বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে মেরে হাসপাতালে পাঠাল ছেলে

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

সম্পদ ফিরে পেতে আদালতে মামলা করায় প্রবাসী ছেলের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (৮৪) ও তার স্ত্রী (৬২)।

পিতা-মাতাকে বাঁচাতে গিয়ে হাফেজ ছোট ছেলেও আহত হন। আহত বৃদ্ধ ও তার স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউপির উত্তর সাগর্দি গ্রামের আমিনউল্লাহ মুন্সীবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বুধবার দুপুরে বিচার চেয়ে আহত কর্মকর্তা বৃদ্ধ সোলায়মান বাদী হয়ে তার প্রবাসফেরত ছেলে মনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী লাবনী আক্তার দোলনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সোলায়মান জানান, তিনি ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ বেতারের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ থেকে অবসর নিয়ে সৌদি আরব চলে যান। ২০০৪ সালে রায়পুর শহরের মধুপুর গ্রামের নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শেষে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বাড়িতে অবসর জীবনযাবন করছেন। তার স্ত্রীসহ ৪ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তার অগোচরে ছেলে আবু সিদ্দিক ও প্রবাসফেরত ছেলে মনোয়ার হোসেন তনছক দলিলের মাধ্যমে ১ একর ২৬ শতাংশ জমি গোপনে হেবায়েত করে নেয়। এ ঘটনা দুই ছেলের কাছে জানতে চাইলে তারা অপমান-অপদস্থ করে তাকে।

এ ঘটনার বিচার ও ভুয়া দলিল বাতিলের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই তিনি লক্ষ্মীপুর আদালতে ছেলে মনোয়ারসহ পাঁচ ছেলে-মেয়ের নামে মামলা করেন।

করোনার কারণে চলতি বছরের মার্চ মাসে মনোয়ার সৌদি থেকে দেশে আসেন। এ মামলা করার কারণে আরও দুইবার সোলায়মান ও তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করে ছেলে মনোয়ার ও তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং ওই মামলা তুলে না নেয়ায় মনোয়ার ও তার স্ত্রী লাবনী আক্তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ সময় পিতা-মাতাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদের ছোটছেলে হাফেজ আবদুল কাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে তারা।

আই.এ/

মন্তব্য করুন