প্রকাশ্য ফাঁসি দিয়ে ধর্ষণের বিচার করতে হবে : জমিয়ত ঢাকা মহানগরী

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে বর্বরোচিতভাবে নির্যাতনকারী কুলাঙ্গারদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, অন্যথায় সারাদেশে শান্তিপ্রিয় জনতা ও জমিয়ত কর্মীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একাংশের (মুফতী ওয়াক্কাস গ্রুপ) মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (মুফতী ওয়াক্কাস গ্রুপ) ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানী ও পাশবিক নির্যাতন এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ।

জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা বেলায়েত হোসেন আল ফিরোজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান খানের পরিচালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শায়খুল হাদিস মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

আরো বক্তব্য রাখেন জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি জাকির হোসাইন খান ও মাওলানা ইমরান হোসাইন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক এইসব অপরাধের বিচার হলে কেউ এইসব অপরাধে লিপ্ত হতে দুঃসাহস পেত না।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী হ‌ওয়া সত্ত্বেও এই দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে না এটা খুবই হতাশাজনক ও দুঃখজনক।

নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি এই বর্বোরোচিত নির্যাতনের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দেওয়ার জোর দাবি জানাই।

অপরদিকে একই দিনে (সোমবারে) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী অংশের ছাত্র সংগঠন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী।

মিছিলপূর্ব প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূর হোসাইন সবুজের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন।

মাওলানা জয়নুল আবেদীন দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো অপরাধে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধু ধর্ষণের বিচার চাইলে বা কয়েকটা অপরাধীকে শাস্তি দিলে এই বর্বরতা বন্ধ হবে না। নারী নির্যাতনের আইনকে যথা যথভাবে কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের নথি অনুযায়ী২০১৯ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৫৬০০টি। হাতে গোণা কয়েকটি মামলা নিস্পত্তি হলেও বাকী মামলাগুলোর কোন হদিস নেই। এভাবে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিকতার শিক্ষা যুক্ত করে ঢেলে সাজাতে হবে। ব্যভিচার বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। সহশিক্ষা বন্ধ করে সকল স্তরে পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি পৃথক কর্মসংস্থান ও নগর চলাচলে পৃথক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিয়ে ব্যবস্থায় বয়স ও অন্যান্য সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

মাওলানা জয়নুল বলেন, একদিকে আইনের শাসন আর অপর দিকে নারী পুরুষের সহাবস্থান দূর করতে পারলে নারী নির্যাতন, নারী দর্ষণসহ অনেক অপরাধ খতম হয়ে যাবে।

বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি এখলাসুর রহমান রিয়াদ বলেন, দেশে নারী নির্যাতনে ধর্ষণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রায় সকল ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নাম উঠে আসে। সরকারের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ছাত্ররাজনীতির নৈতিক অধিকার হরিয়েছে।

অন্যন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুল আলম, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক কামাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দীন মানিক, রুহুল আমিন, ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব কামাল, অর্থ সম্পাদক মাহদী হাসান, বারিধারা ক্যাম্পাস শাখা সভাপতি মাহমুদ হাসান, ছাত্রনেতা আহমদুল্লাহ আসিম, রাকিবুল ইসলাম, আতাউর রহমান মারুফ, মতিউর রহমান, মিনহাজ খান প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয় নগরে গিয়ে শেষ হয়।

মন্তব্য করুন