযক জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহসভাপতি আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক,খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড,আহমেদ আহমেদ আব্দুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব সুকুমার ভুড়ুয়া, মুসলিম লীগের মহাসচিব এডভোকেট কাজী আবুল খয়ের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়বে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মোস্তফা তারিকুল হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া,মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী,সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা এখলাছুর রহমান রিয়াদ,প্রমুখ।

মন্তব্য করুন