আল্লামা মাহমূদুল হাসান : ইসলাহে উম্মতের অন্যতম রাহবার

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০
আল্লামা মাহমূদুল হাসান : ইসলাহে উম্মতের অন্যতম রাহবার

রিদওয়ান হাসান

পাকিস্তান ‘বেফাক’থেকে রেকর্ড করা ছাত্রটি যখন বাংলাদেশে আসেন, তখনও তেমন পরিচিত হয়ে উঠেননি। তাই বলে রত্ন চিনতে ভুল করেননি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ হাকিমুল উম্মত শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. এর খলিফা মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক হারদুয়ী রহ.। আকাবির আসলাফের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমনটাই বলেছেন হারদুয়ী হযরতের খলিফা প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেব। তিনি বলেছেন—“আমরা হারদুয়ী হযরতকে খুঁজে বের করেছি। আর হারদুয়ী হযরত আল্লামা মাহমূদুল হাসানকে খুঁজে বের করেছেন।”

বলছিলাম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবের কথা। তিনি আশরাফ থানভী রহ. এর প্রতিষ্ঠিত ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ’-এর আমীর। বর্তমানে তিনি সারাবিশ্বের শীর্ষ ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ইসলাহে উম্মতের অন্যতম রাহবার, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি, ঢাকার মুহতামিম এবং গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব। তার দীনের বিভিন্ন অঙ্গনে দীর্ঘ দিনের সাধনা অবদান ও ভূমিকার জন্য দেশবাসীর নিকট বরেণ্য ও সমাদৃত। বিশেষ করে ধর্মীয় অঙ্গনের নানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় পর্যায়ের ওলামা-মাশায়েখ ও বুজুর্গানে দীনের নিকট তিনি বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

নতুন প্রজন্মের ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও তলাবাদের মাঝে তিনি সর্বজনমান্য ও প্রিয় ব্যক্তিত্বরূপে বিশেষভাবে বরিত। ‘মুহিউস সুন্নাহ’উপাধি তাদের ভালোবাসার বিনম্র বহিঃপ্রকাশ। হারদুয়ীর হযরতের আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি ও দূরদর্শীতার ফলে তিনি আজ সমকালের নন্দিত পুরোধা। আহলে হক ওলামা হযরতের বৃহত্তর দীনি ঐক্যের প্রতীক। মূলধারার আলেম সমাজ যে চিন্তা ও কর্মসাধনার অভিন্ন উত্তরাধিকার সে হক ও হক্কানিয়তে সমন্বিত অগ্রযাত্রার তিনি উদার ও সর্বজনগ্রাহ্য অগ্রপথিক।

‘মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর এবং মুহিউস সুন্নাহ রহ. এর ইলহামি নির্বাচন’ প্রবন্ধে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী লিখেছেন—“হাকিমুল উম্মত থানবী রহ. ১৩৫৮ হিজরিতে মজলিসে দাওয়াতুল হক নামে একটি সংগঠন কায়েম করেন, যার লক্ষ্য উদ্দেশ্য কর্মসূচির সারনির্যাসই হলো মজলিসে দাওয়াতুল হক। হাকিমুল উম্মত থানভী রহ.-এর ইন্তেকালের পর তার খোলাফাগণের মধ্যে অনেকেই একাজের আঞ্জাম দিয়েছেন। বাংলাদেশে হযরত হাকিমুল উম্মত থানভী রহ.-এর খোলাফাগণ বিশেষ করে হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. মজলিসে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রমে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।

১৯৮১ সনে হযরত হাফেজ্জী রহ. এর আমন্ত্রণে মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ. ও আরেফ বিল্লাহ শাহ হাকিম আখতার সাহেব সর্বপ্রথম বাংলাদেশে তাশরিফ আনেন। এরপর হযরত হাফেজ্জি হুজুর রহ. ইন্তেকালের পর মাওলানা ফজলুর রহমান রহ., প্রফেসর হামিদুর রহমান ও হাজী কোব্বাদ সাহেবের প্রচেষ্টায় হারদুয়ী হযরত দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে তাশরিফ আনেন। এ সফরেই প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেবের বুয়েটের কোয়ার্টারে এক মজলিসে হারদুয়ী হযরত বহু উলামা মাশায়েখের উপস্থিতিতে হাকিমুল উম্মত থানভী রহ. ও দ্বীনি সংস্কারমূলক কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এবং এ কাজের জন্য এদেশে একটি স্বতন্ত্র জামাত গঠনের জোরতাগিদ করেন এবং উপস্থিত উলামাগণ থেকে ওয়াদা নেন।

হযরতওয়ালার পরবর্তী সফরে মজলিসে দাওয়াতুল হকের নামে এ কাজকে আরো গতিশীল করার জন্য ধানমণ্ডি হাজী হাবীব সাহেবের বাসায় বহু উলামায়ে কেরামগণের উপস্থিতিতে থানভী মেজাজের ধারক-বাহক মর্দে মুজাহিদ বহুদর্শী আলেমে দীন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি মাদরাসায় মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেবকে মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীরুল উমারার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।

হযরতের ইলহামি মনোনয়নে হযরত মাওলানা ফজলুর রহমান রহ., ফকীহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান রহ.সহ হযরতের সকল খোলাফা আশান্বিত হয়েছেন। হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবের ন্যায় একজন বিচক্ষণ আলেমে দীনের মাধ্যমে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর রূপ লাভ করবে। বাস্তবেও তাই হয়েছে। তার দক্ষ নেতৃত্বে ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় মজলিসে দাওয়াতুল হকের হালকা গঠিত হয়েছে। হারদুয়ী হযরতের সমস্ত খোলাফারা এখনো এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।” (সূত্র : তাযকিরাহ ২০১৬)

জন্মকাল : আল্লামা মাহমূদুল হাসান ১৩৭০ হিজরি মোতাবেক ১৯৫০ সনের জুলাই মাসের ৫ তারিখে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত চরখরিচা নামক গ্ৰামে ধৰ্মানুরাগী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গালিমুদ্দীন। মাতা ফাতেমা রমজানী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষ শাতীল-আরব তথা কাবুল ইরান থেকে উদ্গত বা সেখানকার কোনো এলাকা থেকে এ দেশে আগমন করেছেন। গাঙ্গুহের প্রসিদ্ধ হাকীম নান্নু মিয়া হযরতের শিরায় হাত রেখে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে একথা বলেছিলেন। বাল্যকাল থেকেই তার দূরদর্শিতা, চঞ্চলতা ও বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যের মন জয় করার বিরলপ্রজ প্রতিভা ছিল বেশ চর্চিত।

শিক্ষাজীবন : ভবিষ্যত তারকা মহান মনীষীর পড়ালেখার ‘বিসমিল্লাহ’ সূচিত হয় নিজ ঘরেই। কুরআনে কারিমের পাঠ গ্ৰহণ করেন চরখরিচা বাজারের ক্বারী আব্দুর রশিদ সাহেব রহ. এর কাছ থেকে। প্রাথমিক বাংলা শিক্ষা গ্রহণ করেন চরখরিচা স্কুলে।

ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় ইবতেদায়ী ও মিযান জামাতে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন। মিযান জামাতের বছর রমজান মাসে তার আব্বাজান ইন্তেকাল করেন। পরবর্তী বছরের রমজান মাসে আম্মাজানও ইন্তেকাল করেন। এরপর মিযান ও নাহবেমীর ময়মসিংহের আশরাফুল উলুম বালিয়া মাদরাসায় পড়েন।

তারপর ১৯৬৭ সনে তখনকার বাংলাদেশের বৃহত্তম জামিয়া কোরআনিয়া লালবাগ মাদরাসায় জালালাইন জামাতে অধ্যায়ন করেন। সে সময় মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন মুজাহিদে আজম শামসুল হক ফরিদপুরী সদর সাহেব হুজুর রহ.। ইলমের প্রতি তার প্রবল তৃষ্ণা ও অদম্য আগ্ৰহ দেখে সদর সাহেব হুজুর রহ. তখন তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন—“তুমি পাকিস্তানে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর কাছে চলে যাও এবং তার সোহবতে থাকো।”

১৯৬৮ সনে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস আল্লামা কাশ্মীরি রহ. এর সুযোগ্য শাগরেদ আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ.-এর প্রতিষ্ঠান নিউটাউন জামিআতুল উলূম আল ইসলামিয়ায় মেশকাত জামাতে পড়েন। অল্পদিনের মধ্যেই এ ভবিষ্যত রত্ন বিন্নুরী রহ. এর সুনজরে পড়ে যান। ১৯৬৯ সনে নিউটাউনেই বিন্নুরী রহ. এর কাছে বুখারি পড়েন। নিউটাউনের সকল ওস্তাদদের মাঝে তিনি অল্পদিনেই পরিচিত ও স্নেহাস্পদ হয়ে ওঠেন। পুরো জামিয়ায় তার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপন করে সে বছরই পাকিস্তানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক-এর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ‘সর্বোচ্চ নম্বর’ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন, যা পাকিস্তানের বেফাক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বর। দাওরায়ে হাদিস শেষ করে তার প্রবল আগ্রহ জাগে কোরআন হিফজ করার। মেধা ও স্মরণশক্তির বলে তিনি এক রমজানের ২৮ দিনেই পুরো কোরআন হিফজও শেষ করে ফেলেন। এরপর ভাই মাওলানা নুরুদ্দীন সাহেবের অসুস্থতার খবর শুনে দেশে ফিরে আসেন।

১৯৭০ সনে উচ্চতর পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আবারও পাকিস্তান গমন করেন এবং নিউটাউনেই উচ্চতর গবেষণাধর্মী পড়াশোনা শেষ করেন। সে সময় বিন্নুরী রহ.-এর খুব নিকটতম সোহবত অৰ্জনের সৌভাগ্য হয়। এমনকি বিন্নুরী রহ. এর তিরমিযী শরীফের ওপর যুগশ্ৰেষ্ঠ শরাহ ‘মাআরেফুস সুনান’ সংকলনে আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবেরও নাম রয়েছে। এবং একাধিকবার বিন্নুরী রহ. এর সফরসঙ্গী হিসেবে মিসর সফর করারও সৌভাগ্য হয়েছে।

পড়াশোনার ব্যাপারে তার আগ্রহ চোখে ধরার মতো। তিনি সে সময় নিউটাউনের কুতুবখানার প্ৰায় সব কিতাবই মুতালায়া করে ফেলেছেন। পড়াশোনায় এত বেশি মগ্ন ছিলেন যে, বিকালে যখন সকলে হাঁটাচলা করত তখনও তিনি মুতালায়াতে মগ্ন থাকতেন। এ কারণে বিন্নুরী রহ. ইউসুফ লুধিয়ানভীকে ডেকে বললেন—“প্রতিদিন বিকালে তুমি নিজ দায়িত্বে মাহমুদকে রুম থেকে বের করে কিছুক্ষণ হাঁটিয়ে আনবে, এভাবে হাঁটাচলা ছেড়ে দিয়ে পড়াশোনা করলে তো সে অসুস্থ হয়ে যাবে!”

এভাবে তিনি বিন্নুরী রহ. এর তত্ত্বাবধানে হাদীস ও ইলমে হাদিসের ওপর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করে তারই নিৰ্দেশে ‘আল ইমাম আবু ইউসুফ : মুহাদ্দিসান ওয়া ফকিহান’ নামে ৩ খণ্ডের জ্ঞানগৰ্ভ কিতাব রচনা করেন, যা এখনো উলূমুল হাদীস শাস্ত্ৰে তার শ্ৰেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য হয়ে আছে।

কর্মময় জীবনের ফিরিস্তি : পাকিস্তান থেকে লেখাপড়া শেষ করে যখন বাংলাদেশে ফিরলেন তখন যশোর রেলস্টেশন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল হাসানাত সাহেব রহ. তার মাদরাসার জন্য একজন শিক্ষক চেয়ে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর নিকট পত্র লেখেন। পত্রের উত্তরে বিন্নুরী রহ. লেখেন—“আমার কাছে একজন শিক্ষক আছে। খুব দক্ষ ও যোগ্য। তবে তিনি বাংলাদেশে চলে গেছেন।” চিঠিতে সব ঠিকানা জেনে মাওলানা আবুল হাসানাত সাহেব রহ. ময়মনসিংহে আসেন এবং আল্লামা মাহমূদুল হাসানকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। এভাবে তার শিক্ষকতার হাতেখড়ি হয় যশোর রেলস্টেশন মাদরাসা থেকে।

যশোর রেলস্টেশন মাদরাসায় থাকাকালে সেখানকার যাদেবপুরে অবস্থানরত আল্লামা কাশ্মিরী রহ. এর এক শাগরেদের সাথে আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জোর আবদার করে বসেন যাদেবপুরে পড়ানোর জন্য। এদিকে রেলস্টেশন মাদরাসা থেকেও বিদায় নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্ত হলো, রেলস্টেশন মাদরাসায় থেকেও যাদেবপুর মাদরাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পড়াবেন। রেলস্টেশন মাদরাসায় থাকাকালে বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি ও শরহে তাহযিবসহ মোট ১২টি কিতাব পাঠদান করতেন।

যশোর থাকাকালে হাফিজুল হাদিস আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি রহ. এর মাধ্যমে যাত্রাবাড়ি মাদরাসা ভিত্তিস্থাপন হয়, সেদিন কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবকে যাত্ৰাবাড়ি নিয়ে আসেন এবং এখানেই তিনি ছয় মাস পাঠদান করেন। যাত্রাবাড়ি মাদরাসার তখনকার পরিস্থিতি পরিতৃপ্তিকর না হওয়ায় ইলমের প্ৰতি অদম্য আগ্রহ নিয়ে তিনি আবারও পাকিস্তানে ফিরে যান এবং সেখানে তিনি ফিকহ ও হাদিসের ওপর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন।

পাকিস্তান বেফাকের মারকাজ জামিয়া ফারুকিয়ার মুহতামিম আল্লামা সালিমুল্লাহ খান রহ. আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর কাছে নিজ মাদরাসার জন্য একজন শিক্ষক চাইলে তিনি ওয়ালী হাসান টুংকী রহ. এবং সিদ্দিকী রহ. এর সাথে পরামর্শ করে তাদের আদরের ছাত্র মাহমূদুল হাসানকে যোগ্য মনে করেন এবং তাকে জামিয়া ফারুকিয়ার মুহাদ্দিস হিসেবে নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে তালীমাতের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি হাদিসের কিতাব মুসলিম ও তহাবি শরীফ পড়ান।

সে সময় নিজামুদ্দিন শামযায়ী—যিনি পরবর্তীতে বিন্নুরী রহ. এর মাদরাসায় শায়খুল হাদিস এবং প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করেছেন—তিনি আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবের জ্ঞানসমৃদ্ধ, তাহকীকপূৰ্ণ তাকরির কলমবন্ধ করেন। পরবর্তীতে তিনি সে তাকরীরের আলোকে মুসলিম শরীফের মুকাদ্দিমা অংশের শরাহ করে “শারেহে মুসলিম” উপাধিতে ভূষিত হন।

পাকিস্তানে আল্লামা মাহমূদুল হাসান জামিয়া ফারুকিয়ায় নিয়মতান্ত্রিক দরস প্ৰদান করতেন। নিউটাউনে থাকাকালে তিনি ‘মুসায়িদ’ বা সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

যাত্ৰাবাড়ি জামিয়ায় নিয়োগ : উপমহাদেশে ব্রিটিশ আগ্রাসনের ফলে মুসলমানদের মাঝে দীনী পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে প্ৰতিষ্ঠিত হয় দারুল উলূম দেওবন্দ। তারই ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং পৃথিবীর দেশে দেশে গড়ে ওঠে তার অনুকরণে হাজারো দ্বীনী প্ৰতিষ্ঠান। জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি, সে ধারাবাহিকতার একটি প্ৰতিষ্ঠান।

আল্লামা মাহমূদুল হাসান তার মেধা মনন, কষ্ট-সাধনা, বুদ্ধিমত্তা-বিচক্ষণতা দিয়ে এ জামিয়াকে সাজিয়েছেন; সমৃদ্ধ করেছেন ফুলে ও ফলে। আজকে যে বাগান ফুলে-ফলে সুসজ্জিত, মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত, এ তো এই মনীষীর ঘামঝরা কৰ্মের ফসল, এ তো এই দরদী মালীর দিন-রাতের পরিচৰ্যার ফল।

ছোট্ট একটি মক্তব থেকে সূচনা হয়ে আজ বর্তমান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দারুল হাদিসের দরসগাহ। হাজারো ইলম পিপাসুদের অবগাহনগাহ। এ বিশাল বড় জামিয়া যুগের পর যুগ সাক্ষ্য হয়ে থাকবে তার অনুপম কর্মপন্থা ও কর্ম দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে।

ঢাকার অন্তর্গত দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় ১৩৮৯ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৯ সনের শুরুর দিকে ৩ শতক জায়গার উপর যাত্রাবাড়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের তত্ত্বাবধানে মাদরাসার কাৰ্যক্ৰম চালু হত।

১৯৭০ সনে হাফিজুল হাদিস আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি রহ. মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে পুরো ঢাকা ঘুরে অবশেষে যাত্রাবাড়ি পুকুরপাড়ের ছোট্ট কামরায় রাতনিমগ্ন ইবাদতে ইলমে ওহীর সুঘ্ৰাণ পান। যদিও স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সব মাদরাসা বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৭৪ সনে সর্বপ্রথম যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসা চালু হয়।

আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার শাইখুল হাদিস ছিলেন। সেখান থেকে ময়মনসিংহের এক মাদরাসায় কিছুদিন অবস্থান করে যাত্রাবাড়ি জামিয়ায় চলে আসেন। এবং মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত ইহতিমামের দায়িত্ব পালন করেন। পরবৰ্তীতে শায়খ তাজাম্মুল আলী রহ. কে এনে মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়।

১৯৭৪ সনে আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব পাকিস্তান থেকে সরাসরি যাত্রাবাড়ি জামিয়ায় চলে আসেন। ১৯৭৫ সন পর্যন্ত আল্লামা মাহমূদুল হাসান অস্থায়ী নাজেমে তালিমাত ছিলেন। এরপর ১৯৭৬ সনে কাজী সাহেব রহ. সহ আরো অনেক শিক্ষকবৃন্দ চলে যান। তখন মাওলানা মহিউদ্দিন খান সাহেব রহ. ও পীর দুধু মিয়া সহ আরো ৫২জন সদস্যের মাধ্যমে গঠিত ছিল জামিয়ার কমিটি। খতিব ওবায়দুল হক সাহেব রহ. ছিলেন সভাপতি। এলাকার চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সাহেব ছিলেন সেক্রেটারি। শায়খ তাজাম্মুল আলী সাহেব ছিলেন মুহতামিম। কাজী সাহেব রহ. চলে যাওয়ার পর শায়খ তাজাম্মুল আলী রহ. জামিয়ায় দুই বছর ছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর, মতান্তরে তিনি থাকতেই আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হন।

