ভোলায় ইসলামী আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর উপর আওয়ামী প্রার্থীর বর্বর হামলা

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন মুরাদ (বায়ে)। মারধরের শিকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ (ডানে)।

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতিকের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদের উপর একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ হোসেন মুরাদের সমর্থক কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এশার নামাজ পড়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তার উপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

  • এ হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভোলা সদর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে বরিশাল নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

[বর্বর হামলার শিকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।]

খবর নিয়ে জানা গেছে – আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে হাতপাখা প্রতীকে দাড়িয়েছেন আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ। অপরদিকে নৌকা প্রতীকে দাড়িয়েছেন ফরহাদ হোসেন মুরাদ। এছাড়াও স্বতন্ত্র পদে আরও একাধিক প্রার্থী রয়েছে এখানে।

এখানে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর সহযোগীদের হাতেই তিনি ন্যাক্কারজনকভাবে মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে কারা হামলায় জড়িত ছিলো তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তারা।

বিষয়টি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলার সেক্রেটারী তরিকুল ইসলাম তরিক পাবলিক ভয়েসকে বলেন – “গত বেশকিছুদিন ধরেই আওয়ামী সমর্থকরা বিশেষ করে মুরাদের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করা স্থানীয় নেতারা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রয়োগসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো। এমনকি তাকে প্রার্থীতা উঠিয়ে নেওয়ার চাঁপও দিচ্ছিলো তারা।”

বিষয়টি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের জেলা নেতৃবৃন্দসহ দুদিন আগে  স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে। তারা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তার উপর রাতের আধারে বর্বোরচিত হামলা করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।

এমনকি হামলার পর তার মোটরসাইকেল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা না করার হুমকি দেয়।

[১৩ অক্টোবর জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা নেতৃবৃন্দ।]

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা গেছে – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জনাব তোফায়েল আহমেদ বুধবার দিবাগত রাতে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ হোসেন মুরাদের সমর্থকরা তার উপর হামলে পড়ে এবং উপর্যুপরি কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে।

এমনকি মারতে মারতে এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ন্যাক্কারজনকভাবে তাকে লাথি দিতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারা তাকে সেখানে ফেলে রেখে যায়। এরপর তাকে প্রথমে লালমোহন হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল নেওয়া লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের একজন জোষ্ঠ্য নেতা।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার দায়িত্বরত অফিসার (ওসি) মুরাদ হোসেন পাবলিক ভয়েসকে বলেন – ‘আমরা ঘটনা জেনেছি এবং আহত ভিকটিমকে দেখেছি। এখনও আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি’।

কারা হামলা করেছে এ বিষয়ে কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘শুনেছি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সহযোগিরা তার উপর হামলা করেছে তবে বিষয়টি তদন্ত করে বা লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্তে নামবো এবং তদন্তের পরই বিষয়টি পরিস্কারভাবে বলা যাবে’।

এদিকে এ ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের ভোলার নেতৃবৃন্দ। এ বিষয়ে তারা আগামী কাল সংবাদ সম্মেলন করাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন। বিষয়টি কঠোর প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ঘোষনা দিতে পারেন তারা বলেও জানা গেছে।

মন্তব্য করুন