নিজ নামে হাফেজিয়া মাদ্রাসার নামকরণ করে সমালোচনার মুখে রাবি উপাচার্য

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসা (হাফেজিয়া মাদ্রাসা) উপাচার্য নিজের নামে নামকরণ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে মাদ্রাসার নাম রাখা হয়েছে ‘সোবহানিয়া আলকুরআনুল কারীম হিফজখানা’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা বলছেন, উপাচার্যের নামের সঙ্গে মিলিয়ে মাদ্রাসার নাম রাখা এক ধরনের অন্যায়। বিষয়টি নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

খোদ মাদ্রাসার নামকরণ কমিটির সদস্যরা বলছেন, উপাচার্যের নামের সঙ্গে মিল রেখেই মাদ্রাসার নামকরণ করা হয়েছে। উপাচার্য নিজেই এতে সম্মতি দিয়েছেন।

নামকরণ কমিটির সদস্যদের ভাষ্য মতে, উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহানের উদ্যোগে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্টিত হয়েছে বলে তার জন্য ‘দোয়াও করতে’ ও ‘স্মরণে রাখতে’ উপাচার্যের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে।

মাদ্রাসার নামকরণ কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আলী হোসেন বলেন, উপাচার্যের আমলে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘সোবহানিয়া আলকুরআনুল কারীম হিফজখানা’ নামকরণ করার প্রস্তাব রাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও আমি পরামর্শ করে উপাচার্যের কাছে এই নামের প্রস্তাব রেখেছিলাম।

‘সোবহান’ শব্দের বাংলা অর্থ পবিত্র। আমরা দোয়াও করবো, স্মরণ করবো যে, তিনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। উপাচার্য নামটি রাখার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবরস্থান জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ করা হয়। চলতি বছরের ৬ মে ওই মসজিদের উদ্বোধন করা হয়।

সম্প্রতি ওই মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ‘সোবহানিয়া আলকুরআনুল কারীম হিফজখানা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকে এ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন