ম্যাক্রোকে বিপজ্জনক বিষয় নিয়ে খেলতে বারণ করলেন এরদোগান

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২০

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বিপজ্জনক বিষয় নিয়ে খেলছেন। তিনি এখন অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করছেন। তার সরকার মুসলমানদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আপত্তিজনক কার্টুন তৈরি ও তা প্রচারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

তিনি বলেন, ফ্রান্স সরকার মনে হচ্ছে কিছুই দেখছে না, বরং বাক স্বাধীনতার নামে তারা মুসলমানদের পবিত্র মূল্যবোধ নিয়ে টানা হেঁচড়া করছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ইসলামোফোবিয়া সৃষ্টির অপতৎপরতা ও মহানবী (সা.) এর ওপর আক্রমণে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ মুসলিম নেতা এরদোগান। ম্যাক্রোর এই উন্মত্ততার প্রতি ঘৃণা জানিয়েছে তুরস্কের জনগণ এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

এরদোগান এরই মধ্যে ম্যাক্রোর বিপজ্জনক মানসিকতার ব্যাপারে ইউরোপীয় নেতাদেরও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ম্যাক্রোর মনোভাব ইউরোপের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। ইউরোপের বুদ্ধিমান, নৈতিক ও বিবেকবান নেতাদের অবশ্যই ভয়ের দেয়াল ছিন্ন করতে হবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের মতে, ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব থেকে সৃষ্ট সংকট উত্তরণে কথা বলতে হবে। ম্যাক্রোর নেতৃত্বে যে ঘৃণ্য প্রচারণা চলছে- ইউরোপের নেতাদের অবশ্যই অপতৎপরতার তাৎক্ষণিক ইতি টানতে হবে।

ফ্রান্স ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কথার যুদ্ধ তাদের সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সিরিয়ার পর পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লিবিয়া এবং নাগোরনো-কারাবাখ ও সর্বশেষ ইসলাম নিয়ে অবস্থান দুই নেতার মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো জানেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার কিছু আরব মিত্র দেশ ইসলাম ও নবী মোহাম্মাদ (স) এর বিরোধিতার তাৎক্ষণিক জবাব দেবে। এরপরও তিনি উস্কানিমূলক আচরণ করেই যাচ্ছেন। ইসলামফোবিয়া কমানোর পরিবর্তে ম্যাক্রো ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতাকে উসকে দিচ্ছেন। এমনকি ইসলামের ওপর তথাকথিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছেন।

ম্যাক্রোর উদ্দেশ্যমূলক অবস্থান ফ্রান্সে নতুন আইন তৈরি করছে যা মুসলমানদের জীবনযাপনে আরও নিপীড়ন সৃষ্টি করবে। তার সরকার আইন করে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা, ইমামদের প্রশিক্ষণ ও আরবি ভাষার স্কুল বন্ধ করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবের সঙ্গে যায় না; বরং এসব পন্থা ফ্রান্সের মুসলমানদের সমান্তরাল জীবনযাপনের জন্য হুমকি। এর কারণে সংঘাত-সহিংসতা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

ফরাসি মিডিয়াও ম্যাক্রোর ইসলামোফোবিক কর্মসূচিতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং বামপন্থি গ্রুপ মুসলমানদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কেবল সন্ত্রাসী তৎপরতার অপবাদ নয়, মুসলমানদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট বানানো হচ্ছে।

ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদের নামে ম্যাক্রো একটা মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়ে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে। ফ্রান্সে এরদোগানের জনপ্রিয়তা ঠেকাতে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে এবং পুরো ইউরোপকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য তুরস্ক ও এরদোগানের অবস্থানকে দুর্বল করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ম্যাক্রো আগামী ডিসেম্বরে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইউরোপের নেতাদের কান ভারি করে তুলছেন। উত্তর আফ্রিকা, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, সিরিয়া ও ককেশাসে ফ্রান্সের কূটনৈতিক পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে ম্যাক্রো এরদোগানের ওপর ক্ষেপেছে।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন