শুভ জন্মদিন ম্যাশ

প্রকাশিত: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ৩৭তম জন্মদিন আজ। ৩৬ পেরিয়ে ৩৭ পা দিলেন ম্যাশ। ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর আজকের এই দিনে মায়ের কোল আলো করে নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে অবস্থিত মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দুরন্ত-দস্যিপনার মধ্যে শৈশব কাটানো ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক। কাকতালীয়ভাবে ২০১৪ সালে ঠিক আজকের দিনেই জন্ম নেয় তার একমাত্র ছেলে সাহেল মোর্ত্তজা।

নড়াইলের দুরন্ত সেই কিশোর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ, দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে ভিন্ন ভাবে আবিষ্কার। এখানেই কি শেষ, না। এখন তিনি রাজনীতিতে। করছেন মানুষের সেবা। মাঠের পর এখানেও এক সফল মাশরাফীর প্রতিচ্ছবি।

ছোট বেলা থেকে দুষ্ট দুরন্ত দুর্বার। স্কুলের ধরাবাঁধা পড়ালেখাতেও ছিলেন তুখোড়। তবে, বাঁধাপড়া জীবনে আটকে রাখতে পারতো না কেউই দুরন্ত কিশোরটিকে। তাই চিত্রা নদীতে তীব্র ঢেউয়ের বিপরীতে দু:সাহসিক সাঁতারের পাল্লা মেতে উঠা কৌশিকের দেখা মিলতো প্রায়ই।

বিকেলে ফুটবলে আর সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টনের নেশা ছিলো। কিন্তু, ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রতি প্রেম বেড়েছে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে আগ্রহ বেশি থাকলেও, কিশোর কৌশিকের বোলিংয়ে গতি ছিলো চমৎকার। পাড়া মহল্লায় দারুণ আলোচিত হন। হই উঠে / এতো অল্প বয়সে কৌশিক নামে ছেলেটির বল চোখে দেখা যায় না। তার খেলা উপভোগে নড়াইলের মাঠে মাঠে মানুষের আগ্রহ থাকতো তুঙ্গে। এভাবেই নড়াইল জয় করে ঢাকায় আগমন ঘটে কৌশিকের।

বয়স ভিত্তি ক্রিকেটের বাঁধা টপকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিষেক ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যানভাসে কৌশিক থেকে সবার প্রিয় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা হয়ে উঠা। এরপর কঠিন পথ, সংগ্রাম, ইনজুরির অভিশাপ দল থেকে বাদ পড়া কতো কিছু। যেন সিনেমার গল্পের মতো তার এ জীবন এখন পর্যন্ত। হ্যাঁ, নায়কের মতোই। তবে, ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোই বলি শুনুন।

২০০৯ সালের পর তিনি আর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারেননি। প্রায় ১০ বছর আগে সাদা পোশাকে শেষ টেস্ট খেললেও দেশের পেসারদের মধ্যে তিনিই এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ৩৬ ম্যাচে তার ঝুলিতে রয়েছে ৭৮টি উইকেট। এ ফরম্যাটে তার রান সংখ্যা ৭৯৭। এছাড়া টি-২০ ক্রিকেটে ৫৪ ম্যাচে ৪২ উইকেটের সঙ্গে ৩৭৭ রান করেছেন মাশরাফী। তার অধীনে বাংলাদেশ দল ৮৮টি ওয়ানডে খেলে জিতেছে ৫০টিতে, যা কি না দেশের ইতিহাসে যেকোনো অধিনায়কদের মধ্যে সর্বাধিক।

সাতবার গুরুত্বর অস্ত্রোপচার হয়েছে হাঁটুতে। কিন্তু, অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের কারণেই মাশরাফী ফিরেছেন বার বার। অনেকটা ফিট থাকলেও, ২০১১ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন। বুক ছাপা কষ্ট সহ্য করেছেন। তারপরেও দমিয়ে রাখা যায়নি মাশরাফী থেকে হয়ে উঠা সবার প্রিয় ম্যাশকে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার লাল সবুজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্যে এনে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল ছাড়াও, তার নেতৃত্বেই প্রথম আরাধ্য বহুজাতিক ট্রফি জেতে বাংলাদেশ। ৮৮ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়ে ৫০ ম্যাচে বাংলাদেশকে বিজয়ের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন সবার প্রিয় ম্যাশ।

এ বছরের মার্চে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু, ক্রিকেট এখনো ছাড়েননি। আরও খেলা চালিয়ে যাওয়া ইচ্ছে আছে মাশরাফীর। বর্তমানে নড়াইল -০২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সবার আস্থা ভাজন হয়ে উঠেছেন। প্রায় ২০ বছর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে আজ ৩৭ এ। মাঠের ক্রিকেটের মতো রাজনীতির মাঠেও সফল হবার আগাম বার্তা পাওয়ায় যায় মাশরাফীর রাজনৈতিক দর্শনে। এমন মাশরাফীরা সফল হেই তো সমৃদ্ধ হয় লাল সবুজের বাংলাদেশ।

এনএইচ/

মন্তব্য করুন