আত্মগোপন থেকে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিলেন সেই তিথী সরকার

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২০

ফয়সাল আরেফিন, জবি সংবাদদাতা: ইসলাম ও রাসূল (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তিথী সরকার আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) । তিথীর পরিকল্পনা ছিলো, অপহরণের দায় কারও ওপর চাপিয়ে দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত ঘটনা থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন এবং ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত হওয়ার আগ মুহূর্তে লাপাত্তা হয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় পালিয়ে বেড়ানো তিথীকে গ্রেফতার করার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। গত বুধবার (১১ নভেম্বর) নরসিংদীতে তিথীর সদ্য বিবাহিত স্বামী শিপলু মল্লিকের দূর-সম্পর্কীয় চাচা দেবাশীষ রায়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ব্রিফিংয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিথী সরকার তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট, কমেন্ট ও তথ্য শেয়ার করেন। যার ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমাবেশ করেন। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৬ অক্টোবর জবি-২০০৫ আইন এর ধারা ১০(১১)-এর উপাচার্যের ক্ষমতাবলে সিন্ডিকেটের অনুমোদনসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তিথী সরকারকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। তিথী সরকারকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দফতর সম্পাদক পদ থেকেও সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, (অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে) তিথী ২৫ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে তার প্রেমিক শিপলু মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাগেরহাটে চলে যান। সেখানে তিনি শিপলুকে বিয়ে করেন এবং বাগেরহাটে অবস্থান করেন। এরপর তিনি ৯ নভেম্বর ঢাকায় আসেন। পরে নরসিংদীতে শিপলুর দূর-সম্পর্কীয় চাচা দেবাশীষ রায়ের বাসায় ওঠেন। সেখানে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তিথীকে বুধবার গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ টিম।

সিআইডি জানায়, গত ৩১ অক্টোবর সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম লক্ষ্য করে, সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথী সরকারকে সিআইডির মালিবাগ অফিসের চারতলা থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার’ শীর্ষক একটি মিথ্যা পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছিল। এই সংবাদটি দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভাইরাল করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সিআইডির অভ্যন্তরে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করে সাইবার পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে অন্যতম গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামে একজনকে গ্রেফতার করে সাইবার পুলিশ। এ বিষয়ে নিরঞ্জন বড়ালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের কাছে থাকা মামলার তদন্ত চলাকালে গোপন তথ্য পাওয়া যায় যে, তিথী সরকার স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থেকে গ্রেফতার/অপহরণের নাটক সাজাচ্ছেন।

সিআইডি জানায়, ২ নভেম্বর পল্টন থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সংক্রান্ত সিআইডির মামলায় তিথী সরকার এবং শিপলু মল্লিককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

দেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের তথ্য ও সংবাদ সঠিকভাবে যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করতে সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হলো।

নাজমুল/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন