সরকার! অবস্থান পরিস্কার করুন : ফ্রান্সবিরোধী মিছিলে চরমোনাই পীর

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক নিজেদের পৃষ্টপোষকতায় ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়া ও প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের বিরুদ্ধে ঢাকায় ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে আজ।

আজ (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে শুরু হওয়া মিছিল পরবর্তি ঘেরাও কর্মসূচির আগে সমাবেশে কর্মসূচির বাস্তবায়ন করা দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন –

‘সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করুন। আপনারা মুসলামনের ধোকা দিয়ে ওপরে-ওপরে সন্তুষ্ট রাখবেন আর ভেতরে ভেতরে মুসলমানদের দিয়ে পাশের দেশের বন্ধুদের মনোরঞ্জন করে খুশি করবেন এটা হতে পারে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন – আমাদের দাবি, সংসদে বিল উত্থাপন করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জ্ঞাপন করেত হবে। তাদের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। বাংলাদেশে ইসলাম ও মহানবীর (স.) বিরুদ্ধে কটূক্তি বন্ধে কঠোর শাস্তির আইন পাস করতে হবে।’

একইসঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিন্দা জানানোর দাবিও জানান তিনি।

[দূতাবাস অভিমুখে বিশাল মিছিল]

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে থেকে দলটির নেতারা এসব দাবি জানান।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নেতাকর্মীরা মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকে।

[পুলিশের বাধায় পণ্ড দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী]

বেলা ১২টার দিকে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে বাইতুল মোকাররমের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধায় শান্তিগর মোড়ে তাদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

[কাটাতারের লম্বা বেরিকেড দিয়ে বাধা দেয় পুলিশ]

তবে দীর্ঘ এই মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয় বলে অনেকে দাবি করেছেন। এসময় তারা ‘প্রয়োজনে জীবন দেবো, হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মান সম্মান নষ্ট হতে দেবো না’ স্লোগান দেন। তারা ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

[ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রোর কুশপুত্তলিকা]

মিছিল পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের আমির মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারকে বলবো এই দেশে শতকরা ৯২ শতাংশ মুসলাম বসবাস করে। প্রধানমন্ত্রী আপনি বিভিন্ন সময় ভোট নেওয়ার কৌশল হিসেবে বলে থাকেন শরিয়া বিরোধী কোনও আইন পাস করবেন না। কিন্তু এত মুসলমান ও আলেমের দেশে প্রধানমন্ত্রী হয়েও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ কেন এই দেশের মুসলমানরা জানেত চায়। আমরা পরিষ্কার করে বলছি, মুসলমানদের হলি খেলার পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’

[ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক সম্বলিত ফেস্টুন। ছবি : প্রেজেন্ট নিউজ]

এছাড়াও দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, দলের সিনিয়র নেতা নুরুল হুদা ফয়েজী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

একই সাথে একই দাবিতে আগামী ২৯ অক্টোবর সারাদেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

মন্তব্য করুন