আলেমদের পদচারণায় মুখরিত বেফাক অফিস : কড়া নিরাপত্তায় হবে আমেলা বৈঠক

প্রকাশিত: ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

সপ্তাহখানেক আগে বেফাকের খাস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ ৩ অক্টোবর (শনিবার) বেফাকের আমেলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারাদেশ থেকে আগত আমেলার সদস্যদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে বেফাক অফিস প্রাঙ্গন।

যাত্রাবাড়ির কাজলাস্থ ভাঙ্গাপ্রেসে বেফাক অফিসের কাছেই একটি কনভেনশন হলে আজকের আমেলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে যে, বেফাকের সভাপতি কাকে নির্ধারণ করা হবে। ১৫৭ সদস্য বিশিষ্ট আমেলা সদস্যরা ইতোমধ্যেই আসতে শুরু করেছেন। উপস্থিত হয়েছেন বেশিরভাগ সদস্যরাই।

বৈঠককে কেন্দ্র করো সার্বিক সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমেলা সদস্যরা ব্যতিত সম্মেলনস্থলে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কার্ড গ্রহণ করে সে মোতাবেক কেবল ঢুকতে দেওয়া হবে আগত আমেলা সদস্যদের।

অপরদিকে বেফাকের পক্ষ থেকে কয়েকস্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাথে প্রশাসনিক নিরাপত্তার লোকজন থাকারও কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে আমেলা সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুসলেউদ্দিন রাজু, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, মুফতি মাসউদুল করিম, অধ্যাপক জোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া সহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত : আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাহি. একই সঙ্গে বেফাকের সভাপতি এবং কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেফাকের সভাপতি আল্লামা আহমদ শফী রাহি. এর ইন্তেকালের পর শুণ্য এ পদটির নেতৃত্ব নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে কওমীর নীতি নির্ধারকদের জন্য।

আজকের মিটিং থেকেই এই শূন্য পদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। সে মোতাবেক বেফাকের প্রধানই হাইয়াতুল উলয়ার চেয়ারম্যান হবেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শাহ আহমদ শফী রহ. মৃত্যুর পর এই তিনটি পদই শূন্য হয়ে গেছে। সারাদেশের কওমী মাদরাসাসমূহের ছাত্র-শিক্ষকদের চাহিদা ঠিক রেখে যা পূর্ণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য : সারাদেশের কওমী মাদরাসাসমূহের জন্য বেফাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বেফাকের অধীন ছয়টি স্তরের সারা দেশের ১৩ হাজার মাদ্রাসা আছে। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। কওমি শিক্ষার সনদের সরকারি স্বীকৃতি থাকায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই সুবাদে সরকারের সঙ্গে কওমি আলে​মদের যোগাযোগও বেড়েছে।

মন্তব্য করুন