মসজিদে কুরআন অবমাননা, অপরাধীকে হত্যা করে লাশ জ্বালিয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে মসজিদে ঢুকে অজ্ঞাত দুই যুবক পবিত্র কুরআনে লাথি দেয়া নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় একজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের বুড়িমারী স্থলবন্দর (বাঁশকল) এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে ও পরে তার লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে।

মটরসাইকেলে করে এসে মসজিদে ঢুকে কুরআনে লাথি দেওয়া ওই দুই যুবককে আটক করে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দেয় এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দুজনের একজনের মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয় বলেও জানা গেছে। অপর ব্যক্তি পালিয়ে গেছে বলেও ধারণা করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে বিস্তারিত ঘটনায় জানা যায়, আজ (২৯ অক্টোবর) আছরের নামাজের পর মোটরসাইকেলে এসে বুড়িমারী জামে মসজিদে ঢুকে পড়ে দুই ব্যক্তি কোরআন শরীফ অবমাননা করেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই সেই খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে এ সময় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ব্যক্তিকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে পেটানো শুরু করে স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে বিজিবির চেকপোস্ট (বাঁশকল) এলাকায় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় ওই ব্যক্তির শরীরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তির তাৎক্ষনিকভাবে পরিচয় জানা যায়নি।

আজ (২৯ অক্টোবর) বিকেলের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে।

এছাড়াও এ ঘটনায় রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার সুলতান জোবায়ের আব্বাস(৫১) নামের আহত এক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অপর আহত যুবক শরীফকে(২২) পাঠানো হয়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন সুলতান জোবায়ের আব্বাস নিজেকে দলিল লেখক দাবি করে হাসপাতালে জানান, তিনি তার এক মক্কেলের সাথে দেখা করতে এসে বুড়িমারীতে উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার হন। তার সাথে নিহত ব্যক্তির কোনো পরিচয় নেই।

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অগ্নিসংযোগের সেই ভিডিওটিতে একজনের মৃতদৃহ পোড়ানো হয়েছে বলেও অনেকে দাবি করছেন।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত একজনের বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বলেও খবর দিয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, একটি মসজিদে আছরের নামাজের পর ঐ ব্যক্তি ধর্মের অবমাননা করেছেন, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন