ভারতে মুসলিমদের ভরসার পাত্র ওয়াইসি

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে উত্থান ঘটেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির। সর্বত্র চলছে তাকে নিয়ে চর্চা। ভোটের রাজনীতিতে কোথাও কোথাও প্রভাবক রূপে আবির্ভাব ঘটছে এই নেতার।

তিনি ছিলেন আঞ্চলিক দলের নেতা। কিন্তু ক্রমেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ঘটছে তার উত্থান। দক্ষিণের হায়দারাবাদ থেকে উত্তরের বিহার হয়ে পূর্বের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসী।

এক সময় নিজাম শাসিত হায়দারাবাদ ছিল অন্ধ প্রদেশের অংশ ও রাজধানী। এখন সেটি নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানার মূল কেন্দ্র। হায়দারাবাদের রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক কর্তৃত্ব ওয়াইসীদের। তার পিতাও বার বার সংসদে জিতেছেন। তিনি বহু বছর ধরে সংসদ সদস্য। তার ভাই আকবরউদ্দিন ওয়াইসীও উদীয়মান নেতা।

একদা ডাকসাইটে ক্রিকেটার, ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চশিক্ষিত, ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি স্পষ্ট ভাষণ ও লড়াকু মনোভাবের জন্য পুরো ভারতের নজর কেড়েছেন। দলীয় রাজনীতিকেও তিনি আঞ্চলিক গণ্ডি থেকে জাতীয় স্তরে উত্তরণ ঘটাচ্ছেন। ফলও পাচ্ছেন উল্লেখ করার মতো। বিহারের সদ্য সমাপ্ত বিধান সভা নির্বাচন সে প্রমাণবহ।

ওয়াইসি মাঠে নামায় এবার বিহারে মুসলিম ভোটের ভিন্নচিত্র দেখা গেছে। বিহারের কিছু কিছু এলাকায় মুসলিম ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেসব স্থান বেছে নিয়ে ২০ জন প্রার্থী দিয়েছিলেন হায়দারাবাদের নেতা সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। পেয়েছেন পাঁচটি আসন। অনেক আসনে দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে দলটি। কোথাও কোথাও তাদের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে নির্ধারিত হয়েছে বড় দলগুলোর জয়-পরাজয়।

সংক্ষেপে ‘মিম’ নামে পরিচিত ওয়াইসির দল যে ২০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, সেখানে মোট ভোটের সংখ্যা চার কোটি, যার মধ্যে ‘মীম’ পেয়েছে ১.২৪% ভোট। এই ভোটগুলো নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে।

বিহারের নির্বাচনী বিজয়ের ক্ষেত্রে বিজেপি-বিরোধী ভোটের ভাগাভাগিকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। বিজেপি আসন বেশি পেলেও বিজয় পেয়েছে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে। বিজেপি-বিরোধী ভোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনের ফল হতো অন্য রকম। ‘মীম’কে এজন্য দায়ী করছেন কেউ কেউ।

ওয়াইসির লোকজন মনে করেন, ‘বিজেপি বা অন্য দলের লাভের চেয়ে তাদের। নিজেদের লাভ-ক্ষতি নিয়েই তারা বেশি চিন্তিত। নানা দলের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে মুসলিমগণ বছরের পর বছর ভোট দিয়ে অবহেলা, বঞ্চনা ও নির্যাতন ছাড়া কিছুই পান নি। ফলে আমরা নিজেদের জন্য লড়াই করছি। কে জিতলো বা হারলো, সেটা দেখছি না।’

বিজেপি-বিরোধী ভোট বিভক্ত করা প্রসঙ্গে ‘মীম’র বক্তব্যও স্পষ্ট। দলের মুখপত্ররা বলছেন, ‘আমরা বিজেপি বিরোধী জোটে অংশ নিতে চেয়েছিলাম। আমাদের নেওয়া হয়নি। তাহলে ভোট ভাগ করলো কারা? বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে লড়তে চেয়েও আমরা পারিনি। তাই আমাদের আলাদা লড়তে হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে বা বিপক্ষে প্ররোচিত করে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটকে ব্যবহারের রেওয়াজ পুরনো। বার বার তাদেরকে ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে।

ওয়াইসির মধ্যে নিজেদের পরিচিতি ও অধিকারের জায়গা পাচ্ছেন মুসলিমরা।

ওয়াইসি দীর্ঘ বছর নির্বাচিত হয়ে আসছেন আগের অন্ধ ও বর্তমানের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দারাবাদ থেকে। তার কাজের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তিনি এবার তার নিজের এলাকার বাইরে পিছিয়ে থাকা মুসলিম এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছেন।

নির্বাচনে প্রার্থীও দিচ্ছেন। বিহারের আগে মহারাষ্ট্রেও তার প্রার্থী জয় পেয়েছেন। সামনে তিনি আসাম, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও প্রার্থী দেবেন বলে ঘোষণা দিয়ে কাজ করছেন।

অনেকে মনে করেন, ওয়াইসি মাঠে নামলে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ২০২১ সালের বিধান সভা ভোটের চেহারা বদলে যাবে। মুসলিম ভোট পেয়ে অতীতে যারা সহজে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা এবার সুযোগ হারাবেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন