আইপিএল ঘিরে সারাদেশে রমরমা জুয়া

প্রকাশিত: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২০

চলছে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ক্রিকেটের এ জমজমাট লিগকে ঘিরে দেশ ব্যাপি চলছে  রমরমা জুয়ার আসর। কিশোর থেকে বৃদ্ধ গ্রাম থেকে শহর এখন অধিকাংশই আশক্ত আইপিএল জুয়ায়।  এখানে প্রতি সময়ে চলে ম্যাচের ফলাফল বাজি, ওভার বাজি, রান বাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়াবাজির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন হাজার হাজার তরুণ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনাচে কানাচে চলছে আইপিএল এর রমরমা ক্রিকেট জুয়া। আর জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তরুণরা।

বাজিতে হেরে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে অনেকে। টাকা দিতে না পেরে আত্মাহুতির ঘটনাও ঘটছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায়, জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করে পুলিশ। এজন্য সবার আগে পরিবারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ।

খেলা শুরু হলে ঝড় ওঠে দোকানের চায়ের কাপে। কতরকম গল্প-আড্ডাইতো হয়। টিভিতে খেলা দেখাও বিনোদনের বড় অনুসঙ্গ। কিন্তু সেখানে কি নিছক বিনোদনই হয়। নাকি আড়ালে চলে অন্যকিছু?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জুয়াড়ি বলেন, অনেকেই এখানে খেলা দেখতে আসে কেবল জুয়া খেলতে। নানা ধরণের জুয়া চলে। আমার এক ফ্রেন্ড প্রতিদিনই জুয়া খেলে অনেক টাকাও কামিয়েছে। আবার অনেকে টাকা হারায়ও।

এখন চলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল। যে লিগই থাকুক না কেন। খেলা নিয়ে জুয়া ও বাজি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। গ্রামের আনাচে কানাচে কিংবা শহরের অলিগলিতে। টাকা ছাড়া সেখানে কোনো কথাই হয়না।

সম্প্রতি বরিশালের বাকেরগঞ্জে বাজিতে হেরে গিয়ে আত্মহত্যা করে এক যুবক। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জুয়েলারি ব্যবসায়ী বাজির টাকা দিতে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে এলাকা ছেড়েছেন। এমন বহু ঘটনা আছে।

ফেনীর পরশুরামে জুয়া বন্ধে এভাবে মাইকিং করতে দেখা যায়। খেলা চলার সময় বন্ধ রাখা হয় কেবল নেটওয়ার্ক। কিন্তু সমাধান কোথায়?

পুলিশ বলছে, এ ধরণের অপরাধে কোনো প্রমাণ থাকেনা। আর এটা এতো বিস্তৃত যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। পারিবারিক অনুশাসনই শুধু জুয়া বন্ধ করতে পারে।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে তাতে পুলিশের পক্ষে এটি থামিয়ে রাখা মুশকিল। এর জন্য সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য করুন