লালমনিরহাটে কথিত পাগল কাণ্ড, মুখোশ উন্মোচন

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

মাহমুদুর রহমান: উন্নয়নের সস্তা রঙের প্রলেপ চটে যেতে শুরু করেছে ফ্যাসিবাদ কবলিত বাংলাদেশে। গত এক যুগ ধরে অসহনীয় রাষ্ট্রীয় জুলুমের শিকার সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে তারা যে কতখানি ভয়ানক এবং নৃশংস হয়ে উঠতে পারেন তার নমুনা মিলেছে উত্তরের লালমনিরহাটে। গত বৃহস্পতিবার সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা পিটিয়ে মেরেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার এক সন্দেহভাজন সদস্যকে। জনতা এতটাই উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল যে, তারা শুধু প্রাণে মেরেই ক্ষান্ত হয় নাই, সেই ব্যক্তির মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়েও দিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী সেখানে দুই ব্যক্তি নামাজের পর অস্ত্র উদ্ধারের নাটক শুরু করে। নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে মসজিদের কোন পবিত্রতা রক্ষা না করেই ব্যক্তিদ্বয় ভাংচুর চালাতে থাকে। একসময় তাদের ঔদ্ধত্য সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। তারা পবিত্র কোরান শরীফ মাটিতে ফেলে তার উপর উঠে দাঁড়িয়ে কথিত অস্ত্র খুঁজতে থাকে। এরা মুসলমান নামধারী [আরবি নাম] হলেও ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী কিনা আমার জানা নেই। তবে কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে শুধু কোরান শরীফ কেন, কোন ধর্মগ্রন্থকেই পা দিয়ে মাড়ানো সম্ভব নয়। পুলিশের তরফ থেকে দাবী করা হয়েছে যে, নিহত ব্যক্তি আসলেই আংশিক বিকৃতমস্তিষ্ক ছিলেন। সরকারের প্রতিদিন মিথ্যাচারের ফুলঝুরির মধ্যে কোনটা যে সত্য তা একমাত্র আল্লাহ্‌তালাই জানেন। তবে মসজিদে পবিত্র কোরান শরীফ অবমাননার একটা ঘটনা যে ঘটেছে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। সেই সাথে এটাও সত্য যে, প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ প্রচণ্ড নৃশংস হয়ে উঠেছিলেন।

এই ঘটনার চার ধরনের ব্যাখ্যা হতে পারে। প্রথমত, সম্পূর্ণ ঘটনাটি সরকারের উস্কানি হিসেবে দেখা যেতে পারে। ফ্রান্সে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হজরত মোহাম্মদ [সাঃ] এর অবমাননা নিয়ে যখন সাড়া বিশ্বের মুসলমানদের সাথে বাংলাদেশের মুসলমানরাও প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন, সেরকম একটি স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল সময়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার দুই ব্যক্তির মসজিদে অভিযান চালিয়ে পবিত্র কোরান শরীফের অবমাননা কোন সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে না। উপরন্তু, এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগেই মার্কিন সিনেট গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধে র‍্যাবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য শেখ হাসিনার এমন একটি লোমহর্ষক ঘটনার প্রয়োজন পড়েছিলো যাতে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী মনে করে যে, বাংলাদেশে কথিত ইসলামী চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণে তার বিকল্প নাই। আমাদের স্মরণে রাখতে হবে যে, এই দেশের প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় শেখ হাসিনাই লাভবান হয়েছেন। ২০১৬ সালে গুলশানের এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েই শেখ হাসিনার অবৈধ, বিনা ভোটের সরকার আন্তর্জাতিক মহল থেকে এক প্রকার বৈধতা আদায় করতে সক্ষম হয়। ঐ ঘটনার পর থেকেই ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের সমালোচনা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পায় এবং পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়া ফ্যাসিস্ট শাসক নানা উপলক্ষ্যে ইউরোপ ও আমেরিকায় যাতায়াত আবার শুরু করে দেন। সুতরাং, র‍্যাব কিংবা ডিজিএফআই এর সর্বশেষ সম্ভাব্য উসকানিকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই আমাদের বিবেচনা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মাফিয়া পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী একজন আংশিক বিকৃতমস্তিষ্ক মানুষ লালমনিরহাটের মসজিদে এক প্রকার অপকর্ম করলে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। শেখ হাসিনার জামানায় জনগনের অপরিসীম ঘৃণার পাত্রে পরিণত হওয়া এই আস্থাহীন রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির প্রতিবেদন বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তার কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করছিঃ

১। দুই জন ব্যক্তি মটর সাইকেল চালিয়ে ঐ মসজিদটিতে গিয়েছিলেন। একজন না হয় বিকৃতমস্তিষ্ক, অন্যজন কেন সাথে ছিলেন?

২। মসজিদে গণ্ডগোল শুরু হতেই বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তি নিজেকে গোয়েন্দা সংস্থার [কেউ বলছে র‍্যাব, কেউ বলছে ডিজিএফআই] লোক বলে পরিচয় দিলেন কেন? এটাই কি তার পাগলামি?

৩। প্রথমে বাদানুবাদ এবং পরবর্তীতে গণপিটুনির সময় দ্বিতীয় ব্যক্তি কি করছিলেন?

৪। বাংলাদেশের জনগণ কেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে এই পরিমাণ ঘৃণা করতে শুরু করেছে যে কেউ মিথ্যা করে সেই পরিচয় দিলেও গণপিটুনিতে নির্মমভাবে নিহত হয়? এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাহলে কী পরিমাণ অপকর্ম করেছে?

৫। ঘটনার সংগে সংগেই কেন ডিজিএফআই থেকে লালমনিরহাটের সংবাদ প্রচার না করার জন্য সকল মিডিয়াকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো?

পুলিশের প্রতিবেদন নিয়ে আমার শেষ কথাটি প্রশ্ন নয়, এটি আমার মন্তব্য। পাঠক লক্ষ্য করবেন, পশ্চিমা দেশসমূহের সরকার এবং মিডিয়া তাবৎ শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীকে মানসিক রোগী প্রতিপন্ন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। অথচ, কোন মুসলমান যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া মাত্র বিশ্বের সকল মুসলমানকেই সন্ত্রাসী বানিয়ে দেয়া হয়। তখন অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোন মহল থেকে কোন কথা শুনবেন না। লালমনিরহাটের কথিত পাগল বাংলাদেশ পুলিশের সেই রকম কোন মানসিক রোগী আবিষ্কারের ঘটনা কিনা কে বলতে পারে? দুঃখিত, আবার একটি প্রশ্ন দিয়েই মন্তব্য শেষ করতে হল।

তৃতীয় ব্যাখ্যায় ইসলামোফোবিকরা বলবেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রচণ্ডভাবে যে মৌলবাদী হয়ে উঠেছেন লালমনিরহাটের ঘটনা তারই প্রমাণ। অতএব, এই দেশকে তালিবানকবলিত আফগানিস্তান হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকে দীর্ঘায়িত করে ব্যক্তিজীবনে ইসলাম ধর্ম পালনকারী জনগোষ্ঠীর উপর নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতন আরও কঠোর করতে হবে। আমরা নিশ্চিতভাবেই ধরে নিতে পারি যে, দিল্লীর মুসলমান নিধনের নীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং পরিচালিত পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ ইসলামফোবিকদের উপরোক্ত ব্যাখ্যা সোৎসাহে গ্রহণ করবেন। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পশ্চিমের গভীর ইসলামোফোবিয়ারই প্রতিফলন।

চতুর্থ এবং সর্বশেষ ব্যাখ্যাটি একান্তই আমার। বাংলাদেশে গত বারো বছর ধরে ইন্দো-মার্কিন-যায়নবাদি অক্ষশক্তির প্রত্যক্ষ সমর্থনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। তারও আগের দুই বছর জেনারেল মইনের মুখোশের আড়ালে একই অক্ষশক্তির শাসন চলেছে। এই চোদ্দ বছরে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সকল অধিকার হারিয়েছেন। বিশ্বাসী মুসলমানরা নারকীয় জুলুমের শিকার হয়েছেন। যে উত্তরাঞ্চলে গোয়েন্দা সংস্থার কথিত সদস্যকে গত সপ্তাহে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই এলাকাতেই গত চোদ্দ বছরে অসংখ্য মুসলমানদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে শিশুসহ সপরিবারে বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্রীড়নক নানা কিসিমের বাহিনী। ভিন্নমতের কারণে গুমখুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৪ সালের নির্বাচনী তামাশার পর উত্তরাঞ্চলের যত্রতত্র তরুনদের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থেকেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেক্রমেই বাংলাদেশে যে এইসব ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে সেটি সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের সাম্প্রতিক ফোনালাপ ফাঁসের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। এক যুগ পর মাত্র গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মার্কিন সিনেটরদের ঘুম ভেঙ্গেছে। তারা খুনি বাহিনী র‍্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দ্বিদলীয় [রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট] পত্র পাঠিয়েছেন। এই পশ্চিমারাই অবশ্য ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের গণহত্যায় বাহবাও দিয়েছিলেন। এর মধ্যে হাসিনার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে কত মা তার সন্তান হারিয়েছে, কত স্ত্রী স্বামীহারা হয়েছে, কত শিশু এতিম হয়েছে তার ইয়ত্তা নাই। লালমনিরহাটের নিহত ব্যক্তি কোন গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট কিংবা একজন নিরাপরাধ বিকৃতমস্তিষ্ক মানুষ ছিলেন কিনা আমার জানা নাই। তবে এই ঘটনা দেশবিদেশের সকল মহলকে সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখনও ফ্যাসিবাদ উৎখাতের মাধ্যমে এক যুগব্যাপী জুলুমের সমাপ্তি টেনে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন না করা হলে বাংলাদেশ এমন এক অবধারিত রক্তপাতের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

শেখ হাসিনা তথাকথিত সুশীল সমাজকে পদানত, ভিন্নমতকে রূদ্ধ এবং সকল রাজনৈতিক বিরোধিতা স্তব্ধ করতে পারলেও শত চেষ্টাতেও একটি কাজে কিন্তু, ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হৃদয়ে ইসলাম এবং তার রসুলের [সাঃ] প্রতি যে আবেগ ধারণ করেন তাকে দূরীভূত করতে সক্ষম হয়নি বর্তমান বিশ্বের নৃশংসতম নারী একনায়ক শেখ হাসিনা। শাহবাগিদের দ্বারা হজরত মোহাম্মদ [সাঃ] এর অবমাননায় এদেশের ধর্মভিরু জনগোষ্ঠী ২০১৩ সালে যেভাবে গর্জে উঠেছিলেন, ২০২০ সালে ফ্রান্সের অতীব নিন্দনীয় ঘটনাতেও ঈমানের একইরকম দৃঢ়তা নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। হেফাজতের আলেমদেরকে নির্বিচারে হত্যার দুঃসহ মনোবেদনা অথবা ফ্যাসিস্ট সরকারের দানবীয় আচরণের ভীতি, কোনটাই তাদের নিবৃত কোরতে পারে নাই।

ইসলামের আহ্বান আজও বাঙালি মুসলমানের রক্তে দোলা দেয়। সেই ১৮৬২-৬৩ সালের ফারায়জি আন্দোলনের সময় আজকের বাংলাদেশ থেকেই শত শত যোদ্ধা হাজার মাইল দূরের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ছুটে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক এবং তাদের তৎকালীন দোসর শিখ রাজা রঞ্জিত সিং এর সম্মিলিত বাহিনীর সাথে লড়তে। তাদের অধিকাংশই প্রিয়জনের কাছে আর ফিরতে পারেন নাই। বালাকোটের যুদ্ধের ময়দানে ছোটখাটো গড়নের বাঙালি মুসলমান শহীদদের অসংখ্য মৃতদেহ দেখে বিস্মিত হয়েছিলো ইংরেজ সেনানীরা। আজকের বাংলাদেশও শত্রুকবলিত। তাই ২০২০ সালে দাঁড়িয়েও বাঙালি মুসলমানকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে হয়। শেখ হাসিনা নামের আড়ালে দিল্লীর হিন্দুত্ববাদের নিকৃষ্ট প্রতিনিধি বাংলাদেশকে কব্জা করে নিয়েছে। তাই কোন বিদেশী এজেন্টের কাছে আমাদের রসূলের [সাঃ] সন্মানরক্ষার আবেদন কিংবা দাবী জানিয়ে কোন ফায়দা নাই।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়ের গরিমা পুনরুদ্ধার করতে হলে সর্বাগ্রে বিদেশী এজেন্টকেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা আবশ্যক। বাংলাদেশ জুড়ে আজ বিক্ষোভ চলছে। সরকারের উন্নয়নের বায়বীয় প্রচারণা অধিকারহীন জনগণকে আর ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে পারছে না। এখন প্রয়োজন কেবল এই বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভকে ঐক্যবদ্ধ করে গণঅভ্যুত্থানের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্জলন। দালাল সরকারের ক্রীড়নক কোন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যের প্রতি নির্মম হওয়ার প্রয়োজন নাই। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে ওদের সকল অপরাধেরই বিচার হবে। প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই সমস্ত গণবিরোধী গোয়েন্দা সংস্থারও আর দরকার থাকবে না। আমি এখনও আশাবাদি থাকতে চাই যে, ভবিষ্যতের পুনর্গঠিত সেনাবাহিনী রাষ্ট্র ও ঈমান রক্ষার শপথের প্রতি অনুগত থেকে তাদের ওপর অর্পিত সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব নিখাঁদ দেশপ্রেম ও সর্বত্তম নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। সেনাবাহিনী এবং দেশের জনগণের মধ্যকার সকল বিভেদ দূরীভূত হবে। সেই পরিস্থিতিতে কোন বহিঃশত্রু দ্বারা দেশ আক্রান্ত হলে জনগণও তাদের প্রিয় সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই চরম আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকবে। সতেরো কোটি জনগণের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অধিক বিলম্ব হবে না ইনশাআল্লাহ্‌।

আমার দেশের সৈজন্যে

মন্তব্য করুন