সন্ত্রাসী ইরফান সেলিমের বাসা যেন জঙ্গী আস্তানা : হারাচ্ছেন কাউন্সিলর পদ

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

যেন এক মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিলো ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের মেজ ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বাসায়।

সন্ত্রাসী কায়দায় নৌবাহিনীর একজন লেফটেনেন্টকে প্রকাশ্যে রাস্তায় মারধরেে ঘটনার জের ধরে পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে যেন কেচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসার দশা।

তার বাসায় পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরনের ৩৮ থেকে ৪০টি ওয়াকিটকি, হাই পাওয়ার ভিপিএস সার্ভার ব্যবস্থা। অ্যাডভান্সড লেভেলের ওয়াকিটকি মেশিন। গুলি, হাতকড়া, একটি ড্রোন এবং কন্ট্রোল রুম থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ভেরি হাই সিকিউরিটি সেট (ভিএইচএস)। এটা ওয়াকিটকির একটি আধুনিক সংস্করণ।

এ ছাড়া ওই বাসায় টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। টর্চার সেলে মানুষের হাড়, ছুরি, হকিস্টিক ও দড়ি পাওয়া যায়।’ আরও পাওয়া গেছে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি অস্ত্র, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, মদ ও ইয়াবা।

সাধারণত এ সমস্ত জিনিসপত্র কোনো জঙ্গী আস্তানায় পাওয়া যায়। একজন কাউন্সিলরের বসায় এ ধরণের সেটআপ দেখে সবাই যেন আকাশ থেকে পড়ছেন। তারা এসব দিয়ে করতো কী সে প্রশ্নও তৈরি হয়েছে জনমনে। বিশেষ করে ওয়াকিটকির ব্যবহার কোনো গোপন কাজের জন্যই হওয়ার কথা।

জানা যায় – গত রোববার রাতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানের ওপর হামলার ঘটনায় মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এনে কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও হাজি মো. সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ।

মামলার পর গতকাল সোমবার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) রাজধানীর চকবাজারের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’তে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযান শেষে অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে গতকাল মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ রাজধানীর চকবাজারে হাজি সেলিমের বাসার নিচে সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস এবং মাদক রাখা ও সেবনের দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

অপরদিকে ইরফান সেলিম দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাড়ি তল্লাশির পর র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দেয়ায় ইরফান সেলিম সাময়িক বরখাস্ত হচ্ছেন। সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, “‘কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের দণ্ডিত হওয়ার বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে রিপোর্ট পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।”

তিনি আরো বলেন, “স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, যেকোনো আদালতে কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি বরখাস্ত হবেন।”

এদিকে জেলহাজতে প্রেরণের পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে আছে সন্ত্রাসী ইরফান। কারাগারের সাধারণ সেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন তিনি। ইরফান সেলিমের দেহরক্ষী মো. জাহিদকেও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক বছরের সাজা দেওয়া শেষে তাঁদের কেরানীগঞ্জের কারাগারে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনাকালে যাঁদের কারাগারে আনা হয়, প্রথম ১৪ দিন তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) শঙ্কায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া যাঁদের জ্বর-সর্দি থাকে, তাঁদের আমরা আরো কঠোরভাবে মনিটর করি। যাতে কোনোভাবে বন্দি দ্বারা ভাইরাসটি না ছড়ানোর সুযোগ পায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকে। এ চিন্তা থেকে কারাবন্দিদের নতুন একটি ভবনে রাখা হয়।’

মন্তব্য করুন