আরব জনগণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় এরদোগান, ঘৃণিত আমেরিকা

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

কতার কুয়েতসহ দুয়েকটি আরব দেশ ছাড়া আরব বিশ্বের বিতর্কিত শাসকরা মিশরকে সাথে নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল তুরস্ককে কোণঠাসা করার উপায় খুঁজতে তৎপর হলেও বেশিরভাগ আরব জনগণ মনে করছে যে তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানই তাদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।

তুরস্ক এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ব্যাপারে আরব দেশের সরকার ও জনগণের এই বিপরীত অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে অতি সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া আরব জনমতের ওপর একটি ব্যাপক-ভিত্তিক জরিপের ফলাফলে।

আরব বিশ্বের ১৩টি দেশে পরিচালিত হয় এই জনমত জরিপ।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশই মনে করেন, অন্য যে কোনো দেশের নীতির তুলনায় তুরস্কের মধ্যপ্রাচ্যে নীতি আরব স্বার্থের পক্ষে। ফিলিস্তিন ইস্যু তো বটেই, এমনকি সিরিয়া এবং লিবিয়ায় তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপও সিংহভাগ আরব জনগণ সমর্থন করছে।

লন্ডনে রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কিত গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির বিশ্লেষক সামি হামদি মনে করেন, তুরস্ক রাষ্ট্রের চেয়ে ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যে সাধারণ আরব জনগণের বিরাট একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

  • অপরদিকে সবচেয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতির ব্যাপারে।

তুরস্কের পর চীন ও জার্মানির মধ্যপ্রাচ্য নীতির প্রতি আরবদের মনোভাব সবচেয়ে ইতিবাচক। চীনের নীতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন ৫৫ শতাংশ, আর জার্মানির নীতির পক্ষে ইতিবাচক মতামত দেন ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা।

এশিয়া ও আফ্রিকায় আরব বিশ্বের ১৩টি আরব রাষ্ট্রে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাধারণ আরব জনগণের মনোভাব জানতে এই জরিপটি করেছে দোহা এবং বৈরুত ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ’।

গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির বিশ্লেষক সামি হামদি বলেন, “সন্দেহ নেই তুরস্কের গ্রহণযোগ্যতা, বিশেষ করে সাধারণ প্রান্তিক আরব জনগোষ্ঠীর কাছে, বাড়ছে। এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার পেছনে তুরস্ক রাষ্ট্রের চেয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ভাবমূর্তি প্রধান ভূমিকা রাখছে।“

সামি হামদির মতে, এরদোগানের আগের তুরস্ককে আরবরা দেখতো একটি নিপীড়নকারী রাষ্ট্র হিসাবে – যারা আরব এবং মুসলিমদের স্পর্শকাতরতাকে তোয়াক্কা করতো না।

এটি ঐতিহাসিক সত্য যে একসময় আরবরা যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি আদায়ে এককাট্টা হয়ে কাজ করছিল, তুরস্ক তখন পুরো উল্টোপথে গিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

“কিন্তু আরবরা এখন দেখছে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কের সেই অবস্থান বদলে দিয়েছেন। মিশর, ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), তিউনিসিয়া এবং এমনকি সৌদি শাসকরা যখন আরবদের চিরাচরিত মুসলিম পরিচিতি এবং সত্ত্বাকে খাটো করার চেষ্টা করছেন, এরদোগান তখন মুসলিম পরিচিতি তুলে ধরতে দ্বিধাহীনভাবে সোচ্চার।

এরদোগানের তুরস্কের প্রতি এই মুগ্ধতার সাথে ‘আরব বসন্ত‘ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে। আরব বসন্তের পর মিশর-সহ যেসব দেশে নির্বাচন হয়েছিল, তাতে প্রধানত ইসলামপন্থীরা জয়ী হলেও কিছুদিনের মধ্যে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

“বিশেষ করে মিশরে নির্বাচিত মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে নামানো এবং তা নিয়ে পৃথিবীর অনেক ক্ষমতাধর দেশ যেভাবে চুপ ছিল, অনেক মানুষ তাতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেছে, একটি মুসলিম পুনঃজাগরণ ঠেকাতে চক্রান্ত হয়েছে।“

ফলে, সামি হামদির মতে, তুরস্কের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যখন জোর গলায় ইসলামী সত্ত্বার কথা বলেন, তখন আরব বিশ্বের বহু মানুষ মনে করে যে তিনি আসলে তাদেরই মনের কথা বলছেন।

সূত্র : বিবিসি

মন্তব্য করুন