পায়ের গোড়ালি ব্যথা? জেনে নিন কি করবেন

প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

মানুষের পায়ে ২৬টি হাড়ের মধ্যে গোড়ালির হাড় সবচেয়ে বড়। যা শরীরের ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে। হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পায়ের ওপর যে চাপ পড়ে সেই চাপের বেশির ভাগটাই বহন করে গোড়ালির হাড়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে ব্যথা করে থাকে আমাদের গোড়ালির হাড় । যার ভুক্তভোগি অনেকেই। কিছু নিয়ম মেনে চললেই গোড়ালির ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, হাঁটার সময় পায়ের ওপর শরীরের ওজনের ১.২৫ গুণ চাপ পড়ে। দৌড়ানোর সময় চাপ পড়ে ২.৭৫ গুণ। যার ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোড়ালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ব্যথা হয়। এ ছাড়াও অনেক কারণেই গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

তার অন্যতম হলো প্লান্টার ফাসা: প্লান্টার ফাসা হলো পায়ের গোড়ালি থেকে আংগুল পর্যন্ত একটি শক্ত লিগামেন্ট বা টিস্যুর চ্যাপ্টা ব্যান্ড, যা আমাদের পায়ের বাঁক (আর্চ) কে সাপোর্ট দিয়ে থাকে। প্লান্টার ফ্যাসাইটিস এই শক্ত লিগামেন্টে স্ট্রেইন বা চাপের কারনে ইনফ্লামেশন হয়,ফলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হয়,এমনকি ফুলেও যেতে পারে। একে প্লান্টার ফাসাইটিস বলে।

কোলাজেন ডিজেনারেশন হয় প্লান্টার ফাশাতে।(ক্যালকেনিয়াম টিউবরোসিটি এর চারপাশের পেরিফ্যাসিয়াল স্ট্রাকচারে হয়). পায়ের সাধারণ বায়োমেকানিক্সে প্লান্টার ফাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষের চেয়ে মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

কোন সময় আপনার পায়ে ব্যথা বেশি হয় তার কিছু লক্ষণ দেয়া হলো- 

  • সকালে বিছানা থেকে নেমে হাটতে গেলে গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব হয়।
  • দীর্ঘসময় বসে থাকার পর হাঁটার সময় ব্যথা হয়।
  • খালি পায়ে ও শক্ত জায়গায় হাঁটলে ব্যথা বেশি হয়।
  • সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা করলে ব্যথা বেড়ে যতে পারে।
  • পায়ের পাতা উপরের দিকে উঠালে ব্যথা অনুভূত হয়।

[ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন, হিস্টোরি,এক্সরে ,আলট্রাসনোগ্রাফি, এম আর আই ডায়াগনোসিস করতে সহায়তা করে।] কারণ সাধারনত প্লান্টার ফাসাতে অতিরিক্ত টান বা স্ট্রেস পড়লে কিংবা ফাসাতে কোন কারনে আঘাত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলে প্লান্টার পাসাইটিস হতে পারে।

এছাড়াও আরো কি কি কারণে পায়ের ব্যথা তৈরি হয়- 

  • প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পায়ের পাতার উপর একটানা দাঁড়িয়ে থাকলে।
  • দীর্ঘ সময় গোড়ালিতে চাপ পড়ে এমন কাজ করলে।
  • শক্ত ফ্লাট জুতা পড়লে।
  •  পায়ের পাতার অস্বাভাবিক বাঁকা থাকলে।
  • সঠিক পরিমাপের সু/জুতা ব্যবহার না করা।
  • পায়ের পিছনের কাফ মাসল অথবা TA টাইট থাকলে।
  • অতিরিক্ত ওজন বা বিএমআই বেশি.
  • আঘাত জনিত কারণ।
  • পেচ কাভাস অথবা পেচ প্লানাস ডিফর্মিটি এর জন্য।
  • ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস থেকে।

প্রতিরোধ করার উপায়:

প্রতিরোধ করার উপায় ওজন বেশি থাকলে কমানো, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে না থাকা, নরম সোলের জুতা পড়া, খালি পায়ে শক্ত জায়গায় না হাঁটা, পায়ের তালুর উপর অত্যাধিক ভর না দেয়া।

চিকিৎসা:

90 শতাংশ রোগী কনজারভেটিভ চিকিৎসা দ্বারা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

  • ব্যথা কমানোর জন্য:-ব্যথানাশক ওষুধ,বরফ ব্যবহার করা যায়
  • ফিজিওথেরাপিস্ট কর্তৃক DTFM আর্চ এবং ইনসার্সন পয়েন্টে দেওয়া যায়.
  •  মডিফাই সু, নাইট স্প্লিন্ট ব্যবহার করা হয় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। এছাড়াও রাতের বেলা পায়ের তালুর অবস্থান ঠিক রাখার জন্য রেস্টিং প্যাডেড ব্যবহার করা যেতে পারে।
  •  রোগীকে যথাযথ ভাবে প্লান্টার ফাসা স্ট্রেচিং, একহিলিস টেনডন স্ট্রেচিং, কাফ মাসল স্ট্রেচিং শেখাতে হবে। যদি কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে ব্যথা না কমে তাহলে বটুলিনাম টক্সিন, পিআরপি, স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়।
  •   এতেও যদি না কমে সার্জারি সর্বশেষ অপশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পরামর্শ: সাইফুল ইসলাম
ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

 

মন্তব্য করুন