ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে অস্ট্রিয়ায় ৩০ মুসলিম গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

গত সপ্তাহে ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে ৩০ জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রিয়ান পুলিশ। সোমবার পূর্বপরিকল্পিত এক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বিশেষ বাহিনী ও এক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা যৌথভাবে ‘অপারেশন লাক্সার’ নামে এই অভিযানটি পরিচালনা করে। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে দেশব্যাপী একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এতে হামাসের অস্ট্রিয়ান শাখা, ফিলিস্তিনি গ্রুপ এবং আন্তঃদেশীয় ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের ৩০ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে আরও ৭০ জন ব্যক্তির ওপর তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযানের সময় স্মার্টফোন, নথি, কম্পিউটার এবং প্রচুর নগদ অর্থ জব্দ করেছে পুলিশ। তবে কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক খুঁজে পাওয়া যায়নি। আটককৃতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ সিল করে দেয়া হয়েছে।

এর আগে সম্প্রতি অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদ আমাদের সমাজকে বিভক্ত করতে চায়। এই বিদ্বেষকে স্থান দেয়া উচিত নয়। শত্রু চরমপন্থী এবং সন্ত্রাসবাদী। অসহিষ্ণুতা সহ্য করা হবে না।’’

ইতোমধ্যে রাজধানী ভিয়েনায় দুটি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ধারণা, বন্দুকধারীরা এখানে প্রায়ই আসে।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রাঁর সঙ্গে বৈঠকের জন্য অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর প্যারিস সফরে যেতে পারেন। তারা রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইউরোপীয় ফ্রন্ট গড়ে তুলতে চাইছেন।

শিগগিরই এই জুটি জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়নের সঙ্গেও দেখা করবেন।

গত ২ নভেম্বর নভেম্বর ভিয়েনায় দায়েশ-অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী হামলায় চার জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। তবে হামলা কারা করেছে সে ব্যাপারে সরকার নিশ্চিত জানে কিনা, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

আই.এ/

মন্তব্য করুন