ট্রাম্পকে ফেলে এবার বাইডেনের দিকেই ঝুঁকছে সৌদি আরব

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিনন্দন বার্তায় ভাসছিলেন জো বাইডেন তখন দৃশ্যত মুখে কুলুপ এঁটেছিল সৌদি আরব।

পরে সমালোচনার মুখে তাকে অভিনন্দন জানালেও এ জন্য ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় নেয় মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজতান্ত্রিক দেশটি।

যদিও বাইডেনের শপথগ্রহণের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদের সুরেও পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শনিবার (২১ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জো বাইডেনের প্রতি রিয়াদের আশাবাদের কথা জানিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

প্রিন্স ফয়সাল আশাবাদ জানিয়ে বলেন, জো বাইডেনের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনের নীতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা হবে। তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের যে কোনো আলোচনা হবে সহায়তামূলক। এ ব্যাপারে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে রিয়াদ নির্বাচনি প্রচারের সময় যিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার অঙ্গীকার করেছিলেন।

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের।

ট্রাম্প-কুশনারের প্রচেষ্টাতেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশ। সৌদি আরবও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহিতা থেকেও যুবরাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত হোয়াইট হাউজে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারাল রিয়াদ। সাংবাদিক জামাল খাসোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের জবাবদিহিতার দাবি তুলেছিলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচনি প্রচারে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে মার্কিন সহায়তা বন্ধের।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বোমা হামলা থেকে বাদ পড়ছিল না স্কুল থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি এমনকি জানাজার নামাজও। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদকে সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন ওবামা প্রশাসন। ওই প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র বাণিজ্যে উদ্যোগী হন ট্রাম্প। ফলে মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। দৃশ্যত এখন সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার প্রয়াস নিয়েছে রিয়াদ।

আই.এ/

মন্তব্য করুন