১৯৮০ সনে আল্লামা মাহমূদুল হাসান জামিয়ার ইহতিমামের দায়িত্ব পূৰ্ণভাবে গ্ৰহণ করেন। তিনি দায়িত্ব হাতে নেয়ার পর থেকে জামিয়ার চিত্ৰ বদলাতে থাকে। সৰ্বদিক থেকে হতে থাকে জামিয়ার উন্নতি। সমৃদ্ধ হতে থাকে জামিয়ার প্ৰতিটি শাখা। অল্পদিনেই তার সুদক্ষ, নিপুণ পরিচালনায় জামিয়া হয়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম প্ৰতিষ্ঠান। ১৯৮৩ সনে দারুল হাদিসের ছাত্ৰ ছিলো মাত্ৰ ৬জন, সে জামিয়ায় বৰ্তমানে দারুল হাদীসে অধ্যয়ন করছেন প্ৰায় দুই হাজার তালিবুল ইলম, যা বিশ্বে হাদিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম দরসগাহ।

এই জামিয়াকে তিলে তিলে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। জামিয়ার দালানগুলো নিৰ্মাণের সময় নিজ হাতে কাজ করেছেন, সাথে ছিলেন তার প্ৰিয় শাগরেদরা। টাকার অভাবে জামিয়ার বাজার-খর্চা রিকশায় করে নয়, নিজের কাঁধে বোঝাই করে আনতেন।

চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য : সুন্নতে নববীর প্রচার-প্রসারে আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবের সুখ্যাতি তো বিশ্বজোড়া। গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সর্বত্রই তিনি সুন্নতের দাওয়াত নিয়ে চষে বেড়ান। দাওয়াতুল হকের ব্যানারে সারাবিশ্বে নববী সুন্নাত জিন্দার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামের ছোট থেকে ছোট সুন্নতের প্ৰতি তার এত পাবন্দি, যা সত্যি বিস্ময়কর। তাকে বারবার বলতে শুনেছি, আমার একটি দাড়ি কাটার বিনিময়ে যদি সাড়াবিশ্বে ‘খেলাফত’ প্ৰতিষ্ঠা হবে বলা হয়, তারপরও আমি দাড়ি কাটবো না।

ছাত্রদের প্রতি রয়েছে তার অগাধ মহব্বত। ছাত্রদের হকের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত যত্নবান। যত ব্যস্ততাই থাকুক যতদূরেই থাকুক ছাত্ৰদের একটি সবক পড়ানোর জন্য প্রয়োজনে আকাশপথে সফর করে জামিয়ায় উপস্থিত হয়ে সবক পড়ান। জামিয়ার আসাতিযায়ে কেরামদের তিনি অত্যন্ত কদর করেন। তাদের বেতন-ভাতা ছাড়াও তিনি সকল প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহায়তা করেন। প্রতি বছর জামিয়ার আসাতেযায়ে কেরামদের থেকে কমপক্ষে দুইজনকে নিজ খরচে হজে পাঠান। জামিয়ার বহু উস্তাদ এমনও আছেন, যারা ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু আল্লামা মাহমূদুল হাসান তাদের পরিবারকে এখনো মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন।

যাত্রাবাড়ি মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য আবাসিক ভবন রয়েছে, তাতে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে ওস্তাদরা মাদরাসার কাছেই যেন থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি যাত্রাবাড়ির কাজলায় ওস্তাদদের জন্য ৭তলা ভবন নির্মাণ করেন এবং নামমূল্যে তিনি সম্পূর্ণ মালিকানা বুঝিয়ে দিয়েছেন। মাত্র ২০ লাখ টাকায় প্রায় ৯০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কি এই যুগে ভাবা যায়?

আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব আগে এপার্টমেন্ট নির্মাণ করেছেন, তারপর ওস্তাদরা বুকিং দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ওস্তাদরা কিস্তি আকারে (জিরো ইন্টারেস্টে) অনধিক ৫ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মালিকানা বুঝে পেয়েছেন। বাকি টাকার জন্যে নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদও ধরেননি। যখন টাকা হয়, তখন দেওয়ার ভিত্তিতে তিনি শিক্ষকদের জন্য এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উদারতা ও বদান্যতায় আল্লামা মাহমূদুল হাসান যেন এক সাগর। দু’হাতে বিলিয়ে দেন প্রয়োজনগ্রস্তদের। নিজস্ব চ্যারিটি থেকে তিনি বহু বিধবার ভরণপোষণ বহন করেন। জামিয়ার অনেক তালিবে ইলমের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচও তিনি নিজেই বহন করেন। মুআমালার ব্যাপারেও তিনি অত্যন্ত সাফ ও পবিত্ৰ। তিনি জামিয়া থেকে কোনো বেতন গ্ৰহণ করেন না। জামিয়ার যে ছোট কামরাটিতে তিনি থাকেন, তার মাসিক ভাড়া তিনি পরিশোধ করেন। তার কামরায় জামিয়ার কোনো আসবাব থাকে না। জামিয়ার কোনো আসবাব তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন না।

সাহসিকতার ক্ষেত্রে আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব প্রবাদতূল্য। তার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ঘটনা আছে, মরহুম রাষ্ট্ৰপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্ৰপতি থাকাকালে কোনো অযাচিত কারণে জুমার দিন সকলের সামনে রাষ্ট্রপতিকে ধমক দিয়েছিলেন। ছবি তোলার ব্যাপারে আল্লামা মাহমূদুল হাসানের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো সরকারি আলোচনা সভায় পৰ্যন্ত তার ফটো তোলার সাহস কেউ করে না।

তার কর্মব্যস্ততা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য। দিনরাতের প্রতিটি মূহুৰ্ত মুসলিম উম্মাহর ফিকিরে থাকেন। সারা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিশেষ করে আলেম ওলামাদের যখন জঙ্গি বলে মিথ্যা আখ্যা দেয়া হল, তখন আল্লামা মাহমূদুল হাসানের প্ৰচেষ্টাতেই সৰ্বপ্ৰথম বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল সাহেবের মুখ থেকে এ স্বীকারোক্তি নিয়েছেন যে, মুসলমানরা এবং আলেম-ওলামারা কখনো জঙ্গি হতে পারেন না এবং জঙ্গিবাদের সাথে তাদের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীও একথার দ্বিরুক্তি করেছেন।

মেধা-মনন, যোগ্যতা, দক্ষতা, উদারতা, বদান্যতা, সহনশীলতা, আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতির কারণে বাংলাদেশে এক পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার সুখ্যাতি সার্বজনীন। বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দীনি অঙ্গনে তার প্রতি আকর্ষণ ও প্রশংসনীয় অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাশ্চাত্যে প্রভাব ও পরিচিত ছাড়াও উপমহাদেশের দেশগুলোতে দাওয়াতুল হকের সিলসিলায় তিনি বিশেষ শ্রদ্ধাভাজন। আরববিশ্বের বিজ্ঞ সমাজও তার ইলম, দাওয়াত ও ইসলাহি কার্যক্রমের প্রতি দিন দিন ঝুঁকছে। বাংলাদেশে গণমুখী দীনি দাওয়াতের বহুবিধ কর্মতৎপরতার পাশাপাশি তার সুন্নতি অনুশীলন, দরস-তাদরিস ও গবেষণাসমৃদ্ধ বই-পুস্তক আমরা অর্ধশতকাল ধরে পেয়ে আসছি। মসজিদ-মাদরাসা, ওয়াজ-মাহফিলে বা দেশ-বিদেশের সফরে তার জ্ঞানগর্ভ ও আধ্যাত্ম মর্মপূর্ণ বয়ান সমাজকে করছে নির্মল আলোকিত।

