ইসলাম সংকটে নেই, ম্যাকরনের তীব্র সমালোচনা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলারদের

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

বিশ্বের সর্বত্র ইসলামের সংকট নিয়ে কথা বলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরনের তীব্র সমালোচনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা’র।

সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. আলি মহিউদ্দিন কারাহ দাগি প্রতিবাদ জানিয়ে এক টুইট বার্তা লিখেন। তাতে তিনি বলেন, ‘ইসলাম কোনো সংকটে নেই। বরং নিজেদের তৈরি করা উস্কানিমূলক কার্টুনের পাপ ইসলাম বহন করে না। ইসলাম আল্লাহর প্রণিত একটি বাস্তবভিত্তিক ধর্ম। সব সমস্যা-সংকটের সমাধান ইসলামে আছে। কারো মনোভাব অনুসরণ করে ইসলাম চলে না। বরং মানবতার নিশ্চিত করে বিবেক ও প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলাম সব কাজ পরিচালনা করে।

গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদ’ প্রতিরোধ ও ফ্রান্সের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মূল্যবোধ রক্ষার পরিকল্পনা উদ্বোধনকালে একথা বলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন। তিনি বলেন, ‘ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা বিশ্বের সব জায়গায় সংকটের মধ্যে আছে। কেবল আমরা আমাদের দেশে দেখছি এমনটি নয়।’

আলি মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ধর্ম নিয়ে আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। আমাদের ধর্ম কোনো সময় কোনো শাসনের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। ইসলাম কোনো মানবধর্ম নয় যে আমরা এর ক্ষয়-ক্ষতির আশংকায় থাকব। অন্যদের ষড়যন্ত্রের পরও ইসলাম টিকে থাকবে। বরং আমরা বলব, ইসলাম আগামীতে টিকে থাকবে। বরং যারা নিজেদের শত্রু তৈরি করে তাদের ওপর আশংকা হচ্ছে। যারা ধর্মীয় যুদ্ধ ও বিবাদ-সংঘাতে লিপ্ত তাদের ওপর ভয় হয়, যাঁরা এখনও মধ্যযুগে আছেন, অথচ আমরা একবিংশ শতাব্দিতে।’

ফরাসি শিক্ষাবিদ রিম সারাহ আলুন এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বললেন যে ইসলাম বিশ্বের সব জায়গায় সংকটে আছে।’ আমি কি বলব বুঝতে পারছি না। তার বক্তব্য এতটাই নির্বোধের মতো যে এর কোনো বিশ্লেষনে প্রয়োজন নেই (একথার জন্য আমি ‍দুঃখিত)। তবে আমি যে বিষয়ে উদ্বিগ্ন তা গোপন করব না। এখানে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের কোনো কথাই উল্লেখ নেই। অথচ আমরাই ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের তত্ত্ব রপ্তানি করে যথাস্থানে ব্যবহার করি।’

জানা যায়, ফ্রান্সের চার্চ ও রাষ্ট্র পৃথক হওয়া বিষয়ক ১৯০৫ সালের আইন সংশোধনে একটি প্রস্তাবনা ঘোষণা করা হয়, যা আগামী ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রীপরিষদের উত্থাপন করা হবে। অতঃপর ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ২০২১ সালের প্রথমার্ধে সংসদে পেশ করা হবে। সরকার আইনটির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ক্ষেত্রে ধর্মের বহিঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ হলেও এর মাধ্যমে নিজের ইচ্ছে মতো যেকোনো ধর্ম অনুসরণ করা যাবে। এছাড়া ইসলামী সংগঠনগুলোর ওপর কঠোর নজরদারীর ব্যবস্থা করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিদেশী ইমামদের আনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ ও বিদেশী অর্থায়নে চলা মসজিদের আর্থিক বিষয়াবলির ওপর পর্যবেক্ষণ বিষয়ক বক্তব্য দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জন্য হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বলেন, ‘বিশ্বের সব জায়গায় ইসলাম সংকটের মধ্যে আছে।’ তাঁর একথার নিন্দা জনান বিশ্বের ইসলাম বিষয়ক স্কলাররা।’ তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি ক্ষেত্রগুলোতে ধর্মের প্রভাবকে দূর করার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় থাকবেন না।’

ম্যাকরন আরও বলেন, ‘ফ্রান্সে ‘উগ্রবাদ সমস্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে আমরা শংকিত। আমরা একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ফ্রান্সের মূল উপাদান।’ তবে এর দ্বারা মুসলিমদের লজ্জিত করা উদ্দেশ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধী নয়। বরং জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতা সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। তাছাড়া ওয়াহিজম, সালাফিজম ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো কিছু বিদেশী সংগঠনের প্রভাব ফ্রান্সে বিদ্যামান। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ তাদের এই ভূমিতে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। এমনকি বৈদেশিক অর্থায়নে রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগও দিয়েছে।’

আই.এ/

মন্তব্য করুন