ভ্রমণ-গেট টুগেদারে ব্যস্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, সারছেন বিয়েও!

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

জবি প্রতিনিধি: করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চলছে। শীঘ্রই স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে এমন সংবাদ প্রায় নিয়মিতই আসলেও বরাবরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় নিজ বক্তব্যের প্রতি অনড় অবস্থানে আছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মণি।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি আমাদের আছে, কিন্তু এই কাজটি করার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্বের অনেক দেশে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছিলো কিন্তু পরে তারাই আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কররে বাধ্য হয় সংক্রমণের কারণে।

করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে শ্রেণিকক্ষে নুন্যতম দুরত্ব বজায় রাখা এবং যে-ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরী তা করা আমাদের জন্য এখন খুবই দুরূহ ব্যাপার।

শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের কথা স্বরণ করে তিনি বলেন, কয়েক কোটি শিক্ষার্থীর সাথে কয়েক কোটি পরিবারও জড়িত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গণপরিবহন থেকে কোনো শিক্ষার্থী যদি তার পরিবারের সদস্যের মাঝে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় তাহলে উল্টো মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এটা আমরা করতে দিতে পারিনা।

মূলত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পক্ষে মন্ত্রনালয় ও সরকার।

অথচ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেই সচেতনতার বালাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ ফেললেই দেখা যায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বন্ধুমহলের ট্যুর ও জেলাভিত্তিক গেট টুগেদার কিংবা বনভোজনের মতো প্রোগ্রাম। যেখানে কোনো কোনো আয়োজনে একসাথে ৩০-৪০ জনের সমাগমও ঘটতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী আবার করোনার এই বন্ধে বিয়ের কাজটিও সেরে নিচ্ছেন, আয়োজনে অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সহপাঠীরা। এদিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য নুন্যতম নিরাপত্তার ফেস মাস্ক পড়তেও আপত্তি শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এমন বৈশ্বিক দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বেপরোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে অবকাশ যাপনে তাদের আগ্রহের কমতি নেই।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ট্যুরে পছন্দের শীর্ষে সিলেট, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলো।

তবে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। প্রায়ই সন্ধ্যার পর পূর্বের মতোই বিভিন্ন শপিং মল ও রাস্তায় আড্ডায় মেতে থাকেন তারা। অকপটে এসব ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

শিক্ষার্থীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অনিক বড়ুয়া বলেন, যারা এই জাতীয় সংকটকালে নিজেদের বিনোদনের জন্য অনিরাপদ ভাবে যেখানে সেখানে জনসমাগম করছে তারা মূলত নিজেদের প্রতিষ্ঠানকেই ছোট করছে। একই কারণে নিজেও যেমন ঝুঁকিতে আছে তেমনই পরিবারের বয়স্ক সদস্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন। অথচ আমাদের ছুটি দেয়া হয়েছিলো করোনা থেকে দূরে থেকে দেশ ও পরিবারকে সুস্থ রাখার জন্য।

করোনার ছুটিতেই একাধিক ট্যুর সম্পন্ন করা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, বাসায় বসে থেকে ক্লান্ত হয়েগেছি। বন্ধুদের সাথে হঠাৎ ট্যুরের প্ল্যান করলাম। এদিকে রিসোর্টগুলোও করোনার জন্য বেশ ভালো ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।

উল্লেখ্য , বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবার পর মাসখানেক সময় দেশের সর্বস্তরের মানুষ লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও যতই দিন গড়াতে থাকে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির মানার প্রতি আগ্রহ কমতে থাকে। বর্তমানে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল প্রতিষ্ঠানই চলছে নিজ গতিতে। অন্যসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক চলনই বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অসচেতন হবার বড় কারণ বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এনএইচ/

মন্তব্য করুন