পারিবারিক জীবন : পারিবারিকভাবে আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেবের সন্তান সন্তুতি মোট ছয় জন। ছেলে দুইজন, মেয়ে চারজন। সাহেবজাদা দু জনের নাম মাওলানা মাইমূন হাসান ও মাওলানা মাসরুর হাসান।

লেখালেখি ও রচনা : এই মনীষীর লেখালেখির ভূবনেও রয়েছে বিচরণ। অনলবর্ষী বক্তৃতার পাশাপাশি তিনি লেখনীর মাধ্যমে অনন্য সাধারণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তার রচিত আরবি, বাংলা ও উর্দু কিতাবের সংখ্যা শতাধিক। মুসলিম উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী এই মহান মনীষী উম্মাহর প্ৰায় প্রতিটি সমস্যার সমাধানে কলম ধরার চেষ্টা করেছেন এবং যুগোপযোগী পরামর্শদানে বাধিত করেছেন। বিষয়বস্তুর তুলনায় সময় কম হওয়ায় অন্যদেরকেও লেখার নির্দেশ দেন, ‘আহকামে জিন্দেগী’সহ ইত্যাদি যুগান্তকারী কিতাবাদি তাঁরই নির্দেশনায় রচিত। মাসিক সাময়িকী ‘আল জামিয়া’ তারই তত্ত্বাবধানে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতভরা হৃদয় থেকে নিঃসৃত হয়েছে হাজার পঙক্তির প্রেমময় কবিতা, যা আরবি ও উর্দু উভয় ভাষায় রচিত।

হাদিসের সনদ লাভ : আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব যাদের কাছ থেকে হাদিসের সনদ লাভ করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ. এর জানেশীন যুগশ্রেষ্ঠ শায়খুল হাদীস আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. (পাকিস্তান), আল্লামা ইদ্রিস মিরাঠী রহ. (পাকিস্তান), মুফতীয় আজম আল্লামা মুফতি ওয়ালী হাসান রহ. (পাকিস্তান), বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হেদায়েতুল্লাহ সাহেব রহ. (সাবেক মুহতামিম, লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা), আল্লামা শায়েখ ওমর শানকীতী (মদীনা, সৌদি আরব), আল্লামা শায়েখ সালিমুল্লাহ খান রহ. (মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস, জামিয়া ফারুকিয়া, পাকিস্তান), শায়খ জাফর আহমদ উসমানী রহ. (ভারত), শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. (ভারত)।

আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও খেলাফত লাভ : আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব যাদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও খেলাফত লাভ করেছেন, তারা হচ্ছেন- হযরত থানবী রহ. এর জানেশীন মহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ. (ভারত), শায়খ সাইয়েদ ইউসুফ রেফায়ী রহ. (কুয়েত), সৈয়দ মাহমুদ হাশেম রহ. (কুয়েত), শায়খ ইসহাক সিদ্দিকী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা, ভারত), শায়খ দৌলত আলী সাহেব রহ. (মুহতামিম আশাফুল উলূম বালিয়া মাদরাসা, ময়মনসিংহ), শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা আব্দুল মান্নান কাশিয়ানী হুজুর রহ. (গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, গোপালগঞ্জ), শাইখুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী রহ. (মুহতামিম, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম)।

আল্লাহপাক দীনের দূর্গসম এই মহান ব্যক্তির ছায়া আমাদের ওপর আরও বহুদিন প্রসারিত রাখুন! কালের এই প্রোজ্জ্বল পিদিমের জ্যোতির্ময় আলো আমাদের মাঝে দীর্ঘায়িত করুন।

আরও পড়ুন :

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

তিনি ছিলেন মুফতী আমিনী রহ.

সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.: একজন মহাপুরুষ

মন্তব্য করুন