হিন্দু সংঘের উসকানী বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ চেয়ে যা বলেছে ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

গতকাল (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রামে ‘হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে বাংলাদেশের বৃহত ইসলামী রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সর্ববৃহত অরাজনৈতিক ইসলামী দল ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ নিয়ে দেওয়া উগ্র স্লোগান ও হেফাজত-চরমোনাই কর্মীদের ধরে ধরে জবাই করার মতো উগ্র স্লোগানের কঠোর বিরোধিতা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বিষয়টির আইনগত সুরাহা চেয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে দলটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসক বরাবর আজকের এই স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসককে দেয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের অভিযোগপত্রে যা আছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো এখানে :

বরাবর,

মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম।

বিষয়: হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নামক সংগঠনের কতিপয় উগ্র কর্মিদের চরমোনাই ও হেফাজতকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক স্লোগান বিষয়ে প্রতিকার প্রসঙ্গে।

জনাব,

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি পরমতসহিষ্ণু, শান্তিপ্রিয়, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও দেশের আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক দল। আমরা বিশ্বাস করি, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা, মানব-জীবনের সর্ববিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে ইসলামি নীতি-আদর্শের অনুসরণে বিশ্বাস করে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো সাম্প্রদায়িক দল! এটা অবশ্যই নয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলামসহ কোনো ইসলামি দলের সাম্প্রদায়িকতার নজির নেই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অবশ্যই দেশকে ইসলামি আদর্শের আলোকে গড়ে তুলতে চায়। তবে তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে, জনগণের সম্মতিতে এবং গণমানুষের মতামতের ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শক্তিপ্রয়োগ, জঙ্গিবাদের আশ্রয়, সহিংসতা ও দেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কর্মসূচির শক্ত বিরোধিতা করে। দেশকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে চাওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমাদের অমুসলিম ভাইদের ওপর ইসলামের নিয়ম-নীতি চাপিয়ে দেওয়া হবে বা তাঁদের ধর্মীয়-রাজনীতিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হবে। কারণ মুসলমানদেরকে পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ‘লা ইকরাহা ফিদ্দীন (ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি চলবে না) [সূরা আল-বাকারা: ২৫৬]।’

আরও পড়তে পারেন : 

হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের উসকানীকে বাংলাদেশের জন্য নজিরবিহীন বললেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

হেফাজতের বিরুদ্ধে রাম-বামদের উস্কানি সহ্য করা হবে না: আল্লামা বাবুনগরী

বাংলাদেশি হিন্দুদের বাঁচাতে ভারতের সেনা পাঠানোর হুমকি বিজেপি সাংসদের

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয় – ইসলাম অন্য ধর্মের উপাস্য, দেব-দেবী, মূর্তি-মন্দির ও প্যাগোডা-গির্জার প্রতি অসম্মান, অশ্রদ্ধা, অবমাননা, ব্যঙ্গকরণ ও গালি দেওয়াকে নিষেধ করেছেন, পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওয়া লা তাসিবুল্লাযীনা ইয়াদ্‘ঊনা মিন দুনিল্লাহি, ফায়াসুব্বুল্লাহা আদ্ওয়ান বিগাইরি ইলমিন (আল্লাহ ছাড়া যারা অন্যের ইবাদতকে তাদেরকে গালি দেবে না, কারণ এতে বাড়াবাড়িবশত তারা আল্লাহকে গালি দেবে) [সূরা আল-আনআম: ১০৮]।’

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন রহমতুল লিল আলামীন (পুরো জগতবাসীর জন্য শান্তির অগ্রদূত), তিনি নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের জন্য শুধু রহমত ছিলেন না, শুধু মুসলমানদের জন্য নন, সমগ্র জগতের জন্য তিনি ছিলেন শান্তির অগ্রদূত। অমুসলিমদের অধিকারের বিষয়ে মুসলমানদেরকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘সাবধান! যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের প্রতি অবিচার করলো কিংবা তার অধিকার খর্ব করলো বা তাকে তার সামর্থ্যে বাইরে কষ্ট দিল অথবা তার সন্তুষ্টি ছাড়াই কোনো কিছু তার কাছ থেকে আদায় করে নিল এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন (আল্লাহর দরবারে) আমি নিজেই বাদী হবো [সুনানে আবু দাউদ: ৩০৫৪]।’ রহমতের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, ‘অমুসলিম প্রজাদেরকে আমার দেয়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা যথাযথভাবে অব্যাহত রাখো [আল-আহকামুস সুলতানিয়া, ১/২৮২]।

যুগে যুগে মুসলিম শাসক, ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণ ও ইসলামি নেতৃবৃন্দ ইসলামের এ নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। তাই যুদ্ধে গমনের পূর্বে ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.) সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় বিশেষভাবে একথাগুলোর উল্লেখ করতেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করো না, পলায়নপরদেরকে পিছনে ধাওয়া করো না, আহতকে নিহত করো না, নিহতের লাশ বিকৃত করো না, শিশু-বৃদ্ধ ও নারীদের হত্যা করো না, উপাসনালয় ভাঙচুর করো না, ধর্মীয় পুরোহিতদের হত্যা করো না [ড. মাহমুদুল হাসান, সন্ত্রাস নয়, ইসলাম শান্তির ধর্ম]।’

আরও পড়তে পারেন : 

হিন্দু সংগঠনের উসকানিমূলক বক্তব্য : আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপি প্রদান

এবার হিন্দু পরিষদের মিছিলে হেফাজত-চরমোনাই নিয়ে উগ্র স্লোগান

হেফাজত-চরমোনাই‘র বিরুদ্ধে উগ্র স্লোগান, ভিডিও সরিয়ে ফেলল হিন্দু পরিষদ

স্মারকলিপিতে তারা বলেন – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম ও অন্যান্য সহী ধারার ইসলমী দলগুলো নিশ্চয়ই ইসলামি আদর্শবাদী দল। প্রিয় নবীজির অবমাননা, ধর্মবিদ্বেষ, ইসলাম ও ধর্মীয় সিম্বল নিয়ে কটূক্তি, সহিংস নাস্তিকতার প্রসার, সেক্যুলারিজমের আড়ালে উগ্র ধর্মহীনতার চর্চা এবং ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে এ দেশের ইসলামি দলগুলো সদা-সোচ্চার, একথা সত্য। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ইসলামি দল বশিষে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমাদের অমুসলিম হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি, না তাদের ধর্মের সমালোচনা করেছে, না তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান-উৎসব পালনে বাধা দান করেছে। অমুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও মূর্তি ভাঙচুরের বিভিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন রাজনীতিক দলের স্থানীয় নেতাদের নাম ওঠে আসলেও এখনও এমন কোনো ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নূন্যতম সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এর একটিই কারণ, ইসলামি দলসমূহ সত্যিকার অথেই ইসলামের অনুসরণ করে, ইসলামে এসব নিষিদ্ধ বলে ইসলামি দলসমূহ এসব গর্হিত কাজ কখনো সমর্থন করে না এবং তাতে তারা কখনই নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেনি।

আমাদের পাশবর্তী রাষ্ট্র ভারতে পাঁচশত বছরের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে মন্দিরে রূপান্তর করা হচ্ছে। আরও প্রায় ৩৫০০ মসজিদকে কথিত হিন্দু মন্দির বলে চিহ্নিত করে সেগুলোকে মন্দিরে রূপান্তরের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন সেখানকার ধর্মপন্থী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় পণ্ডিত ও পুরোহিতরা। গোটা ভারতে জনসংখ্যার ২০ ভাগের বেশি জনগণ মুসলমান হলেও বিচারপতি সাচারের রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে তারা ৫ পার্সেন্টেরও কম সুযোগ পেয়েছে। মুসলমানদের পোশাক, ধর্মপালন, খাদ্য, সন্তানজন্ম, চাকরি ও শিক্ষা এমনকি বাড়িভাবাসহ সর্বক্ষেত্রে ভারতে মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে রোহিঙ্গা জাতির তো রাষ্ট্রহীন করতে সেখানে এনআরসি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ধর্মীয় পুরোহিতরাও পুরোপুরি সমর্থন যোগাচ্ছেন এবং সামাজিকভাবে মুসলমানদেরকে অনেকটা কোনঠাসা করে রাখার চেষ্টা চলছে।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশে কোনো মুসলমি ধর্মীয় ব্যক্তি, ইসলামি দল ও তার নেতৃবৃন্দ অমুসলিমদের কোনো উপাসনলয়কে মসজিদে রূপান্তরের দাবি তুলেনি। তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণের দাবি করেনি, কথায় কথায় যেভাবে ভারতে মুসলমানদেরকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান পাঠানোর কথা বলা হয় সেভাবে অমুসলিমদেরকে ভারত পাঠিয়ে দেওয়ার কথা কখনো ইসলামি দলগুলো উচ্চারণ করেনি। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই সংখ্যাতুলানায় অধিক অগ্রগামী, এসব নিয়ে কোনো ইসলামি দল কখনো ঈর্ষাপরায়ন হয়ে বক্তব্য দেয়নি। বরং ইসলামি দলগুলো অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে সবসময় সোচ্চার থেকেছে। বাঁশখালীতে ১১ হত্যার ঘটনায় সেই হিন্দু পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী (রহ.) এগিয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে দলের আমীর ও হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছিলেন। মন্দির ভাঙচুর তো বহু দূরের কথা, হাটহাজারী মাদরাসা-সংলগ্ন কালি মন্দিরসহ সারা দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উপাসনালয়কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মিবৃন্দ পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

এ অবস্থায় সম্প্রতি চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ‘জাগো হিন্দু’ নামের একটা সংগঠনের কতিপয় উগ্র ও অপরিণামদর্শী কর্মি-সমর্থক ‘জয় শ্রীরাম’, ‘চরমোনাই-হেফাজতের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘একটা-দুইটা চরমোনাই/হেফাজত ধর, ধরে ধরে জবাই কর’, ‘হফোজতরে আস্তানা জ্বালয়িে দাও পুড়য়িে দাও’, ‘চরমোনাইয়র আস্তানা জ্বালয়িে দাও পুড়য়িে দাও’, কওমীদরে আস্তানা জ্বালয়িে দাও পুড়য়িে দাও’ ইত্যাদি নানা সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ‘ধরে ধরে জবাই করতে’ ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে কি এরা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিতে আগুন লাগাতে চায়? দেশে আইন-শৃঙ্খলা আছে, আইনের প্রয়োগ আছে, আইনের শাসন আছে, এরা কোন শক্তিবলে এমন আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী প্রকাশ্য উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে পারে? জুতা মারা ও ধরে জবাইয়ের ডাক দেওয়ার এই দুঃসাহস কিভাবে পায়? এটা কি দেশের সংবিধান, বিচার-ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি এদর বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন নয়?

নিশ্চয় জেনে থাকবেন যে, হিন্দু ধর্ম একটি বেশ বৈচিত্রময় ধর্ম। ভারতীয় উপমহাদেশে একটি কথা প্রচলিত আছে, এ অঞ্চলের প্রতি ১৫ মাইল পরপর মানুষের ভাষা, বর্ণ, লোকাচার, খাদ্যাভ্যাস, রুচি ও আচার-আচরণে পার্থক্য দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় গঙ্গা-যমুনার সংস্কৃতি। এজন্য দেখা যাচ্ছে, হিন্দু ধর্মে কোনো গোটা সম্প্রদায়ের একক কোনো দেবতা নেই। বাঙালি হিন্দুদের প্রধান দেবতা হচ্ছে দূর্গা। কিন্তু ভারতের অন্যান্য হিন্দুদের কাছে দূর্গার কোনো আদর নেই, দূর্গা তাদের আরাধ্য নয়। অঞ্চল ও ভাষাভেদে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা প্রধান দেবতা রয়েছে হিন্দুসমাজে। এটি এমনই বৈচিত্রপূর্ণ ধর্ম। দূর্গা যেমন বাঙালি হিন্দুদের প্রধান বেদতা, শ্রী রাম হচ্ছে উত্তর ভারতীয়দের প্রধান দেবতা। আজকে ভারতীয় আরএসএসের মণোবাদী মনোভাবনায় আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিয়ে বৃহত্তর অখ- মহাভারত গঠনের যে ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে তার অংশ হিসেবে শ্রী রামকে হিন্দু সম্প্রদায়ের একক দেবতায় রূপান্তর, এমনকি সমগ্র ভারতবাসীর একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ‘শ্রী রাম’ স্লোগান এটা কোনো ধর্মীয় মন্ত্র নয়, এটা স্পষ্ট মণুবাদীদের রাজনৈতিক স্লোগান , এ স্লোগান ভারতীয় উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান। এ শ্রী রামের সাথে বাঙালি হিন্দু সমাজের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা বাংলাদেশে এ স্লোগান দিচ্ছে তারা ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী আরএসএস, ভিএইচপি, বজরং দল, বিজেপি ও শিবসেনাদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছে বলে আমাদের সন্দেহ। আমরা এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তৎপরতা এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছ। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

নিবেদক : আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম। সভাপতি : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম মহানগর।

স্মারকলিপিটির পিডিএফ ফাইল দেখতে লিংকে ক্লিক করুন :
https://www.facebook.com/1934148316680638/posts/3518256144936506/

মন্তব্য করুন