খুলনার ভাষা সৈনিক সাবেক সাংসদ দাদুভাইয়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বর্ষিয়ান রাজনীতিক এম নূরুল ইসলাম দাদুভাইকে শোক, শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসায় চিরবিদায় জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। শোকাবহ স্তব্ধ বিভাগীয় শহর খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আসরবাদ খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টার দিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন… আমরা তো আল্লাহর এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)।

নামাজে জানাজায় খুলনা মহানগর ও জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, উন্নয়নকর্মী, সমাজসেবক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী অংশ গ্রহন করেন। চির বিদায়ে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জেষ্ঠ্য সন্তান প্রকৌশলী এম আরিফুল ইসলাম রুমি প্রয়াত এম নূরুল ইসলাম দাদুভাইয়ের মাগফেরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে, বক্তৃতা পর্বের শুরুতেই শোক প্রকাশ ও মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, দল-মত নির্বিশেষে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি এম নূরুল ইসলাম দাদুভাইয়ের সাথে সকলেরই গভীর সম্পর্ক ছিল। দাদুভাই নামটিই ছিল সবার অত্যন্ত প্রিয়। কর্মময় জীবনের শুরুতেই তিনি জাহানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রগতিশীল রাজনীতি করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে প্রথম সারিতে থেকেছেন।

২০০১ সালে খুলনা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই সময় আমি রামপাল-মংলা থেকে এমপি ছিলাম। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তিনিও সদস্য ছিলেন। মংলা বন্দরের উন্নয়ন, আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্র বন্দর করা জন্য আন্দোলনসহ আমাদের এই এলাকার সমস্ত উন্নয়নে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কথা বলেছেন। কয়েকটি দেশে আমরা একসাথে গেছি।

তিনি আজকে আমাদের মাঝে নেই। জীবদ্দশায় তিনি খুলনার উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন। নূরুল ইসলাম দাদুভাই একজন ভাষা সৈনিক। বিএনপির চেয়ারপার্সনের তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি খুলনা নগরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, আমরা কেউ একদিন থাকবো না। আমাদেরকে চলে যেতে হবে। অতএব নূরুল ইসলাম দাদুভাইয়ের কথায়-কাজে যদিও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকি, তাহলে সকলেই বিদায়বেলায় আমরা তাকে মাফ করে দিয়ে মহান আল্লাহ্’র কাছে তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করবো। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার সমস্ত ভুল-ত্র“টি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

জানাজায় অংশগ্রহন করেছেন নগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান ও শেখ আবুল হোসেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, বিএনপি নেতা আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আ’লীগ নেতা চৌধুরী রায়হান ফরিদ, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সী মাহাবুবুর রহমান সোহাগ, নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সেক্রেটারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নগর শাখার সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লীবৃন্দ। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা আবু দাউদ।

আই.এ/

মন্তব্য করুন